somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বিয়ে(১৮-১২-২০২০)

২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্লগে অনেকেই ভেবেছিলেন আমি হয়তো বিবাহিত। না, আমি অবিবাহিতই ছিলাম। গত ১৮ তারিখে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই এবং এটি আমার প্রথম বিয়ে :)। বর এবং কনে দুইজনেই সুস্থ্য আছি। আসলে খুব দ্রুতই সব কিছুর আয়োজন হয়ে গেছে। আপনাদের দাওয়াত দেওয়ার সুযোগও হলো না।
ঢাকা থেকে মেয়েকে দেখতে আমি গত সপ্তাহে বাড়িতে গিয়েছিলাম। মেয়েটি আমার পূর্ব পরিচিত এবং আমার বাড়ির পাশেই। তার সম্পর্কে আমার মোটামুটি জানাশোনা ছিল। আর এই জন্য কিছুটা এক্সাইটেড ছিলাম। সমস্যা হলো পরিবার থেকে আরেকটি মেয়েও দেখার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। যেটি আমার পছন্দ হয় সেদিকে আলোচনা এগুবে। আমি জানতাম আমার পরিচিত মেয়েটিই আমার পছন্দ হবে। যাক অপরিচিত মেয়েটিকে দেখার সিডিউল করা হল সকালে আর পরিচিত মেয়েটিকে মানে আমার বউকে দেখার সিডিউল পাওয়া গেলো বিকেল তিনটার পর।

এর আগে এভাবে মেয়ে দেখার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না, এটাই প্রথম। অপরিচিত মেয়েটিকে ওদের বাড়িতে দেখতে গিয়েছিলাম, আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, তবে যাকে দেখতে গিয়েছিলাম সে মনে হচ্ছে আমার থেকেও বেশি নার্ভাস ছিল। মেয়েটিকে আমার সামনে আনা হলো, আমি তার সামনে বসে আছি সেও বসে আছে। আমি কয়েকবার তার দিকে তাকালাম, বুজলাম সে বসেই থাকবে কোন কথা বলবে না। আমি তাকে নাম, পড়ালেখা জিজ্ঞেস করলাম সে আস্তে করে করে উত্তর দিল। এরপর বললাম আপনি কিছু জিজ্ঞেস করবেন না? সে চুপ করেই ছিল।
এই পৃথিবীতে আমার কাছে কখনো কোন মানুষের বাহ্যিক সৌন্দয্যকে অসুন্দর লাগেনি, প্রত্যেক মানুষই তার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সুন্দর। যাক চার, পাঁচ মিনিটের মত মেয়েটি আমার সামনে ছিল। আমাদের জন্য অনেক নাস্তার আয়োজন ছিল, আমি এসব পরিস্থিতিতে বেশিকিছু খেতে পারিনা, কি কারনে জানিনা সেখানে আমি অনেক কিছুই খেয়েছি!
আমরা সেখান থেকে বের হয়ে গেলাম, উদ্দেশ্য পরের মানে আমার পরিচিত মেয়েটিকে দেখতে বের হওয়া। তবে সমস্যা হলো সিডিউল অনুযায়ী আমরা বেশ আগে আগে ওদের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিয়ে দিলাম। এদিকে যত এগুচ্ছি আমি তত নার্ভস হচ্ছি! কাছাকাছি এসে দেখলাম শিডিউলেরও ঘন্টাখানেক আগে চলে যাবো আমরা। ড্রাইভারকে বললাম আস্তে আস্তে চালাতে। ওদের বাড়ির সামনে এসে থামালাম, আম্মাকে বললাম এখানে একটু দেরি করি নিই। আম্মা বিরক্ত হয়ে বলল দেরি করার কি দরকার! আসলে মেয়ের বাবা মানে আমার শশুর উনি বিকেল তিনটার পর ঘরে থাকেন না। উনার সম্পর্কে আমি জানি, অনেকটা রাগী মানুষ। আমি চাচ্ছিলাম না উনার মুখোমুখি হই, কি থেকে কি জিজ্ঞেস করে কে জানে।

যাক যত দেরিই করি বুঝলাম শিডিউলের আগেই যেতে হবে। মনে মনে ভাবলাম যাই যা আছে কপালে, উনি তো আর আমাদের ইংরেজি শিক্ষক মাঈনউদ্দিন স্যারের থেকে কড়া না। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে আর আমার হার্টবিট বাড়ছে। আমরা তাদের বাড়ির দরজায় আসার পর দেখলাম মেয়ের ছোট ভাই দাঁড়িয়ে আছে, আমাদের রিসিভ করে নিয়ে এসেছে ঘরে। ঘরের ভিতর ঢুকেই দেখি ড্রয়িং রুমে মেয়ের বাবা বসে আছে। আমি আরো নার্ভাস হয়ে গেলাম। আমাকে বসতে বললো উনি, বসিয়ে উনি নাম ধাম, ঠিকানা, আমার ব্যবসা সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন, আমি যথাসম্ভব উত্তর দিলাম। এরপর উনার অফিস থেকে একটা ফোন আসলো উনি সেটাই ব্যস্ত হয়ে গেলেন। রুমের বাহিরে গিয়ে কথা বলতে লাগলেন। কিছুটা স্বস্তি পেলাম। আবার ভাবলাম আমাদের থেকে ফোন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে মানে এখানে কিছু হচ্ছে না।
এরই মাঝে অনেক পদের নাস্তা চলে এসেছে, আমি কিছুই খেতে পারলাম না, শুধুমাত্র আঙ্গুর ফল খেলাম কয়েকটা। মেয়েটিকে আমার সামনে আনা হলো, তাকে দেখে আমার নার্ভাসনেসটা অনেকটা কেটে গেলো। প্রথম মেয়েটির মত তাকে নার্ভাস লাগেনি। সে আমার সামনে এসে বসেই একটা হাসি দিয়েছে। মেয়েটির সাথে এর আগে আমার অনেক কথা হয়েছিল আমাদের স্কুলের কয়েকটি প্রোগ্রামে। তবে এবার আমার কোন কথা বের হলো না মুখে। অনেক কষ্টে শুরু করার জন্য নাম জিজ্ঞেস করলাম, সে হেসে দিল আর বললো ভাইয়া আপনি আমার নাম জানেন না? এবার আমিও একটু হেসে দিলাম। যাক আরো অল্প কিছু কথা শেষে আমাদের দেখার পর্ব শেষ হয়ে গেল। মেয়েটি যখন উঠে যাবে তাকে আমি আস্তে করে বললাম নিতু “ভালোবাসি”!

যাইহোক এরপর দুই পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হলো। মেয়ের বাবা মানে আমার শশুর উনি অনেক খোঁজ খবর নিলেন আমার সম্পর্কে। এরপর উনি একদিন আমার বন্ধুকে(যে মিডিয়া ছিল) ফোন দিয়ে বললো আলহামদুলিল্লাহ তাদেরকে এগুতে বলো। আর হ্যাঁ, ছেলে আমাকে তার সম্পর্কে যা যা বলেছে আমি খোজ নিয়ে তার ব্যাতিক্রম পাইনি, এটা উনার ভালো লেগেছে। যাক এই খোঁজখবর নিয়েও অনেক মজার ঘটনা ঘটেছে সেটা অন্যসময় বলা যাবে।
এরপর খুব দ্রুত সবকিছু হয়ে গেল। গত আঠারো তারিখে আমি আর নিতু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। সবার দোয়াপ্রার্থী।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩০
৩৩টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×