
পৃথিবীতে এমন মানুষের সংখ্যা কম যারা মহান গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস ও খ্রিস্টধর্মের মূল ব্যক্তিত্ব যিশুর নাম শোনেননি। দুজনই চিন্তার প্রবর্তক। দুজনই কিছু লিখেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাহলে তাদের সম্পর্কে পরবর্তীকালে মানুষ জানল কীভাবে? সক্রেটিস সম্পর্কে জানা যায় তারই শিষ্য প্লেটোর ডায়ালগ এবং সৈনিক জেনোফনের রচনা থেকে। সক্রেটিস পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী, বলা হয়ে থাকে। তিনি এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। খুবই সাধারণ অথচ মহান একজন শিক্ষক ছিলেন সক্রেটিস, যিনি শিষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার কোন নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ও ছিল না। যেখানে যাকে পেতেন মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন।
দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদরা বিগত দুই সহস্রাব্দ ধরে সক্রেটিস ও যিশুর মধ্যে চমক লাগানো, বিস্ময়কর সাদৃশ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই রচনা করেছেন। দুজনই একটা মহত্তর নৈতিক দর্শন সম্বন্ধে তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতিগুলো বর্ণনা করেছেন। দুজনই জনসাধারণের মধ্যে সম্পদ, জাতপ্রথা কিংবা পৌত্তলিকতার ভিত্তিতে পার্থক্য রচনা করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। দুজনই বিশ্বাস করতেন যে, তারা ঐশ্বরিক বাধ্যবাধকতার অধীনে কাজ করছেন। দুজনই চরম মাত্রায় সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন, বিনামূল্যে শিক্ষা দান করেছেন এবং তাঁদের শিক্ষার চূড়ান্ত স্বীকৃতি হিসেবে আত্মোৎসর্গের বিষয়টিকে মেনে নিয়েছেন।
দুজনের জ্ঞান সমকালীন চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

