somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

​প্রবাদপ্রতিম শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী বড়ে গুলাম আলী খানের ৫৩তম মৃত্যুর্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিখ্যাত হিন্দুস্তানী খেয়াল সঙ্গীতজ্ঞ বড়ে গুলাম আলী খান। তিনি কাসুর পাতিয়ালা ঘরানার বিখ্যাত হিন্দুস্তানী খেয়াল সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খানের কণ্ঠ ছিলো অনন্য। তার কণ্ঠের পরিসর ছিল বিস্তৃত স্থিতিস্থাপক এবং সব লয়েই শ্রতিমধুর। ব্যতিক্রমহীনভাবে তার কণ্ঠ তার সংগীতকে অসাধারণ প্রাঞ্জন্যতা দিয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য কোন কাজকে মূর্তরূপে উপস্থাপন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। তার কণ্ঠ তার সঙ্গীতকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তার সংগীতকে বোঝার জন্য কল্পনা বা বিনির্মাণ প্রেয়োজন হয়না। কারণ তার সংগীত সরল. স্টষ্ট। বড়ে গুলাম আরী খানের সংগীতে স্বরের দূর্বলতা ঢাকতে কোন পর্দার প্রয়োজন হয়নি কখনো। তিনি শব্দ উচ্চারণ করতেন ধীরে। এমনকি যুক্তব্যঞ্জনের উচ্চারণও স্পষ্ট হতো। তিনি উচ্চঃস্বরে গাওয়ার সময়ই উচ্চারণের স্পষ্টতা ধরে রাখতে পারতেন। তারানা গাওয়ার সময় এটা স্পষ্ট হয়ে উঠতো। বড়ে গুলাম আলী যখ্ন সংগীত দুনিয়ায় পা রাখেন, তখন শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলো শ্রোতাদের মাতিয়ে চোখ কান্ ঝলসে দেবার রীতি। কিন্তু তিনি স্বীকৃতির জন্য এমন সহজ পথে হাটেন নি। তিনি কখনোই রাগ, তাল. তকম্পোজিশন নিয়ে চমক সৃষ্টি করতে জোরাজুুরি করেন নি। বরং তার অকথিত নীতি ও বিশ্বাস ছিলো যে, আপনি যদি আপনার সংগীত দিয়ে সাধারণ মানুষকে আবেশিত করতে পারেন, তা হলে সংগীত সমঝদাররাও মুগ্ধ হবেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রথম সারির গায়ক হলেও তিনি সেভাবে কখনওই চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঙ্গীত পরিচালকদের কাছ থেকে অনুরোধ স্বত্ত্বেও সুদীর্ঘকাল চলচ্চিত্রে গান পরিবেশন করা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। কিন্তু কে আসিফের উদ্দীপনায় সঙ্গীত পরিচালক নওশাদের সাথে ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুঘল-ই-আজম চলচ্চিত্রে সোহনি ও রাগেশ্রীভিত্তিক দুইটি গানে অংশ নেন। তিনি অতি উচ্চমাত্রার পারিশ্রমিক দাবী করেন। প্রতি গানের জন্য তিনি ২৫০০০ রূপী নেন, যেখানে জনপ্রিয় ও তারকা নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে লতা মঙ্গেশকর ও মোহাম্মদ রফি গান প্রতি ৫০০ রূপীর কম অর্থ পেতেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দিকপাল শিল্পী বড়ে গুলাম আলীর আজ ৫২তম মৃত্যূুবার্ষিকী। ১৯৬৮ সালের আজকের দিনে তিনি ভারতের হায়দ্রাবাদে মৃত্যুবরণ করেন। ​কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী বড়ে গুলাম আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


