
বলিউড অভিনেতা আমির খান। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্য লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। আমির খান শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবেও জনপ্রিয় আমির খান।হিন্দি চলচ্চিত্রে সফল কর্মজীবনের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চাচা নাসির হুসেনের 'ইয়াদোঁ কি বারাত' (১৯৭৩) ছবিতে একজন শিশুশিল্পী হিসাবে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। তবে পেশাগতভাবে তার অভিনয় জীবনের সূচনা হোলি (১৯৮৪) ছবির মাধ্যমে। এছাড়া তিনি মাঝে মাঝে গান গেয়ে থাকেন। তিনি নিজস্ব উদ্যোগে চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা আমির খান প্রোডাকশন্স প্রতিষ্ঠা করেছেন। ড় পর্দায় স্থায়ী হওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য বিষয়। অনেকে চলচ্চিত্রে এসে চোখের পলকে প্রতিষ্ঠা পান। অনেকে অনেক চেষ্টায় ‘তারকা’ খ্যাতি লাভ করলেও, দু-চারটি সিনেমায় ব্যর্থতার পর হারিয়ে যান স্মৃতির গহ্বরে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বদলায় দর্শকদের রুচিবোধও। তাই তাঁদের প্রথম দিককার প্রিয় অভিনেতা কালের করাল গ্রাসে একসময় হয়ে যান পুরনো। এছাড়াও, একটি জাতিকে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাটাও সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু, বলিউডের আমির খানের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ১৯৭৩ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে রূপালি পর্দায় প্রথম পা রাখার ৪৫ বছর পরও চিত্রজগতে ‘আমির’ হয়ে রয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর পেশাগত জীবনেও ব্যর্থতা এসেছিলো। নিন্দা, বিতর্ক, সমালোচকদের বিষমাখা বানে জর্জরিত হতে হয়েছিলো তাঁকেও। কিন্তু কোন কিছুই আমিরের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। তাঁর ভক্তের সংখ্যা ভারতের বাইরেও দিনকে দিন বেড়েই চলছে। ‘দঙ্গল’-এর কল্যাণে আমির পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের আম-জনতার অন্তরেও জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়াও, সে দেশটির জনগণের কাছে সর্বকালের প্রিয় চলচ্চিত্রের তালিকায় ১২তম অবস্থানে রয়েছে আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টস’। প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবি চাচাতো ভাই মনসুর খানের কেয়ামত সে কেয়ামত তক। এই ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মোট সাতবার মনোনয়ন পেলেও তিনি ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার জেতেননি। অবশেষে ১৯৯৬ সালে "রাজা হিন্দুস্তানি" ছবির জন্য তিনি ফিল্ম ফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান। ভারত সরকারের তাকে শিল্পকলার প্রতি তার অবদানসমূহের জন্য ২০০৩ সালে পদ্মশ্রী পদক এবং ২০১০ সালে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে, টাইম ম্যাগাজিনের তালিকার তিনি বিশ্বের ১০০ সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। আমির ভারতের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একজন অস্কার-মনোনীত চিত্র প্রযোজক, প্রভাবশালী দানবীর, তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর আয় অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। সর্বোপরি, তাঁর আচার-ব্যবহার বলিউডের অনেক নামি-দামি অভিনয়শিল্পীর তুলনায় অমায়িক। এসব মিলিয়ে জনমনে ‘আমির’ হয়ে উঠেছেন অভিনেতা আমির খান। আজ হিন্দি চলচ্চিত্রের অভিনেতা আমির খানের ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৬৫ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দি চলচ্চিত্রের অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালকআমির খানের ৫৫তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

