somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাড়ির শব্দসন্ত্রাসের কবলে মোহাম্মদপুর-বসিলা রোডের পাশে বসবাসরত বাসিন্দাগন

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্টান্ড থেকে বুদ্ধিজীবী বেরীবাধ পর্যন্ত নবনির্মত মোহাম্মদপুর-বসিলা রোডের পাশে বসবাসরত নাগরিকগণ রাতদিন বিরতিহীন গাড়ির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে । বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিকট শব্দে তাদের জীবন অতিষ্ট। তাদের ঘুম ভাঙে যানবাহনের অযাচিত হর্নে। ঠিক মতো ঘুমাতে পারেননা, লেখা পড়া ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও অত্র এলাকায় অবস্থিত, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ গাড়ির বিরতিহীন শব্দদূষণের ফলে মানুষ উচ্চরক্তচাপ, শিরপীড়া, মানসিক অসুস্থতা, স্নায়ুবিক বৈকল্য, আত্মহত্যার প্রবণতা, আক্রমণাত্মক মনোভাবের উদ্রেক, হৃদরোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরদিকে শিশু-কিশোরদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে শব্দদূষণের তান্ডবে। বাসার সামনে যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং, মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দুষণের ফেলে বিভিন্ন রোগব্যাধিতে ভুগছেন এলাকাবাসী। শিশু ও অসুস্থ্য রোগীতো দূরের কথা সুস্থ্য মানুষ ও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। কাউকে বলারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ কে নেবে ব্যবস্থা? অথচ এর জন্য রয়েছে বহু নীতিমালা।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় বলা আছে, আবাসিক এলাকার সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজের ইট বা পাথর ভাঙার যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। যানবাহনে অপ্রয়োজনে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যাবে না। পাশাপাশি রাত ১০টার পর কোনোভাবেই শব্দ দূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। শব্দ দুষণের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সে দুষণ এখন আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যবে না। অথচ আইনে ঘোষিত এই এলাকা এখন শব্দের শহরে পরিণত হয়েছে। জানা যায়, ৮০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত মাত্রার শব্দ মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তথাপিও আমাদের হজম করতে হচ্ছে তা। মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল। তারপরেও মানুষ অনায়াসে ৬০-৭০ ডেসিবেল শব্দের মাত্রা সহ্য করে যাচ্ছেন। এ মাত্রার বেশি শব্দদূষণ হলে মানুষ ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ৮০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত মাত্রার শব্দ মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা থাকলেও সে আইন কিতাবে আছে বাস্তবে নেই। এ এলাকায়ও দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি। স্বস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এভাবে রাজধানীতে শব্দদূষণ বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের মধ্যে নগরীর অর্ধেক মানুষ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলবেন। শব্দের স্থিতি ক্ষণস্থায়ী হলেও শব্দদূষণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পরিবেশের অন্যসব দূষণের মতো শব্দদূষণকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে বোঝানো যায় না। ক্ষতিকর দিকটি যায় না দেখানোও। শুধু শ্রবণের মাধ্যমে এটিকে অনুধাবন করা যায়। আমাদের দেশে শব্দদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় পরিবেশবাদীরা একে শব্দসন্ত্রাস হিসাবে অভিহিত করেছেন।
শুধু আইন কিংবা নীতিমালা প্রণয়ণ নয়। শব্দ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিদ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। এর বিরুপ প্রভাব পড়বে অত্র এলাকার নাগরিকদের শরীরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৩০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×