somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকাশরেখার ওপারে

০২ রা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীতকাল, এক উপশহরের এক প্রান্তে আমাদের বাসা। তখনকার শহর আজকের মতো এত ব্যস্ত, এত উঁচু উঁচু কংক্রিটের দেয়ালে ঢাকা ছিল না। শহরটা যেন ধীরে ধীরে গ্রামের দিকে গিয়ে মিশে যেত।

সেই শীতের এক সকাল। বড় টেবিলের সামনে আমি বসে আছি, বইগুলো খোলা। মা কড়া গলায় বলেছিলেন, “পরীক্ষা সামনে, মন দিয়ে পড়।” টেবিলের উপর রোদ এসে পড়েছে, পাতার উপর সোনালি আলো। কিন্তু আমার মন বইয়ের অক্ষরে আটকে নেই।

সিঁড়ির ধারে দাঁড়িয়ে আছে আমার ছোট ভাই আর পাড়ার একটু বড় এক ছেলে। দু’জনের গায়ে চেক ডিজাইনের শীতের কাপড়, নরম রোদে তাদের জামার রং যেন আরও উজ্জ্বল। তারা বাইরে যাবে, দৌড়াবে, খেলবে, হয়তো রাস্তা পেরিয়ে মাঠের দিকে চলে যাবে। তাদের হাসির শব্দ আমার বুকের ভেতর টান ধরাচ্ছিল।

আমার ভেতরে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। মনে হচ্ছিল, বই ছুঁড়ে ফেলে আমিও ছুটে যাই। নরম শীতের রোদে দৌড়াতে দৌড়াতে রাস্তা পার হয়ে, ফসলের মাঠের ভেতর দিয়ে, হালকা কুয়াশা ভেদ করে। সেই কুয়াশা যেন সূর্যের আলোয় আস্তে আস্তে ছিঁড়ে যাচ্ছিল। দূরে যেখানে শহর শেষ, সেখান থেকেই শুরু হতো গ্রাম। টিনের চালের ঘর, উঠানে মুরগি, খেতে নুয়ে থাকা কৃষক, চুলা থেকে ধোঁয়া উঠছে।

তখন আমার বয়স হবে দশ। জীবন জটিল ছিল না। বুকভরা শক্তি, অকারণ আনন্দ, আর সীমাহীন কৌতূহল। শহরের কংক্রিটের জঞ্জাল তখনও পুরোপুরি গ্রামকে ছুঁতে পারেনি। মনে হতো, আসল জীবনটা ওখানেই, খোলা আকাশের নিচে।

আরও একটু বড় হওয়ার পর, আমি প্রায়ই হাঁটতে বের হতাম। হাঁটতাম আর হাঁটতাম। শহরের সীমানা পেরিয়ে গ্রামের পথে ঢুকে যেতাম। মনে হতো, যত দূরে যাব, তত বেশি কিছু আবিষ্কার করব। ফসলের মাঠের পেরিয়ে দূরের দিগন্তরেখায় যে সবুজ গ্রামের সারি দেখা যায়, তার পেছনে কী আছে। ওই রঙিন আকাশরেখা, যেখানে আকাশ আর মাটি মিশে গেছে, সেখানে কি অন্য কোনো জগৎ লুকিয়ে আছে।

আমি জানতে চাইতাম নিজের চোখে।

বারবার আমি সেই দূরের দিগন্তরেখার দিকে হেঁটেছি। মনে হতো, ওখানে হয়তো লুকিয়ে আছে শৈশবের মতো কোনো স্বচ্ছ জিনিস, নির্দোষ, মুক্ত, রঙিন। এমন কিছু, যা শহরের বড় হয়ে ওঠা মানুষদের চোখে আর ধরা পড়ে না।

আজও শীতের নরম রোদে দাঁড়ালে, সেই সিঁড়ির ধারে দাঁড়ানো দু’টি ছেলের ছবি ভেসে ওঠে। বইয়ের উপর পড়ে থাকা সোনালি আলো, আর আমার বুকের ভেতর ছুটে চলা এক ছোট্ট ছেলের আকুলতা, দৌড়ে চলে যাওয়ার, দূরে, আরও দূরে। যেখানে জীবন সহজ, আর আকাশটা একটু বেশি নীল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×