somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যারা গল্প বলে না, তারাই আসল গল্প

২৮ শে জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সজীব ভাই বারবার বলতেছিলো সৈকত, তুমি এতোগুলা অভিজানে ছিলা, তোমার কিছু অভিজ্ঞতা ওদের বলো।
সৈকত ভাই খুব ফেইন্টেড মেমোরি থেকে একটা দুইটা ঘটনা বললো। পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত।
ঘটনাগুলা আমার আগেই শোনা, বিশদ বর্ণনায়। কিছু জায়গায় আমি নিজেই ছিলাম মনে হচ্ছিলো।

আমি সৈকত ভাইকে বললাম, ভাই আপনি ছবি তোলেন না, কোন অভিজান নিয়া কিছু লেখেনও নাই কখনো। কেন?
ভাই সহজ ভাষায় বলে দিলো, আমি এইসব পারিনা। ওদের থেকে শুনো তোমরা।

পাহাড়ে জঙ্গলে এমন অনেক নিভৃতচারী আছে। যারা কখনো লেখবেনা, গল্প বলবেনা, ছবিও দেখাবেনা।
আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তখন, এরা আসলে কেন যায়? অভিজানের নেশায়? নিজের সাথে বোঝাপড়ায় আসতে? কি বুঝতে

পাহাড়ের পাথর, পানির শব্দ, চিরহরিৎ বনের ভেতরের পচা পাতার সাথে বাতাসের গন্ধ, সবই এদের সাথে কথা বলে। এবং তারা তা নিঃশব্দে শুনতে থাকে।

প্রতি বর্ষায় তাদের পদচিহ্ন মুছে যায় বৃষ্টিতে, কিন্তু পাহাড় জানে সে কারো ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলো।
তারা ফিরেও আসে চুপচাপ। কারো ফেসবুক পোস্টে, কারো ইউটিউব থাম্বনেই এদের মুখ দেখা যায় না। কিন্তু যারা একবার তাদের সাথে গিয়েছে, তারা জানে আসল গল্পদাতা তারাই। তারাই আসল উপন্যাস।

তাদের কাছে যাওয়া মানে বইয়ের বাইরে একটা বই পড়া। একটাই সমস্যা, তারা কখনো দ্বিতীয়বার পড়ে শোনাবে না।
আমাকে যেতে হবে, শুনতে হবে, বুঝে ফেলতে হবে, একবারেই!


সত্যিকারের অভিজাত্রীদের একধরনের কুয়াশা থাকে চেহারায় তারা ঠিক বলেনা, ঠিক বলেনও না।
তাদের অভিজ্ঞতা কোনো ছবিতে ওঠে না, ওঠে কারো নোটবুকে, কবিতায়, কারো হঠাৎ করে গলার কাঁপুনিতে, কারো চুপচাপ স্থির ভিক্ষুর মতো।

তাদের ভাষা পাহাড়ের মতই, নিভৃত, দৃঢ়, আর প্রজ্ঞাময়।
তাদের জানতে হয় না, তারা জানে।

তাদের খুঁজে পেলে ভাগ্যবান হইয়ো, কারণ তারা কাউকে কিছু শেখায় না, শুধু একসাথে হাঁটে।
আর যখন একদিন আমিও হাঁটতে হাঁটতে নিঃশব্দ হয়ে যাবে, তখন বুঝবে, তাদের গল্পগুলো, আসলে আমার ভেতরেই লেখা হচ্ছিল এতদিন ধরে।


(ছবিতে সৈকত ভাই আর আমি। শেষ ভ্রমনের সময়)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×