somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ :

২১ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ । মেঘেদের আনাগোনা চলছে ব্যাপক । যেকোনো সময় বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার সম্ভবনাও প্রবল । জানালাটা বন্ধ করেই আকাশ দেখছি থাই গ্লাস এর ভেতর থেকে আর পরীটার কথা ভাবছি মনে মনে ।
মেঘাচ্ছন্ন আকাশটায় হঠাৎ এক আলোর রেখা দেখা দিল । সাদা আলো । উজ্জল সাদা আলো । আলোর তীব্রতা ক্রমশই বাড়ছে আর ধেয়ে আসছে নিচের দিকে । আলোটা এক সময় জানালার কাছে চলে আসলো । আমার জানালার কাছে । কাচ ভেদ করে ভেতরেও প্রবেশ করে ফেলল । চোখ ধাঁধানো আলোয় চারদিক ভরে গেলো । তীব্র আলোয় কিছুটা আবিষ্ট হয়ে গেলাম । চারদিকে শুধু সাদা আলোই দেখা যাচ্ছে । চারদিক থেকে ঘিরে ধরা আলোটা দেখি এবার আমাকে তুলে নিয়ে যেতে চাইছে । আলোর রূপ ধরে কি তাহলে যমদূতই চলে আসলো ! এত তাড়াতাড়িই তাহলে চলে যেতে হবে ! সুন্দর পৃথিবীটা ছেড়ে একদমই যেতে মন চাইছেনা । প্রচন্ড শক্তি দিয়ে আলো থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইলাম । পারলাম না, আলোর শক্তির কাছে পরাজিত হতে হল । আলোটা শেষ পর্যন্ত আমাকে তুলেই নিয়ে যাচ্ছে । কাচ ভেদ করে যেভাবে প্রবেশ করল আলোটা সেভাবে কাচ ভেদ করে যাবার কোনো চেষ্টাই করলো না । আলোটা দরজা দিয়ে বারান্দায় চলে গেলো এবং বারান্দার গ্রীল ভেদ করেই বের হয়ে গেলো সঙ্গে করে আমাকে নিয়ে ।
মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেলো । পরীটার সাথে বুঝি আর শেষ দেখা করতে পারলাম না এই ভেবে । আলোটা ঠিক যেই গতীতে নিচে নেমে আসেছিল ঠিক সেই গতীতেই আবার উপরে উঠতে লাগলো । মেঘের উপরে এসেই থেমে গেলো আলোটা । আমাকে মেঘের উপরে রেখে হঠাৎ করেই আলোটা মিইয়ে গেলো মেঘেদের সাথে । আর ঠিক তখনই আমি আবিষ্কার করলাম পরীটাকে ।পরীটা ঠিক আমার দিকেই তাকিয়ে আছে আর মিটমিট করে হাসছে । বুঝলাম পরীটাই হয়ত এসব করিয়েছে । কিন্তু পরীটাকে এভাবে এখানে দেখে অবাকই হলাম আমি । পরীটা এখানে আসলোই বা কিভাবে ! কিভাবেই বা এসব করালো ! তবে পরীটাকে কাছে পাওয়ার খুশীতে সকল সংশয় এবং প্রশ্ন মাথা থেকে চলে গেলো । তবে কিছুটা রাগ হলাম পরীটার উপর, কেনই বা এভাবে ভয় দেখিয়ে কিছু না বলে নিয়ে আসলো । আমারতো প্রচন্ড কষ্টই হচ্ছিল আলোটার সাথে আসতে এই ভেবে যে, পরীটাকে বুঝি আর দেখতে পারব না । আমাকে বললেই তো হতো, আমি না হয় “ইকারুসের” মত এক জোড়া ডানা বানিয়ে ফেলতাম । তারপর সেই ডানায় ভর করে উড়তে উড়তে মেঘের উপর পরীটার কাছে চলে আসতাম ।
অবশ্য বেশিক্ষন আর রাগ করে থাকতে পারলাম না । পরীটার মায়ামাখানো মুখটার দিকে তাকিয়ে রাগ গুলো পুরোপুরি চলে গেলো । হঠাৎ হাতটা চেপে ধরল, পরীটাই হাতটা চেপে ধরলো প্রচন্ড শক্ত করে । তারপর ভেসে বেড়াতে থাকলাম দুজন মেঘেদের সাথে, পুরো পৃথিবীটা প্রদক্ষিন করতে থাকলাম মেঘেদের সাথে ভাসতে ভাসতে পরীটাকে নিয়ে । একটা সময় পরীটা থমকে গেলো । হাতটাও ছেড়ে দিলো । হঠাৎ পরীটা হাসতে শুরু করলো । আকাশ কাঁপিয়ে হাসতে লাগলো । একটা সময় মেঘগুলোও হাসতে শুরু করলো পরীটার সাথে । মেঘগুলো হয়ত পরীটার হাসির মানে বুঝে । পরীটাও হয়ত মেঘেদের ভাষা বুঝে । আমিই শুধু হাসতে পারলাম না, কেনো যেনো । শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েই থাকলাম । হঠাৎ সবার হাসি থেমে গেলো । এক গাঢ় অন্ধকার হঠাৎ করে চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো । সবকিছুকে হারিয়ে ফেললাম, পরীটাকে এবং মেঘগুলোকে । গাঢ় অন্ধকারেই ডুবে গেলাম ……………


--- ঘুমটাও আমার তখনই ভেঙ্গে গেলো । স্বপ্নই দেখছিলাম এতক্ষন । বাস্তব কোনো কিছু নয় । স্বপ্নতেই
সম্ভব এমন অবাস্তবিক কিছু যা বাস্তবে সম্ভব নয় ।
এ কোনো শেষ রাতের দেখা স্বপ্ন নয়, গভীর রাতে দেখা কোনো মর্মস্পর্শী স্বপ্নও নয় । এ এক অলস দুপুরে দেখা স্বপ্ন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ১২:০৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×