
লরা জন রীজ উইদারস্পুন একজন মার্কিন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক। যিনি রিজ উইদারস্পুন নামে সমধিক পরিচিত। ১৯৯৮ সালে তিনি তিনটি খ্যাতনামা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেগুলো হচ্ছে: ওভারনাইট ডেলিভারি, প্লিজেন্টভিল, এবং টোয়াইলাইট। পরবর্তী বছরে সমালোচকভূষিত চলচ্চিত্র ইলেকশন-এ তাকে দেখা যায়। এই চলচ্চিত্রটির জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন লাভ করেন। ২০০৫ সালে ওয়াক ইন দ্য লাইন চলচ্চিত্রে জুন কার্টার ক্যাশ চরিত্রে তার অভিনয় আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়তে সমর্থ হয়। এই চলচ্চিত্রের জন্য পরবর্তীকালে তিনি মূল চরিত্রে অভিনয়কৃত সেরা অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, এবং স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার লাভ করেন। হালে মুক্তিপ্রাপ্ত হলিউডি রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘হোম অ্যাগেইন’-এ প্রধান নারী চরিত্র ‘অ্যালিস কিন্ন’-এর ভূমিকায় রূপদান করেছেন রিজ উইদারস্পুন। লস অ্যাঞ্জেলসের স্বামী পরিত্যক্তা নারী অ্যালিসের জীবনটা অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যেতে শুরু করে যখন সে তার চেয়ে কম বয়সী তিনজন মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন কাজে। নারী চিত্রনির্মাতা হ্যালি মেয়ারসশেয়ার পরিচালিত প্রথম ছবিটিতে হলিউডের একঝাঁক নামীদামি প্রখ্যাত অভিনয়-তারকা ও কলাকুশলীর মহাসমাবেশ ঘটেছে। রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের ‘হোম অ্যাগেইন’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যালিস পর্দায় অনেকটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে হলিউডে বহু পুরস্কারজয়ী গুণী অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুনের অনবদ্য অভিনয়গুণে। তার মনমাতানো অভিনয় দর্শকদের অভিভূত করেছে। ৪১ বছর বয়সী রিজ এ পর্যন্ত অনেকগুলো ছবিতে তার মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০০৫ সালে ‘ওয়াক দ্য লাইন’ ছবিতে জুন কার্টার চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, বাফটা অ্যাওয়ার্ড, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড এবং ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রী বিবেচিত হন তিনি। যা হলিউডে এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়েছে। নিউ অরলিয়ন্সে জন্মগ্রহণকারী রিজ একজন জনপ্রিয় মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে হলিউডে উজ্জ্বল অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি একজন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। খুলেছেন নিজস্ব প্রোডাকশন কোম্পানি হ্যালো সানশাইন। তার অন্যান্য ব্যবসাও রয়েছে। তার পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠান ড্রাপার জেমস এরমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে শক্ত ভিত্তির উপর। পেশাগত ব্যস্ততার ফাঁকে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন হলিউডের ডাকসাইটে এই অভিনেত্রী। আজ জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন এর ৪৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের আজকের দিনে তিনি যুক্তরাষ্টের নিউ অর্লিন্সে জন্মগ্রহণ করেন। মার্কিন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক রিজ উইদারস্পুন এর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

রিজ উইদারস্পুন ১৯৭৬ সালের ২২শে মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্টের লুইজিয়ানার নিউ অর্লিন্সের তৎকালীন সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে (বর্তমান অশস্নের ব্যাপটিস্ট মেডিক্যাল সেন্টার) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন ড্র্যাপার উইদারস্পুন ছিলেন একজন ডাক্তার। তিনি জর্জিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ছিলেন। তার মাতা ম্যারি এলিজাবেথ "বেটি" (প্রদত্ত নাম: রিজ) টেনিসির হ্যারিম্যানে জন্মগ্রহণ করেন। বেটি পেডিয়াট্রিক নার্সিংয়ে পিএইচডিসহ মোট পাঁচটি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন। রিজের জন্মের সময় তার পিতামাতা নিউ অর্লিন্সে থাকতেন, কারণ তার বাবা সেসময় টুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে উইদারস্পুন টিভি বিজ্ঞাপনের জন্য মডেল নির্বাচিত হলে অভিনয় শেখার ব্যাপারে উত্সাহী হন। ১১ বছর বয়সে দশ রাজ্যের ট্যালেন্ট ফেয়ারে অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। স্কুলে পড়াকালীন চিয়ারলিডার হিসেবে তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যেত। এভাবে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন খুব