
প্রতিটা ধর্ষণের পর ধর্ষক কিভাবে যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, অথবা শিবির হয়ে যায়! ধর্ষক আর ধর্ষক থাকে না! ধর্ষককে এইসব তকমা দিয়ে ধর্ষিতার বিচার পাওয়ার পথ আপনি নিজের অজান্তেই রুদ্ধ করে দিচ্ছেন। কারন এসব পদবি দিয়ে যখন আপনি তাকে পরিচয় করে দিচ্ছেন তখন তার স্বজাতি/সহযোদ্ধারা তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে যায়। ধর্ষককে ধর্ষক বলতে সমস্যা কোথায়? আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের দিকে যেসব ধর্ষণ হয় তার অধিকাংশই দেখি সেখানের প্রভাবশালীরা ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, কখনো প্রকাশ্যে তো কখনো অপ্রকাশ্যে! এর ধরুন ধর্ষিতা কখনো ন্যায্য বিচার পায়না। আর ধর্ষণের শতকরা ১০ভাগের খবর প্রকাশিত হয়, বাকিগুলো লোক চক্ষুর অন্তরালেই থেকে যায়।
এত ছোট একটা দেশে এত বিশাল জনসংখ্যা, তার উপর অধিকাংশ মানুষই সঠিকভাবে শিক্ষিত নয়। এই সুশিক্ষার অভাবে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে আর আছে আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়া। এছাড়া পারিবারিক মূল্যবোধের ব্যাপার তো আছেই। আসলে এসব সামাজিক অপরাধের আরো অনেক কারণই আছে। যেমন আমাদের নুরু ভাই বলবেন শরীয়া আইন না থাকার কারনে এমন হচ্ছে, ইহাকে কি আসলে একটা কারণ বলে ধরা যায়? অবশ্য শুধু আমাদের নুরু ভাই না, ফেইসবুকে, ব্লগে প্রচুর মানুষ এটাকে কারণ হিসেবে দেখছে। আমার কাছে এটাকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারন মনে হচ্ছে না।
যাইহোক ধর্ষণের বিচার এই দেশে ঠিকভাবে না হওয়ার কারণ কি জানেন? কারন হচ্ছে সব ক্ষমতাবানরা কোন না কোন ভাবে ধর্ষক। যে আইনজীবী ধর্ষণ মামলা লড়বে বা যে বিচারক রায় দিবে হয়ত তারাও কোন না কোন ভাবে ধর্ষক!
শুধু জোর করে, বিবস্ত্র করে সঙ্গম করলেই ধর্ষণ হয়না। আরো বহুভাবে, বহু কায়দায় ধর্ষিত হয় বহু জননী! ক্ষমতাবানদের সদিচ্ছা না থাকার কারণেই এদেশে ধর্ষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


