একটা জিনিস অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি, নাফিস ইস্যুতে যেখানে খোদ আমেরিকান মিডিয়া বলছে, "এভাবে ফাদ পেতে সন্ত্রাসবাদীতে উদ্বুদ্ধ করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার মোটেও ঠিক কাজ হয় নি, বরং এটা প্রতারনার শামিল এবং এতে সন্ত্রাসবাধ মটেও কমবে না"।।
কিন্তু সেখানে আমাদের দেশের মিডিয়াই নাফিসকে সন্ত্রাস প্রমানের জন্য উঠে পরে লেগেছে। একেক পর এক রিপোর্ট করে যাচ্ছে, কেন নাফিস সন্ত্রাসী হলো। যেন আপ্রান প্রচেষ্টা না...
ফিসকে সন্ত্রাস হিসেবে আমাদের সামনে পরিচয় করে দেওয়ার। এতে কি লাভ মিডিয়ার?? বুঝতে পারছেন কিছু??
একটা ছেলে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা গিয়েছে এখনো এক বছর হয় নি, এরই মধ্যে ডাউন টাউন ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার মতো সাহস আদৌ হয় কিনা ভেবে দেখা দরকার।
একটা জিনিস অবাক লাগছে, নাফিস গ্রেপ্তার হবার সাথে সাথে সরকারের কয়েকজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী "জামাতের সাথে সম্পর্ক ছিল কিনা, সে দেশে এর আগে সন্ত্রাস করেছে কিনা , সন্ত্রাসের দায়ভার সরকার নিবে না" এমন অনেক মন্তব্য করে বসেছেন, কিন্তু এখনো এটা প্রমানিত সত্য নয় যে, নাফিস ষড়যন্ত্রের শিকার নাকি অপরাধি?? অবাক লাগছিল কয়েকজন মন্ত্রী ও এক পক্ষের লোক যেন নাফিস গ্রেপ্তার হবার পরে বেশ উতফুল্ল ও খুশি ই হয়েছে।
গোপালগঞ্জের ছেলে নাফিসকে অবশেষে সরকারী সব আইনি সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংবাদটা বেশ ভালো লেগেচ্ছে।
আপনাকে কেউ যদি মোটিভেট করে সন্ত্রাস কাজে। তারপর সব অস্ত্র বিনা বাধায় আপনি পেয়ে গেলেন হাতের গাছে। অপারেশন স্থলেও নিয়ে যাওয়া হলো সব রকম সাপোর্ট দিয়ে, তবে আপনিও এমন কাজ করে বসতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, এফবিআই নাফিসের ব্রেন ওয়াশ করেই এমন নাটক সাজিয়েছে আর এমন নাটক এর আগেও সাজানোর রেকর্ড আছে আমেরিকার। আর সেগুলো সুদূরপ্রসারী কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই। আর এখানে গিনিগিপ হিসেবে ব্যাবহিত হলো আমাদের নাফিস। সামনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন , একে প্রভাবিত করার বড় ধরণের টনিক হিসেবে কাজ করবে এই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নাটক। না হলে এফবিআই তাদের এজেন্ট দিয়েই যেহেতু নাফিসকে মোটিভেট করেছে, সহায়তা করেছে তাই ঘটনাটা নির্বাচনের পরেও করতে পারতো। যুগে যুগে আমেরিকা এমন বলির পাঁঠা অনেক কে বানিয়েছে , এ কোন নতুন কিছু নয়। কিন্তু বেশি কষ্ট লাগছে ,আমাদের নিজেদের মিডিয়া ও এক শ্রেণীর দালাল সব বুঝেও শুধু টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া দেখে।
বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউনুস ইস্যু থেকে শুরু করে অনেক ইসুতেই আমেরিকার সাথে সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ যাচ্ছে, তাই নাফিসকে বাঁচাতে পারবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। তাই মনে হয়, "আফিয়া সিদ্দিকির" মতো আরেকটা উপাখান্যের জন্য প্রস্তুত হতে হবে আমাদের।
মনে রাখবেন , বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও আধিপাত্য বিস্তারের এক বড় অংশ। একে যত তাড়াতাড়ি যে কব্জা করতে পারবে, সেই দক্ষিন এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
আর আমাদের মিডিয়া কোন এক অদৃশ্য শক্তির আঙ্গুলের হেলনে সেটাতে সহায়তা করছে মাত্র। ভুলে গেলে চলবে না, আমেরিকা ইসরায়েল এমন অনেক মিডিয়া তৈরি করে, লালন পালন করে শুধু নিজেদের স্বার্থেই।।
মূল লেখা এখানে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


