somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আজ ভেজাব চোখ সমুদ্র জলে

১৩ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লাল নীল বেগুনী সহ নাম না জানা কত রঙের যে ড্রেস কিন্তু পছন্দসই সাদা রঙের কোন ড্রেস নাই। দোকানীকে কারণ জিজ্ঞেস করাতে বলল এই রঙের মাল চলে কম তাই দোকানে রাখি না। তারপরও আমি এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরি। মন বলে যদি পরের দোকানে পেয়ে যাই। ঘুরতে ঘুরতে ঠিকই একটা দোকান পেয়ে যাই। নাম সাদা কালো। খুঁজতে খুঁজতে পছন্দসই একটা ড্রেসও পেয়ে যাই। সাদা জমিনে সাদা সুতোয় হাতের নিখুঁত কাজ।

অখুশী না হলেও রিমী যে খুব একটা খুশী হয়নি তা তার চেহারা দেখেই বুঝতে পারি।
তারপরও জিজ্ঞেস করি 'পছন্দ হয়নি?'
'তুমি এই রঙটা কেন পছন্দ করলে?'
'কেন..সাদা রঙ কি দোষ করল?'
'সাদা রঙে কেমন যেন বিধবা বিধবা লাগে।'
' আজীব! এখনো বিয়েই হয়নি আবার বিধবা লাগা..'
জবাবে রিমী কিছু বলে না। শুধু চেহারায় ফুটে উঠে একরাশ বিষণ্ণতা। মনের আকাশেও মনে হয় মেঘের ঘনঘটা। যেকোন সময় বৃষ্টি হয়ে অঝোরে ঝড়তে পারে দুচোখ বেয়ে।
' তুমি কি জান...আমাদের গাড়ির রঙ ছিল সাদা। বাবার অনেক শখ করে কেনা। এ্যাকসিডেন্টের দুদিন পর যখন বাবার লাশ ভেসে উঠে তার পরনের পায়জামা পাঞ্জাবী তখনও ধবধবে সাদা । কবরে শুইয়ে দেয়ার আগে যে পোশাক পরানো হল তাও ছিল সাদা ।'
রিমীর অপছন্দের কারণ বুঝতে পারি। আর অবাক হই এ যুগের মেয়ে হয়েও রিমীর এই মানসিকতা দেখে। কিন্তু রিমীকে তা বুঝতে দেই না।
' আচ্ছা এটা পাল্টিয়ে নিয়ে আসা যায় না?'
' যায়, তবে সেটা হবে কালো। ঐ দোকানে সাদা কালো ছাড়া অন্যকোন রঙের পোশাক নাই।'
রিমী বেশ হতাশই হয়। আর নিজের উপর আমার হয় প্রচন্ড রাগ। ভালোবাসার মানুষের পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে এত কম ধারণা আমার। হায়রে বেকুব প্রেমিক!
রিমী মনে হয় আমার মনের অবস্হা বুঝতে পারে। হঠাৎ করে তার চেহারা থেকে কালো মেঘ সরে গিয়ে রোদের ঝিলিক দেখা যায়। আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে
'পাল্টানোর দরকার নাই। এটাই থাক'



নানা ঘটনা আর দূর্ঘটনার মধ্যদিয়ে হুট করে বিয়ে করে ফেলি। বলা যায় বিয়ে করতে বাধ্য হই। বাধার দেয়াল ভাঙ্গা অথবা টপকানো কোনটাই আমার পক্ষে সম্ভবপর হয়নি। রিমীর কাছে হই অপরাধী । মনে মনে হাজার বার, লক্ষ বার ক্ষমা চাই। সরাসরি তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয় না। কারণ সামানাসামনি দাড়াবার মতো শক্তি এবং সাহস কোনটাই আমার নাই। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে রিমী এসে হাজির হয় আমার সামনে, বউ ভাত অনুষ্টানে। আরো অবাক হই তার পরনে আমার দেয়া সেই সাদা পোশাক দেখে। রিমী খুব স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করে
'কেমন আছ?'
আমি কাঁপা কাঁপা গলায় জবাব দেই
' ভাল। তুমি?'
'এইতো বেশ আছি।' এই বলে রিমী ভেতরের রুমে চলে যায় যেখানে অন্য মেয়েরা বউ কে নিয়ে বসে আছে।
আমার উপর কি তাহলে রিমীর কোন রাগ নেই? আমি খুশী হতে পারি না। বরং কষ্ট হয় অদ্ভুদ সুন্দর এই মেয়েটির জন্য যে তার ভালবাসা অপাত্রে দান করেছিল। ছটফট করতে থাকি তার সাথে কথা বলার জন্য। লোকজনের ভীড়ে সেই সুযোগ আর হয় না।


পরদিন খুব ভোরবেলা আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘরের ভেতর দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি ছাদে যাই। বাড়ীর সবাই মনে হয় ঘুমে। কোন সাড়া শব্দ নাই। একা একা ছাদে বসে থাকি। সূর্য উঠা দেখি। সেই কবে এভাবে ভোরের সূর্য উঠা দেখেছি, অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না। ছাদ থেকে যখন নেমে আসি দেখতে পাই মা গেটের পাশে দাড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলছেন। গেটের ঐ পাশে যে দাড়ানো তাকে দেখা যাচ্ছে না। আমি এগিয়ে গেলে শুনতে পাই মা বলছেন 'রোমেল কে কিন্তু এখন কিছুই জানানো যাবে না।'
আরেকটু এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কি জানানো যাবে না?
পেছন ফিরে আমাকে দেখে মা ভুত দেখার মতো চমকে উঠেন। আর আমি চমকে উঠি গেটের পাশে রাজীবকে দেখে।
'তোকে আমরা জানাতে চাইনি এই সময়ে' এই বলে রাজীব তাকায় মা'র দিকে। মা তাকান আমার দিকে ভীতভাবে।
'রিমী মারা গেছে কাল রাতে।.......'। রাজীব আরো কি কি বলে যায়। কিন্তু আমি ওর কথা কিছুই শুনতে পাই না। আমি শুধু শুনতে পাই মেঘের গগণ বিদারী গর্জন আর বুঝতে পারি আমার পুরো পৃথিবী ঘিরে আসছে আধার কালোয়।


সন্ধারও শেষ আলো যখন হইবে কালো
তখন সাগরও পক্কী উড়ে যাবে স্হলে
ও সমুদ্র কাছে আস আমাকে ভালবাসো
আদরে লোকায়ে রাখ তোমার ঐ অঞ্চলে
আমি আজ ভেজাব চোখ সমুদ্র জলে..।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×