somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদাসিধে কথা - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১৩ ই নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি কি ভাত খাবে, না চকলেট খাবে? সে অবশ্যই বলবে যে চকলেট খাবে। তার মানে কি আমরা তাকে ব্রেকফাস্টে, লাঞ্চে, ডিনারে চকলেট খেতে দেব? অবশ্যই দেব না। তার শরীরটা গঠন হওয়ার জন্য কিন্তু চকলেট দিয়ে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার দিয়ে হয় না। তাকে ফল খেতে হবে, প্রোটিন খেতে হবে, ভেজিটেবল খেতে হবে, ভিট...
ামিন খেতে হবে। ঠিক একই ব্যাপার, একটা ছোট বাচ্চাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, তুমি কী দেখবে? সে অবশ্যই বলবে কার্টুন দেখবে এবং কার্টুন কোন ভাষায় দেখবে তার কোনো বাছবিচার নেই। ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি যেকোনো ভাষায় দেখতে রাজি আছে। কারণ, সে ছোট বাচ্চা। সে একটা ভাষা যদি নাও জানে, সে চট করে ভাষাটা শিখে যাবে, বুঝতে পারবে।
এখন প্রশ্ন, আমরা বাচ্চাদের সেটা করতে দেব কি না। সে যদি নিজের ভাষাটা না শিখে হিন্দি ভাষা দিয়ে তার জীবনটা শুরু করে, আমি অবশ্যই দুঃখ পাব। আমাদের এত সুন্দর একটা ভাষা, আমাদের লেখাপড়াটা হবে এই ভাষায়, ভাষাটাকে চিনতে হবে, নিজের ভাষাকে প্রকাশ করতে হবে। সেই ভাষা দিয়ে শুরু না করে একটা বিদেশি ভাষা দিয়ে শ
ুরু করছে, সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য অপমানজনক। আমরা যাদের শিশু বলি, তাদের মস্তিষ্ক যেন বিকাশ হয়। মস্তিষ্কে অনেক কিছু সেখান থেকে ঢোকে। ওই সময়টায় আমরা যদি তাদের ঠিকমতো গড়ে না তুলি, তাহলে কিন্তু সারা জীবনের জন্য একটা ক্ষতি হয়ে যায়। হিন্দিতে ডাব করে কার্টুন দেখাচ্ছে, কেন দেখাচ্ছে? আমরা কেন দেখাচ্ছি? কিংবা আমরা উল্টো প্রশ্ন করতে পারি, ছোট বাচ্চারা তো কার্টুন দেখবেই, তাহলে আমরা বাংলায় কেন ডাব করি না?
আমাদের দেশে তিন কোটি ছেলেমেয়ে শুধু স্কুলেই পড়ে। এই তিন কোটি ছেলেমেয়ে বড় হবে, এরা দেশের দায়িত্ব নেবে। এদের ঠিক করে গড়ে তুলতে হবে। দায়িত্বটা আমাদের। কাজেই টেলিভিশনকে বাদ দিয়ে ছোট বাচ্চারা বড় হবে না। আমরা যতই বলি যে বই পড়ো, টেলিভিশন কম দেখো কিন্তু বাচ্চারা টেলিভিশন দেখবে। কাজেই টেলিভিশনে তাদের জন্য সুন্দর অনুষ্ঠান করতে হবে। আমাদের সেটা বিশ্বাস করতে হবে। চ্যানেলে যাঁরা আছেন তাঁদের সবাইকে বাচ্চাদের জন্য নিয়ম করে, হিসাব করে অনুষ্ঠান তৈরি করতে হবে। তাতে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না আমি জানি না, স্পনসর পাবেন কি না সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। কিন্তু এঁদের এটা করতে হবে, কারণ, এটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।

সূত্র: [টেলিভিশন সংলাপ: শিশুদের জন্য বাংলায় বিনোদন চাই]
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৪৫
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×