somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক স্যার আবদুল করিম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী স্যার আবদুল করিম গজনভি। একাধারে তিনি ছিলেন একজন পর্যটক বঙ্গীয় শাসন পরিষদ, বঙ্গীয় প্রাদেশিক ও ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, মুসলিম শিক্ষার সংস্কারক এবং বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে আবদুল করিম গজনবী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বঙ্গ বিভক্তির সমর্থক ছিলেন। করিম গজনবী ব্রিটিশপন্থী ছিলেন তাই সরকার কর্তৃক মনোনীত হয়ে স্যার আবদুল করিম গজনবী বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯০৯ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের মুসলমান এলাকা থেকে ইম্পিরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে এবং ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গ প্রেসিডেন্সির মুসলমান এলাকা থেকে ভাইসরয়েস কাউন্সিলে সরকার মনোনীত সদস্য ছিলেন। মুসলিমদের উপকারের জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন। সৈয়দ আমির আলি প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশনের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। এর মাধ্যমে মুসলিমদের অভিযোগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি তুলে ধরতেন। বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক স্যার আবদুল করিম গজনভি’র মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৯ সালের আজকের এই দিনে কলকাতার বালিগঞ্জে নিজ বাসভবনে ব্রাঙ্কো-নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। আজ স্যার আবদুল করিম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক স্যার আবদুল করিম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আবদুল করিম গজনভি ১৮৭২ সালের ২৫ আগস্ট বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার গ্রামের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল হাকিম খান গজনভি এবং মা করিমুন নেসা খানম চৌধুরানী। আবদুল হাকিম খান গজনভি ছিলেন দেলদুয়ারের জমিদার। স্যার আবদুল হালিম গজনভি ছিলেন তার ছোট ভাই। নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার খালা ছিলেন। আবুল আসাদ মুহম্মদ ইবরাহিম সাবের ও আবু জায়গাম মুহম্মদ খলিল সাবের ভ্রাতৃদ্বয় তার মামা ছিলেন। আবদুল করিম গজনভি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন রাজনীতিবিদ, পর্যটক, মন্ত্রী, বঙ্গীয় শাসন পরিষদ, বঙ্গীয় প্রাদেশিক ও ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, মুসলিম শিক্ষার সংস্কারক। মুসলিমদের উপকারের জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন সব সময়। সৈয়দ আমির আলি প্রতিষ্ঠিত সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। এর মাধ্যমে মুসলিমদের অভিযোগ ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি তুলে ধরতেন।আবদুল করিম গজনভি ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারের এক্সমাউথের সেন্ট পিটার্স স্কুল, লন্ডনের মেসার্স রেন এন্ড গার্নেজ ইনস্টিটিউশন ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। এরপর জার্মানির জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল পড়াশোনা করেছেন। তিনি ইউরোপ সফর করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। ১৮৯০ সালে তিনি আইসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। লেখাপড়ায় তিনি তার বিদ্যানুরাগী মায়ের উৎসাহ পেয়েছিলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পর তিনি পৈতৃক জমিদারি পরিচালনায় নিয়োজিত হন। পূর্বপুরুষ ফতেহদাদ খান গজনভি লোহানির কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে জমিদারি তাদের কাছে পৌছায়। তার পূর্বপুরুষরা আফগানিস্তানের গজনি থেকে বাংলায় এসেছিলেন বলে জানা যায়। এর ফলে তাদের পদবী গজনভি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গভঙ্গের সময় সময় তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন দেন। কংগ্রেস নেতারা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। এ কারণে বঙ্গভঙ্গ বিরোধীরা তাকে ভ্রান্ত গজনভি বলে অভিহিত করতেন। অন্যদিকে প্রদেশের গভর্নর স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার তাকে ন্যায়পন্থি বলে অভিহিত করেছিলেন। নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের মুসলিম নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি ১৯০৯ সাল থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯১৩ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মুসলিম এলাকা থেকে ভাইসরয়ের কাউন্সিলে সরকার মনোনীত সদস্য ছিলেন। কাউন্সিলের সদস্য থাকাকালীন সময়ে তিনি হাজিদের যাতায়াতের বিষয়ে তদন্ত করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। মক্কা ও মদিনায় হাজিদের যাতায়াত নিয়ে আলোচনার জন্য ১৯১৩ সালে ভারত সরকার তাকে হেজাজের তৎকালীন শাসক হুসাইন বিন আলির নিকটে প্রেরণ করে। এসময় তিনি সিরিয়া ও ফিলিস্তিন ভ্রমণ করেছিলেন।


মুসলিমদের শিক্ষার উন্নতির উদ্দেশ্যে ১৯১৪ সালের ৩০ জুন গঠিত ডি পি আই ডব্লিউ ডব্লিউ হর্নেলের নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের কমিটিতে তিনি অন্যতম বেসামরিক সদস্য ছিলেন। এই কমিটির নাম ছিল মোহামেডান এডুকেশন এডভাইজারি কমিটি। মুসলিমদের জন্য কারিগরি ও বাণিজ্যিক শিক্ষার প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করতেন এবং নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। শাসনকাজে ভারতীয়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য ১৯১৯ সালে ভারত সরকার আইন ১৯১৯ প্রণীত হয়। আইন অনুযায়ী ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক সভার ১৯২৪-১৯২৬ মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহের দক্ষিণ-পশ্চিমের মুসলিম নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রতিনিধি হিসেবে সভার সদস্য হন এবং ১৯২৪ সালে দুই মাস মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ১৯২৭ সালে ১৯২৭-১৯২৯ মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত তৃতীয় নির্বাচনেও তিনি এই এলাকা থেকে জয়ী হন এবং সেই বছর সাত মাস মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৯২৮ সালে নাইট খেতাব দেয়। ১৯৩৩ সালে তিনি নবাব বাহাদুর খেতাব পান। আবদুল করিম গজনভি তিনটি বই লিখেছেন। এগুলি হল পিলগ্রিম ট্রাফিক টু হেজাজ এন্ড প্যালেস্টাইন, মুসলিম এডুকেশন ইন বেঙ্গল ও দ্য ডাইয়ারকিয়াল সিস্টেম ইন বেঙ্গল। ১৯৩৯ সালের ২৪ জুলাই কলকাতার বালিগঞ্জে নিজ বাসভবনে ব্রাঙ্কো-নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। আজ স্যার আবদুল করিম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক স্যার আবদুল করিম গজনবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×