আমির খান ১৯৬৫ সালে মার্চে ১৪ তারিখে ভারতের মুম্বাইয়ে বান্দ্রা হলি ফ্যামিলী হাসপাতালে একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম ছিলো আমির হোসেন খান। আমির খান প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আবুল কালাম আজাদ (মাওলানা আবুল কালাম আজাদ)-এর বংশধর। আমির খান এর মায়ের নাম জিনাত এবং পিতার নাম তাহির হুসেন ,তিনি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। আমির খান তিন ভাই এক বোন ,তার ভাই বোনেরা হলেন “ফয়সাল খান”, “ফরহাত খান” এবং “নিখাত খান”। আমির খানের পূর্বপুরুষরা ছিলেন আফগানিস্তানের অধিবাসী। ১৯৭৩ সালে একজন শিশুশিল্পী হিসাবে তার অভিনয় জীবন শুরু হয় তার চাচা নাসির হুসেনের হাত ধরে।তার জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রটির নাম হচ্ছে ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’। তার চাচা একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা, যার মাধ্যমে আমির খান অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন।১৯৮৪ সালে পেশাগতভাবে তার অভিনয় জীবনের সূচনা ঘটে হোলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তার জীবনের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রটি হচ্ছে “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” যা ১৯৮৮ সালে মুক্তি পেয়েছিলো। তার চাচাতো ভাই মনসুর খান দ্বারা পরিচালিত, লিখিত এবং তার চাচা নাসির হোসেন দ্বারা প্রযোজিত।এই ছবির জন্য তিনি ‘শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা’ হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান। ২০১৪ তে মুক্তি পায় আমির অভিনীত “পিকে” মুভি। বলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবির তালিকায় রয়েছে আমিরের “পিকে”। শুধু ভারতেই ৩০০ কোটি রুপি আয়ে স্পর্শ করা ‘পিকে’। বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটি রুপি আয় করে তার এই সিনেমাটি বলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার শীর্ষে অবস্থান করছে।

একথা অনস্বীকার্য যে চলচ্চিত্রে আমিরের চলার পথ মসৃণ ছিলো না। তবে আমির সবসময়ই নিজেকে পুনঃআবিষ্কার করে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। কেননা, তাঁর বাবা তাহির হোসেন প্রযোজক হিসেবে গাঁটের টাকা সিনেমার পেছনে ঢেলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সাফল্যের মুখ তেমনটি দেখতে পাননি। তাই অর্থের অভাবে আমিরের স্কুলে পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। কিশোর বয়সে আমির পড়ালেখা ও অভিনয়ের পাশাপাশি খেলাধুলায় মন দিয়েছিলেন যদি এতেই সাফল্য আসে। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি চ্যাম্পিয়নশিপ-লেভেলের একজন টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন। পরে, আমির উপহার দেন ‘দিল হ্যায় কে মানতা নেহি’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘লগন’, ‘রঙ দে বসন্তী’, ‘তারে জমিন পর’, ‘পিকে’ ইত্যাদি। বেছে বেছে সিনেমা করার খ্যাতি রয়েছে তাঁর। তবে একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি বানিয়ে ও অভিনয় করে তারকা প্রতিষ্ঠা পেলেও শুধুমাত্র রূপালি পর্দায় তিনি নিজেকে আটকে রাখেননি আমির। সমাজ উন্নয়নে ও সামাজিক আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তিনি। নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মানবতাবাদী, স্পষ্টবাদী সমাজসেবক হিসেবেও। হিন্দি চলচ্চিত্রে সফল কর্মজীবনের মাধ্যমে, আমির খান ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতা এক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে, টাইম ম্যাগাজিনের তালিকার তিনি বিশ্বের ১০০ সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। আমির সামাজিক সমস্যা গুলো নিয়ে সত্যমেব জয়তে নামে একটি নতুন টক-শো পরিবেশনা করছেন যা মানুষের চিন্তা ভাবনা বদলানোর পরিবর্তন করতে বাধ্য করে।এই টক-শো মূলত সামাজিক বিষয়গুলোকে নিয়ে এবং তার প্রতিকার নিয়ে। এই শোটি ভারত ও এর বাইরে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে আমির খান ১৯৮৬ সালের ১৮ই এপ্রিল রীনা দত্ত নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। এই রীনা কেয়ামত সে কেয়ামত তক চলচ্চিত্রের একটি গানে কিছুক্ষণের জন্য অভিনয় করেছিলেন। রীনা আমিরের চলচ্চিত্র লগান এর প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তাদের জুনায়েদ নামের একটি পুত্র এবং ইরা নামের একটি মেয়ে রয়েছে। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আমির রীনাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর আমির খান কিরণ রাওকে বিয়ে করেন যিনি আমিরের লগান চলচ্চিত্রের পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। বর্তমানে আমির খান এবং কিরণ রাও এর একটি ছেলে সন্তান আছে যার নাম “আজাদ রাও খান”। আজ হিন্দি অভিনেতা আমির খানের ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। হিন্দি চলচ্চিত্রের অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালকআমির খানের ৫৫তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


