somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

বিশিষ্ট নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী বেদারউদ্দিন আহমদের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

১৫ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সঙ্গীত বিষয়ক অধ্যাপক এবং নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী বেদারউদ্দিন আহমদ। সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে বেদারউদ্দিন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও খ্যাতি লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বার্মা (মায়ানমার), ইরান, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড, আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর অধ্যক্ষ পদে দীর্ঘকাল অধিষ্ঠিত থেকে এ দেশে সঙ্গীতের চর্চা, প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কলকাতা বেতার কেন্দ্রে তিনি নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। বেদারউদ্দিন ছিলেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। আজ বেদারউদ্দিন ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৭ সালের আজকের দিনে তিনি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী বেদারউদ্দিন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


বেদারউদ্দিন ১৯২৭ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ মহিরউদ্দিন এবং মাতা নেকজাহান বেগম। শেরপুর জমিদার পরিবার ছিল সঙ্গীতের পৃষ্ঠপোষক। সে সাঙ্গীতিক পরিবেশ বেদারউদ্দিনকে সঙ্গীত শিল্পে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। বেদারউদ্দিনের হারমোনিয়াম বাজানোর হাতেখড়ি হয় গৌরচন্দ্র ঘোষের কাছে। পরবর্তীতে তিনি সঙ্গীতে আগ্রহী হন এবং সঙ্গীতচর্চা শুরু করেন। ১৯৪০ সালে তিনি উত্তরবঙ্গ সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় ছোটদের মধ্যে প্রথম হন। সঙ্গীতে উচ্চতর শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে বেদারউদ্দিন এক সময় কলকাতা যান এবং ওস্তাদ ইউসুফ খান কোরায়শী, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু এবং ওস্তাদ মুন্সি রইসউদ্দীনের নিকট উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিক্ষা করেন। তিনি পল্লিকবি জসীমউদ্দীন এবং বিখ্যাত পল্লিগায়ক আববাসউদ্দীনের সাহচর্য লাভ করেন। এঁদের সাহচর্য বেদারউদ্দিনের শিল্পিজীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। ১৯৪২ সালে বেদারউদ্দিন ‘সং পাবলিসিটি’ বিভাগে চাকরি গ্রহণ করেন। কলাম্বিয়া ও এইচএমভি গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে তাঁর গাওয়া গানের রেকর্ড বের হয়, যা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তাঁকে এনে দেয় বিরাট স্বীকৃতি। তিনি কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকা এসে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন এবং নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ১৯৫৫ সালে যাঁদের উদ্যোগে বুলবুল ললিতকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়, বেদারউদ্দিন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। সঙ্গীতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমী ১৯৭৪ সালে বেদারউদ্দিনকে পুরস্কৃত করে। এছাড়া ১৯৭৬ সালে নজরুল সাংস্কৃতিক পরিষদ ‘নজরুলের প্রতিকৃতি’ প্রদান এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘একুশে পদক’ প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করেন।


সঙ্গীতশিল্পী বেদারউদ্দিন ১৯৯৮ সালের ১৩ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড মসজিদে যোহরের পর এবং বাইতুল মোকাররম মসজিদে আসরের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। আজ বেদারউদ্দিন ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। নজরুলগীতি ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী বেদারউদ্দিন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×