somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

এই উপমহাদেশ আবার একত্রীত হবে?

২৭ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের এই উপমহাদেশ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বারবার হঁচোট খেয়েছে। এই বিশাল আয়তনের সাম্রাজ্য হতে পারতো পুরো বিশ্বের নেতৃত্বদানকারী এক দেশ!
ধর্মের ভিত্তিতে এই ভারতীয় উপমহাদেশকে টুকরো টুকরো করার কৌশলে আমি ঘোর বিরোধী। কিন্তু ব্রিটিশরা ধর্মের ইস্যুটিকে সামনে দাঁড় করিয়েই এই উপমহাদেশকে ভাগ করে দিয়েছে সেই ১৯৪৭ সালে। জিন্নাহ, নেহেরু, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী তাদের আলোচনা, লাহোর প্রস্তাব, গোলটেবিল বৈঠক এগুলো থেকে বুঝা যায় আসলে তারা অটোনমাস এরিয়া চেয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ব্যক্তিগত কোন্দল, সমঝোতার অভাব আর একরোখা মনোভাবের কারনেই সেটা সম্ভবপর হয়নি। আর এই সুযোগটিই নিয়েছে মাউন্ট ব্যাটন! সে ভাগ করে দিয়ে যাওয়ার সময় কাশ্মীর ইস্যু, পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিম পাকিস্তান এমন বিরোধপূর্ন অবস্থা রেখে দিয়েছে যেন তারা একে অপরের সাথে কামড়াকামড়ি করে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে যার ফলে ভারতীয় উপমহাদেশ দুর্বল হয়ে থাকে!ভূ-কৌশলগত দিক থেকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে সবচাইতে শক্তিশালী বাংলাকে তারা দুই ভাগ করে দুইটি দেশের কাছে দিয়ে দেয়। শুধু তা-ই নয়, এমন এক পদ্ধতি তারা করে দিয়ে যায়, যাতে দু’টি দেশের মাঝে শত বৈরিতা সত্ত্বেও একটি বিষয়ে যেন একাত্বতা থাকে যে, বাংলাকে কখনোই এক হতে দেয়া যাবে না। আর সে পদ্ধতিতা হচ্ছে ধর্মীয় পরিচয় আলাদা করে দিয়ে যাওয়া! পরাশক্তিদের নীতি অনুসরণ করে ১৯৪৭ পরবর্তী উভয় দেশই বাংলার মানুষের শক্তিকে খর্ব করেছিল, যদিও ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রায় পুরো রাজনৈতিক কর্মকান্ডই ছিল বাংলা-কেন্দ্রিক। ১৯০৯ সাল পর্যন্ত কোলকাতাই ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো রাজনীতিকদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছিল কোলকাতায়। মাউন্ট ব্যাটেনের সেই উদ্দেশ্য ও ব্রিটিশ নীতি এখনো চরিতার্থ হয়ে যাচ্ছে!
এই উপমহাদেশ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগুতে গিয়েও পিছিয়ে পড়ছে। নিজেদের অন্তঃকলহ আর ধর্ম নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের কারনে তারা এগিয়ে গিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সবার চেয়ে পাকিস্তানই বেশি সমস্যাগ্রস্থ হয়ে আছে। পাকিস্তানের মত বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যও মুসলিম মৌলবাদ যথেষ্ট বেড়েছে পাশাপাশি হিন্দু প্যানিটিজমও বাড়ছে! হিন্দুদের এক্সপ্লয়েট করার জন্য মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ওয়াজীরা যেমন উগ্র কথাবার্তা বলে ঠিক হিন্দু অধ্যুষিত কট্টরবাদীরাও মুসলিম সমাজকে এক্সপ্লয়েট করতে নানা গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই বিষয় গুলি আমাদের এই উপমহাদেশকে টেনে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ধর্মগুলো আমাদের নিজেদের উন্নতি আর সম্প্রীতিতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে!
তারপরেও আশারকথা হচ্ছে শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে অনেক উচ্চ মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ তৈরি হচ্ছে এবং মনে করি এই উপমহাদেশ আবার একত্রীকৃত হবে নিজেদের প্রয়োজনেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১২:০৭
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×