আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের কথা। প্রভাস ক্ষেত্রের (এই জায়গা গুজরাটের কাছেই ) এক তরুন রসায়নবিদের গল্প। মেধাবী এই তরুন রসায়নবিদের চাকরি-বাকরি নাই। ওষুধ বানিয়ে তাই বিক্রি করে খায়। শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের কাছে পাঠ শিখেছে সে। নিজের যোগ্যতায় মেধা আর জ্ঞ্যানে ছাড়িয়ে গিয়েছে তাদের সবাইকে। রসায়নের খুটিনাটি সব কিছু তার জানা। অথচ তাকেই কিনা থাকতে হয় বেকার।
একদিন ভাদ্রের তপ্ত দুপুরে ওষুধ বিক্রী করতে করতে ক্লান
্ত হয়ে গাছতলায় বসে পড়ে। ছোট্ট এক পাখিরা নেমে আসে গাছ থেকে । কেউ একটু দূরে দাঁড়িয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখে তাকে। সাহসী পাখি তার কাধে উথে বসে। মন ভালো হয়ে যুবকের । ঝোলা থেকে রুটি বের করে। আজ খেতে ইচ্ছা করছে না । টুকরো করে ছিটিয়ে দেয় সামনে । খুটিয়ে খুটিয়ে খায় পাখিরা। আরো পাখিরা উড়ে আসে। বেশী পাখির জন্য ছোট ছোট টুকরো করে । দলে দলে আরো পাখিরা উড়ে আসতে থাকে। ছোট ছোট টুকরো করতে করতে এক সময় থেমে যায় সে। দেখে একসময় আর রুটির টুকরোটিকে ছোট করা যায় না।
ভাবতে থাকে সে। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর উপসংহারে আসে, সকল বস্তুই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ নিয়ে তৈরী। এরা পরমানু। এদেরকে দেখা যায় না। এদেরকে ভাঙ্গাও যায় না। এরা যে মূহূর্তে অস্ত্বিত্ব যে মুহুর্তে সৃষ্ট হয় সেই মুহূর্তেই লোপ পায়। এমন দুইটি বা তিনটি করে পরমানূ যুক্ত হয়ে সৃষ্টি করে অনু। এরা সবসময় অস্ত্বিত্বশীল। অসংখ্য অনু বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে বস্তু সৃষ্টি করে। এর বিন্যাসই পদার্থের রাসায়নিক ধর্ম প্রকাশ করে । শক্তি প্রয়োগে এই অনুর রূপ বদলায়। আঘাত করলে বিচ্যুত হয়। আবার উত্তপ্ত করলে পুনঃবিন্যস্ত হয়।
এই তরুন পরবর্তিতে সেই সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত দার্শনিকদের একজন হন। ভারতীয় ষড়দর্শনের অন্যতম বৈষয়িক দর্শনের প্রবক্তা তিনি।
পদার্থের গঠনকারী কণার ধারণা দিয়ে তিনি ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে আছেন কণাদ নামে। বাংলায় কণাদ নামের অর্থ দাঁড়ায় কণা-ভূক। সময়ের পরিক্রমায় তার আসল নাম হারিয়ে গেছে। কণাতত্ত্বের প্রবক্তা হিসেবে কণাভূক কণাদ হিসেবেই বিখ্যাত হয়ে গেছেন তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


