somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি ঢাকাইয়া ফার্মের মুরগি বলছি..............................।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি 'স্কুল-কোচিং-বাসা' বাঁধাধরা রুটের রেগুলার যাত্রী, আমি অল্প সর্দিতেই কাতর হয়ে পড়ি, আমার জ্বর হলে মা-বাবার কপালে ভাঁজ পড়ে, টেবিলে জমে অ্যান্টিবায়োটিক আর পথ্যের পাহাড়, আমি সেই লোক যে বছরে একদিন ঘুড়ি উড়াতে পেরে ভাবি আমি কি হনু রে...

তবে আমার শৈশব একেবারে খারাপ কেটেছে বলবো না। সেখানে মাঠের সবুজ ঘাস ছিল, কাল মেঘের ভাঁজে আচমকা বাজ পড়ার আওয়াজ ছিল, মাঠে ক্রিকেট বা ফুটব
ল খেলে সন্ধ্যার আঁধারে পা টিপে টিপে বাবা-মা'র চোখ এড়িয়ে ঘরে ফেরা ছিল, নির্জন দুপুরে সাইকেলে থেকে পড়ে গিয়ে ছিলে যাওয়া হাত ধোয়ার টলমলে পুকুরের জল ছিল। আকাশ ছিল,বৃষ্টি ছিল, ছিল ফড়িং-প্রজাপতিদের পিছনে দৌড়ে বেড়ানো। মন্দ কী?

এখানে অবশ্য আমার শৈশব নিয়ে রচনা লিখতে আসি নি। আজকের শিশুরা, বা আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কিছু কথা বলব। আজকালকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি ঘরকুনো হয়ে গেছে। তারা ফুটবল খেলে হাতের আঙ্গুল খুইয়ে ফেলে। ওদের-ই বা দোষ দিয়ে লাভ কি? পুরো বিশ্ব যখন হাতের মুঠোয়, তখন কে-ই বা আর পায়ের ব্যবহার করে?

সকালে ঘুম ঘুম চোখে কাঁধে ১০ কেজি বস্তা নিয়ে স্কুলে যাওয়া-সেখান থেকে স্যারের বাসা-বাসায় ফিরে হোমওয়ার্ক আর 'ভাইয়া'র জ্বালাতন... সময় কোথায়? সময় বাদ দেই। খেলবেটা কোথায়? সবুজ ঘাস তো এখন ফিফা ছাড়া দেখাই যায় না ঢাকা শহরে। ওরা মুক্তভাবে শ্বাস নিতেও ভুলে গেছে। এসির 'শুদ্ধ বায়ু'ই ওদের বুক ভরে শ্বাস নিতে শেখায়।

আর সব কিছু বাদ দিয়ে এখানে টিভি প্রোগ্রাম নিয়ে কিছু কথা বলি।

ক্যাবল লাইন আছে,অথচ স্টার প্লাস-স্টার জলসা-জী বাংলা দেখেন না, এমন পরিবার হাতে গোনা। এসব গাঁজাখুরী দেখে পোলামাইয়া 'গুটি করা' ছাড়া আর কিছু শেখে বলে মনে হয় না। সারাক্ষণ সাংসারিক প্যাঁচঘোঁচ দেখে দেখে ওদের নির্মল মনটাও হয়ে যায় জিলিপীর মত। কাউকে সহজে বিশ্বাস করতে পারে না।

এবার আসি দেশী প্রোগ্রামে। সিসিমপুর এর পরেই ডিরেক্ট প্রেমনগর স্টেশনে ট্রেন থামে। মাঝখানের কিশোর কিশোরীদের জন্যে খুব কম প্রোগ্রাম-ই আছে। তাই লাল পরী-ফুল পরীদের কল্পনার জগৎ ফুরোতে না ফুরোতেই ওরা জানে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড না থাকলে আজকের দুনিয়ায় স্মার্ট হওয়া যায় না। ঈদের প্রোগ্রামেও দেখা যায় তাই ফালতু প্রেমের কাহিনী নিয়ে লোকজনের এত মাতামাতি। ফলাফল দেশ গড়া চুলোয় তুলে পোলারা মেট্রোসেক্সুয়াল হয়, আর মেয়েরা ছোটে জিরো ফিগার আর রঙঢঙে কেশসজ্জার দিকে।

হাই সোসাইটিতে তো আজকাল পরকীয়া একটা ফ্যাশন। এককালে যা ছিল মধ্যবয়সী পুরুষের ভীমরতি, আজ সেটাই সকলের মতি। আর উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা মনে করে 'আমেরিকান পাই' বেদবাক্য-''লুজ ইউর ভার্জিনিটি বিফোর কলেজ''!

এত পোংটাচ্ছি কেন? বলছি। আমি খুবই পুরনো ধ্যান ধারণার মানুষ। তাই এসব দেখে কষ্ট লাগে কখন জানেন? যখন দেখি আমাদের প্রজন্মটা বেপথে যাচ্ছে। উঁচু উঁচু ইমারত আমরা গড়ছি ঠিক-ই। কিন্তু আমাদের মূল্যবোধটুকু যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে,সেটা বুঝছি না। তাই পাড়ায় পাড়ায় আগে যেখানে পাঠাগার গড়ে উঠত,সেখানে এখন পাড়ায় পাড়ায় ছাতার মত ক্লিনিক খুলে অ্যাবোরশন ব্যবসা জাঁকিয়ে বসলেও কারো কিচ্ছুটি বলবার নেই।

দেশকে স্বাধীন করেছে যে প্রজন্ম, তারা বিগতপ্রায়। এবার এই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখাটা আমাদের দায়িত্ব আর কিশোর সমাজ-যুব সমাজ এমন মন-কামের বাঁধনে জড়িয়ে গেলে দেশের কী হবে? দেশ গড়ার জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের শক্ত হাত দরকার। সে হাতে রিস্ট ব্যান্ড থাক ক্ষতি নেই,মানসিক দাসত্বের হাতকড়া যেন না থাকে।

((( লিখেছেনঃ- অনুরাজ বিশ্বাস অভিক )))
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×