বড়ে গুলাম আলী খান ১৯০২ সালের ২ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিম পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরের কাছে ছোট্ট শহর কাসুরের এক সঙ্গীত ধারক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কাসুর বর্তমানে পাকিস্তানের অংশবিশেষ। তার বাবা গায়ক আলী বক্স খান। পাঁচ বছর বয়সে পৈতৃক সম্পর্কীয় চাচা কালে খান ও পরবর্তীকালে বাবার কাছ থেকে কণ্ঠ সঙ্গীতে দীক্ষিত হন বড়ে গুলাম আলী খান। বিভিন্ন সময়ে লাহোর, বোম্বে, কলকাতা ও হায়দ্রাবাদে অবস্থান করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর পাকিস্তানে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। ১৯৫৭ সালে বোম্বের তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী মোরারজি দেসাইয়ের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন ও মালাবার হিল মুম্বইয়ের একটি বাংলোয় বসবাস করতে থাকেন। বড়ে গুলাম আলী চল্লিশের দশকের শেষদিকে যখ্ ভারতীয় সংগীতের মঞ্চে আবির্ভূত হলেন তখন ঠুমরিতে প্রতিষ্ঠিত ঘরানা ছিলো বেনারস ও লখনৌ। বেনারস তার গাম্ভীর্য আর লখনৌ গজল সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বাঁধাধরা ছকে আটকে গিয়েছিলো। ঠুমরিরর কথা, উপস্থাপনা ও রীতি সবই প্রথাবদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। নতুন কিছুর সংযোজন খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সঙ্গীতের সেই কানাগলি থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিলো সংগীেরে সৃষ্টিশীলতা। এটা করতে গিয়ে তি্নি ঠুমরি ও টপ্পার সংযোজন ঘটান। তার টপ্পা তার ঠুমরিকে প্রভাবিত করেছে, পরিনতিতে তার খেয়ালও প্রভাবিত হয়েছে।


বড়ে গুলাম আলী খান কখনো নিজেকে শিক্ষিত গায়ক হিসেবে দাবী করেন নি। বড়ে গুলাম আলী বলতেন সংগীত হচ্ছে খেলা, নাচ কিংবা ঢেউয়ের মতো। তার এই ইপ্রেশনস্টিক মনোভাব থেকে বোঝা যায় তিনি সংগীতকে গাম্ভীর্য থেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। সংগীতকে তিনি সিরিয়াস ভঙ্গি থেকে উপভোগ্য করতে চেয়েছেন। তিনি সবসময় বলেছেন তিনি কেবল অল্প কয়েকটি রাগ জানেন। তিনি মূলত মানুষের মেজাজ মনোভাবাসম্পর্কিতরাগ গাইতেন। তিনি লোক সুর পাহাড়ির ১৫টিভিন্ন ভিন্ন সুর গা্ইতে পারতেন। সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বড়ে গুলাম আলী ১৯৬২ সালে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত হন। অদ্যাবধি বড়ে গুলাম আলী খান ইয়াদগার সভা তার শিষ্য মালতি জিলানী কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। এ সভার মাধ্যমে তার গান ও স্মৃতি কথাগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। বাঁশেরবাগের প্রধান রাস্তাটি তার সম্মানে নামাঙ্কিত হয়েছে। ১৯৬৮ সালের ২৩ এপ্রিল তারিখে হায়দ্রাবাদের বাঁশেরবাগ প্যালেসে তার দেহাবসান ঘটে। জীবনের শেষের বছরগুলোয় দীর্ঘদিনের অসুস্থতাজনিত কারণে আংশিক পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পুত্র মুনাওয়ার আলী খানকে সহায়তার লক্ষ্যে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দিকপাল শিল্পী বড়ে গুলাম আলীর আজ ৫২তম মৃত্যূুবার্ষিকী। ​কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী বড়ে গুলাম আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

***সামুর পাঠকদের জন্য বড়ে গুলাম আলী খানের মুঘল ই আজম ছবির গান প্রেম যোগান বানকে সুন্দরী নিবেদন করা হলো আশা করি ভালো লাগবে।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:১২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×