দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানীগঞ্জ’র যে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষার প্রসারে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে তার নাম ইসলাম করিম ফাউন্ডেশন। বৃট্রেন প্রবাসী কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান নুরুল করিম’র স্বপ্নে লালিত এ ফাউন্ডেশন এর অধীনে ২০০৮ সালের মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র শেখ ফরিদ এ বছর লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (বিবিএ) অর্জন করেছেন। কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতী ইউনিয়নের মোহাম্মদ নুরুজাম্মান ও তরিকা খাতুন এর ছেলে শেখ ফরিদ। এছাড়া ২০০৯ সালের মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র সোনাগাজীর চরসাহাভিকারির আহসান উল্লাহ ও শাহনাজ আক্তারের ছেলে মহিউদ্দিন এরশাদ তার উচ্চতর ডিগ্রি (বিবিএ) অর্জন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সেন্টাল লেনকাসায়ার থেকে। ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ ফরিদ ও মহিউদ্দিন এরশাদ তাদের এ অর্জনে বেশ আনন্দিত। তবে এরশাদের আনন্দটা একটু বেশি। কারণ ডিগ্রি গ্রহণের সময় সুদূর প্রবাসেও সে তার মা-বাবাকে পাশে পেয়েছে। এজন্য মহিউদ্দিন এরশাদ নুরুল করিমের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইসলাম করিম ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি ডিগ্রি অর্জনের সময় আমি আমার মা-বাবাকে পাশে পাবো। তবে বিশাল হৃদয়ের অধিকারী নুরুল করিম সাহেব’র সহযোগিতায় সেটাও সম্ভব হয়েছে। গত ১০ জুলাই ইউনিভার্সিটি অব সেন্টাল লেনকাসায়ার গিল্ড হলে এ ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিনের বাবা আহসান উল্লাহ ও শাহনাজ আক্তার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলাম করিম ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা নুরুল করিম ও তার স্ত্রী উম্মে হাবিবা। এদিকে শেখ ফরিদও তার ডিগ্রি অর্জনে ইসলাম করিম ফাউন্ডেশন ও এর প্রতিষ্ঠাতা নুরুল করিমের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নুরুল করিম গত ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজ এলাকা থেকে মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলেন এবং প্রতিবছর নিজ খরচে উপযুক্ত ছেলেমেয়েদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিবছর ২০ জন গরীব-মেধাবী ছাত্রকে ঢাকার গুলশানে রেখে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। তাদেরকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবতীয় কোর্স করিয়ে উপযুক্তদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠান, এর যাবতীয় খরচ বহন করেন তিনি নিজেই। নুরুল করিম'র সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০০ জন ছাত্র-ছাত্রী দেশ/বিদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা অর্জন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে স্পন্সরের জন্য বিদেশে গমন করতে পারছেন না তিনি তাদেরকেও স্পন্সর করে সহযোগিতা দিয়েছেন। বিগত ১৩ বছর ধরে তাঁর এই মানব সেবামূলক কার্যক্রম চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।
নুরুল করিম'র বড় ভাই মরহুম নুরুল ইসলাম’র মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারীতে ২০০৫ সালে তিনি গঠন করেন ইসলাম-করিম ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের অধীনে একটি মাদ্রাসা, এতিমদের জন্য একটি স্কুল ও মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে 'ইসলাম-করিম ফাউন্ডেশন' বৃত্তি পরীক্ষা চালু রয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেক বছর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ২ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। এছাড়া প্রতিবছর ১জন শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। নুরুল করিম এই ফাউন্ডেশনের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। এছাড়া মাওলানা মুজাফফর স্কুল এন্ড মাদ্রাসা, আমিন উল্যাহ কম্পিউটার টেনিং ইনস্টিটিউট, হাজেরা খাতুন ওরফাঞ্জ, ইসলাম-করিম স্পোর্টি ক্লাব, উম্মে হাবিবা লাইব্রেরীসহ আরো অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠাতা সমাজ দরদী নুরুল করিম নিজ গ্রাম, উপজেলা, জেলা এমন কি নিজ জেলার বাহিরের মানুষদেরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