কম বয়সেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মেধার চমত্কার বিকাশ ঘটতে থাকে। স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়া শুরুর একবছরের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে অভিনয়ে সিরিয়াসলি জড়িয়ে পড়েন। কারণ এর আগে সম্ভাবনাময় শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কিছু হলিউডি সিনেমায় নিজেকে তুলে ধরার সাফল্য রিজকে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও পরিচিত করেছিল। ১৯৯১ সালে ‘দ্য ম্যান ইন দ্য মুন’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেব অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। প্রথম ছবিতে অভিনয় করেই ইয়াং আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। এরপর অল্পবয়সী চরিত্রে আরও বেশ কিছু সিনেমায় তার প্রাণবন্ত পর্দা-উপস্থিতি দর্শক-সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করে। ১৯৯৯ সালে ‘ইলেকশন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সর্বপ্রথম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিলেন রিজ। তার অভিনীত সাড়া জাগানো সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘লিগালি ব্লন্ড’, ‘সুইট হোম আলবামা’, ‘ওয়াক দ্য লাইন’, ‘লিগালি ব্লন্ড টু’, ‘রেড’, ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লন্ড’, ‘মনস্টার ভার্সেস অ্যালিয়েন্স’, ‘ওয়াটার ফর এলিফেন্টস’, ‘সিঙ’ প্রভৃতি। বর্তমানে রিজ উইদারস্পুন ‘অ্যা রিংকেল ইন টাইম’ ছবিতে অভিনয় করছেন। বছরদুয়েক আগে রিজকে সর্বশেষ দেখা যায় ‘হট পারসুইট’ সিনেমায়। গত বছরের শেষদিকে তার গলা শোনা গিয়েছিলো কম্পিউটার এনিমেটেড সিনেমা ‘সিং’-এ।

ব্যক্তিগত জীবনে উইদারস্পুন বিয়ে করেছিলেন তার অভিনীত ক্রুয়েল ইনটেনশন চলচ্চিত্রের সহ-অভিনেতা রায়ান ফিলিপকে। তাদের বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে, এবং আভা ও ডেকন নামে এই দম্পতির দুটি সন্তান আছে। এই দম্পতি ২০০৬ সালের শেষে সেপারেশন গ্রহণ করেন এবং আলাদাভাবে বসবাস করতে থাকেন। ২০০৭-এর অক্টোবরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। উইদারস্পুনের একটি নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আছে, যেখান এ ক্যাটাগরির চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়, এছাড়া তিনি নারী ও শিশু বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তিনি চিল্ড্রেন'স ডিফেন্স ফান্ডের (CDF) বোর্ডের একজন সদস্য এবং এই সংগঠনে তিনি নিয়মিত সময় দিয়ে আসছেন। তাকে ২০০৭ সালে অ্যাভন প্রোডাক্ট-এর বিশ্বব্যাপী প্রচারদূত করা হয়, এবং তখন থেকে তিনি অ্যাভন ফাউন্ডেশনের সম্পানসূচক চেয়ার পদে বহাল আছেন। অস্কার বিজয়ী হলিউড অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন জানান, আধ্যাত্মিকতার প্রতি তার আস্থা রয়েছে। পরলোকে প্রতিটি মানুষের জন্য কিছু উপহার থাকবে, তার জন্যও রয়েছে। রিজের মতে, প্রত্যেক মানুষেরই আধ্যাত্মিক পথ থাকে। মানুষ একা জন্মগ্রহণ করে, তার মৃত্যুও হয় একা। মৃত্যুর পর মানুষের গন্তব্য হয় বেহেশত। যেখানে সবাইকে একজন করে ফেরেশতা দেওয়া হবে। সাথে থাকে পাখা ও জ্যোর্তিচক্র। ৪৪ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণার প্রচারে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে বিরক্তিও প্রকাশ করেন। তার মতে, অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণা ছড়াতে বাইবেলের শিক্ষা যথাযথ কাজে লাগানো হয় না। বাইবেলের আংশিক ব্যাখ্যাই অসহিষ্ণুতার মূল কারণ। বিশপ শাসিত গির্জার সদস্য হিসেবে নিয়মিত ধর্মচর্চাও করেন উইদারস্পুন। বই পড়ার প্রতি তার ঝোঁক এত বেশি যে, তিনি নিজেকে একজন বইয়ের পোকা মনে করেন। বইয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতে গিয়ে রিজ উইদারস্পুন বলেন, ‘বইয়ের দোকান দেখলেই আমি পাগল হয়ে যাই, তখন আমার হূদস্পন্দন বেড়ে যায় অনেকগুণ। ওখানকার সব বই কিনে ফেলতে মন চায়।’ এই সময়ের সেরা ও ব্যস্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন হলেও এটা জাহির করতে তেমন কোনো ‘ভাব’ নিয়ে চলেন না রিজ। তিনি নিজের একান্ত অনুভবের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন। ‘আমি নিজেকে সব সময় নম্র, ভদ্র ও ঘরোয়া মানুষ হিসেবে সবার কাছে তুলে ধরতে চাই, অন্যের আবেগ অনুভূতিকে অসম্মান করি না, তার যথার্থ সম্মান দিতে চাই। এর মাধ্যমে আমি সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেষ্টা করি। আজ জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিজ উইদারস্পুন এর ৪৪তম জন্মবার্ষিকী।মার্কিন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক রিজ উইদারস্পুন এর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


