somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবসঃ চক্ষু রোগ নির্মূলে সচেতনতার বিকল্প নাই

০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। প্র্তি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্ধত্ব এবং চোখের বিকলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গোটা বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। ২০০০ সালে লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক অনুষ্ঠিত সাইট-ফার্স্ট-ক্যাম্পেইনের ফলশ্রুতিতে এই দিবসের শুরু হয়। ২০০০ সলের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ৩২ কোটি মানুষ চোখের রোগে ভুগছে। যাদের মধ্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দৃষ্টিহীনতা এবং বাকি ২৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষ স্বল্প দৃষ্টি কিংবা চোখের অন্য কোন রোগে ভুগছে। চোখের রোগীর দুই-তৃতীয়াংশই নারী। এদের প্রতি সহানুভূতি জানানোর জন্য এবং অন্ধত্ব এবং চোখের বিকলতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সরকার/মন্ত্রণালয়কে অংশগ্রহণে প্রভাবিত করতে এবং জাতীয় অন্ধতা প্রতিরোধ কর্মসূচীর জন্য তহবিল নামকরণ করা এবং কাঙ্ক্ষিত শ্রোতাবর্গকে অন্ধতা প্রতিরোধ সম্পর্কে অবহিত করতে প্রতি বছর ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আন্তর্জাতিক অন্ধতা দূরীকরণ সংস্থার পরিচালনায় এই দিবসটি বহুল ভাবে প্রচারিত হয়ে ভিশন ২০২০ পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর, বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের বিষয়বস্তু ছিল- "আর নয় অবজ্ঞাপূর্ণ অন্ধতা"। যা ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের মধ্যে নিরাময়যোগ্য অন্ধত্বকে নির্মূল করার স্লোগান নিয়ে বিশ্বব্যাপী চোখের যত্ন নেওয়ার জন্য গণসচেতনতা তৈরি, চক্ষু রোগ নির্মূলে প্রভাবিত করা, চোখের যত্ন নেওয়ার তথ্য জনগণের কাছাকাছি আনাই হলো বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের লক্ষ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে নানান আয়োজন করছে হাসপাতালগুলো। চোখের যত্ন নেওয়ার জন্য গণসচেতনতা তৈরি, চক্ষু রোগ নির্মূলে প্রভাবিত করা, চোখের যত্ন নেওয়ার তথ্য জনগণের কাছাকাছি আনাই হলো বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের লক্ষ্য।


আগেই বলা হয়েছে ২০০০ সালে বিশ্বে সাড়ে চার কোটি মানুষ পুরোপুরি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলো। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। কারণ বর্তমানে প্রতি ৫ সেকেন্ডে এক জন বয়স্ক মানুষ এবং প্রতি এক মিনিটে একটি শিশু অন্ধ হয়ে পড়ছে। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৯০ শতাংশ অন্ধ মানুষের বাস উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ সব দেশের দৃষ্টিহীনদের সমস্যা সমাধানে যে সব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কাজ করছে তাদের একটি আন্তর্জাতিক জোটের নাম ভিশন-২০২০। অন্ধত্ব নিবারণে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা, সম্পদ সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে মিলে জাতীয় অন্ধ নিবারণ কর্মসূচি গড়ে তোলাই এ সংস্থার কাজ। শপথ নেওয়া হয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে অন্ধত্বমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করেছে ব্যাপক কর্মসূচি। যার প্রথমটি হচ্ছে অন্ধত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। বিশ্বব্যাপী ১৫ শতাংশ অন্ধত্বের মূলে রয়েছে ট্রাকোমা নামক এক ধরনের চোখের ইনফেকশন। আফ্রিকা অঞ্চলে এ জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। ভিশন-২০২০-এর আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ট্রাকোমা’ নির্মূলের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশার কথা হচ্ছে বিশ্বের অন্ধজনদের অন্তত ৮০ ভাগ অন্ধত্ব দূর করা সম্ভব অথবা সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এ সংখ্যা কমানো সম্ভব। আর সে লক্ষ্যকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া, লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই পালিত হয় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। বাংলাদেশে সাড়ে সাত লাখ মানুষ অন্ধত্বের শিকার। এর শতকরা ৮০ ভাগই ছানিজনিত অন্ধত্ব। এ ছাড়া অন্ধত্বের অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে নানাবিধ দৃষ্টি ত্রুটি, গ্লুকোমা, আঘাতজনিত চক্ষু রোগ, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি ও শিশু অন্ধত্ব।
জাতীয় অন্ধত্ব পরিসংখ্যান (১৯৯৯-২০০০) এবং শিশু অন্ধত্ব গবেষণা ২০০২-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩০ বছর বা তারও বেশি বয়স্ক লোকের মধ্যে প্রায় ছয় থেকে আট লাখ লোক অন্ধ। প্রায় চল্লিশ হাজার শিশু অন্ধত্ব নিয়ে বেঁচে রয়েছে। চোখের যত্নে ভিটামিন এ, সি, ডি, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম এবং সামুদ্রিক মাছ জাতীয় খাবার। এগুলো চোখের স্বাভাবিক গঠন, কাঠামো ঠিক রাখবে। এ ছাড়া দৃষ্টিশক্তি বাড়াবে, চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করবে। তাই চোখের যত্ন নিন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।


দৃষ্টি দিবসকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুযোগের দাবি জানিয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। এ জন্য গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের সামনের সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। ‘চাকরিপ্রত্যাশী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদ’র ব্যানারে শতাধিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বেকারভাতা সহ ‘ছয় দফা’ দাবিতে দীর্ঘ এক বছর রাজপথে আন্দোলন করেছেন দেশের উচ্চশিক্ষিত বেকার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নবম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ। গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের দশম গ্রেডভুক্ত ৩৮ নম্বর রিসোর্স শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ওই পদে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য শুধু উপযুক্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রুতিলেখক নীতিমালা সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরি পরীক্ষাতেও কার্যকর করা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা বেকার ভাতা দেওয়ার দাবী জানানো হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের দাবী সভানূভূতির সাথে বিবেচনা করা হবে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৫১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×