somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় ও সাহসী ছয় নারী গুপ্তচর

১১ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গুপ্তচর শব্দটিই ভীতিকর। এই বুঝি সবার অলক্ষ্যে ভয়ানক গোপন সংবাদটি গোপনে পাচার করে দিয়ে গোপনে চলে গেল গুপ্তচর। শোষণকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মূলত গুপ্তচরদের সৃষ্টি। প্রথমদিকে প্রাসাদের অভ্যন্তরে রাজা-বাদশার শত্রুদের গোপনে হত্যার কাজ করতো তারা। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা সংস্থার হয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখে অন্যের গোপনীয়তা যারা নষ্ট করে দিতো গুপ্তচর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শীতল যুদ্ধের সময় গুপ্তচরদের দৌরাত্ম দেখা যায় দেশে দেশে। আগে গুপ্তচররা শুধু তথ্য পাচারের কাজ করতো। কিন্তু শীতল যুদ্ধচলাকালীন সময়ে ইসরায়েল তার গুপ্তচরদের প্রথমবারের মতো ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। ১৯৭২ সালের অলিম্পিককেন্দ্রিক এক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পরবর্তী কুড়ি বছর ধারাবাহিক অসংখ্য গুপ্তহত্যা যার স্বাক্ষ্য বহন করে।নারীর কাজ কি কেবল সংসারের হাড়ি ঠেলা? উঁহু! নারীরা নানাক্ষেত্রে কাজ শুরু করেছে অনেক অনেক আগে থেকেই। তেমনই এক চ্যালেঞ্জিং পেশা হল গুপ্তচর হয়ে কাজ করা। আজ আলোচনায় আসবে পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় ও সাহসী ছয় নারী গুপ্তচর!


১| মারিতা লরেঞ্জঃ লাতিন আমেরিকার দুই প্রবাদ পুরুষ কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো এবং ভেনেজুয়েলার জেনারেলিসিমো মারকোস পেরেজ জিমেনেজের প্রেমিকা ছিলেন লরেঞ্জ। যাদের প্রত্যেকেই তার ঔরসে নিজ সন্তান জন্মের দাবি করেছেন। সিআইএ’র ব্ল্যাক অপারেশনে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে মারিতার বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনটি বিয়ের কথা শোনা যায়। এমনকি এক গ্যাংস্টারের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আরেকটি শিশুর জন্মদানের গুজবও শুনতে পাওয়া যায় লরেঞ্জকে নিয়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যাকান্ড উন্মোচনের মূল চাবিকাঠিও নাকি মারিতার হাতে ছিল। সেই শীতল গল্পের সত্যতা যাচাইয়ের কোনো উপায় নেই। মারিতা লরেঞ্জ নিজেই এক সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেন, তাকে গুলি করা হয়েছে, বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ করার চেষ্টা চলেছে, মাদকের শিকার বানানো হয়েছে, তার উপর পিস্তলের আঘাত হানা হয়েছে, চাবুকপেটা করা হয়েছে। এমনকি আমাজনের রেইন ফরেস্টে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে আসা হয়েছে। কিন্তু লরেঞ্জ প্রতিবার হিমশীতল মৃত্যুকে হার মানিয়েছেন।
১৯৬০ সালের ৪ ডিসেম্বর, মারিতা কিউবাতে আসেন; লক্ষ্য ফিদেল কাস্ত্রোকে চিরদিনের মতো নিস্ক্রিয় করা, তথা হত্যা করা। সিআইএ মারিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলো বটুলিজম নামক দুটি বিষাক্ত ট্যাবলেট। মারিতার উপর নির্দেশ ছিলো বিষাক্ত ট্যাবলেট দুটি পানীয়তে মিশিয়ে কাস্ত্রোর হাতে তুলে দেবার, যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডে নিশ্চিত করবে কাস্ত্রোর মৃত্যু। এমনকি এই কাজ সম্পন্ন করার আগে মারিতার হাতে গাটস পিল নামক দুটি ট্যাবলেট তুলে দেওয়া হয়েছিলো, যা খেলে মারিতার চিন্তাশক্তি একাগ্র হবে, হত্যাকান্ডে তিনি বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হবেন না। মারিতা বিষাক্ত ট্যাবলেট দুটি প্রসাধনী ক্রিমের মাঝে লুকিয়ে কিউবায় নিয়ে আসেন। কিউবায় কিলিং মিশন হাতে পৌঁছান মারিতা লরেঞ্জ। সেই চিরপরিচিত হোটেল হাভানা হিলটন। স্যুইট নাম্বার ২৪০৮। এই কক্ষেই কত না রাত কাটিয়েছেন তিনি। আজ সেই কক্ষে দুরু দুরু বক্ষে তার প্রেমিক কাস্ত্রোকে হত্যা করতে হবে। বাইরে সিআইএ'র গুপ্তচর অপেক্ষমান। তারা একইসাথে সময় ও মারিতার উপর নজর রাখছেন, যেন কিলিং মিশন ব্যর্থ না হয়। অবশেষে ক্লান্ত-শ্রান্ত কাস্ত্রো তার কক্ষে ফিরে এলেন।
কাস্ত্রোকে দেখার পূর্বেই স্মৃতিকাতর মারিতা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি তার ভালোবাসাকে হত্যা করতে পারবেন না। কাস্ত্রো মারিতাকে দেখেই প্রথম প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, তুমি কি এখনো আমার বিরোধীদের সাথে মিয়ামিতে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছো? মারিতার উত্তর ছিল, হ্যাঁ। কাস্ত্রোর দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, তুমি কি সিআইএ'র হয়ে কাজ করছো? মারিতার উত্তর ছিল, আমি শুধু নিজের হয়ে কাজ করি। কাস্ত্রোর পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, তুমি কি আমায় হত্যা করতে ফিরে এসেছো? মারিতার উত্তর ছিল, হ্যাঁ। কিন্তু আমি তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি। কাস্ত্রো প্রত্যুত্তরে খুশি হয়ে বলেছিলেন, ভালো, খুব ভালো। ইতোমধ্যে দুঃসাহসী কাস্ত্রো মারিতার হাতে নিজের লোডেড .৪৫ পিস্তলটি তুলে দিয়েছেন। মারিতা পিস্তলের চেম্বার চেক করে গুলিভরা পিস্তলটি কাস্ত্রোর দিকে তাক করেন। কাস্ত্রো একনজর মারিতার দিকে চেয়ে বলেন,
তুমি আমায় মারতে পারবে না, কেউ আমাকে হত্যা করতে পারবে না।
এই বলে কাস্ত্রো মারিতাকে জড়িয়ে ধরেন। পরদিন কাস্ত্রোকে ঘুমের মধ্যে রেখেই ব্যর্থ মারিতা লরেঞ্জ মিয়ামিতে ফিরে আসেন। এই একবারই মারিতা লরেঞ্জ তার মিশনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি তার প্রথম ভালোবাসা ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তী বহু মিশন তিনি সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েছেন।


২| মাতা হারিঃ
সৌন্দর্য আর বুদ্ধির এমন দারুণ মিশেল খুব খুঁজলেও পাওয়া সম্ভব নয়। বলছিলাম ইতিহাসের দুর্ধর্ষ নারী স্পাই বা গুপ্তচর মাতা হারির কথা। মার্গারেটা গারট্রুড জেল্লে। ডাচ কন্যা মাতা হারির আসল নাম ছিল এটিই। ১৯০৫ সালে কাজ শুরু করেন এই নারী। আর নিজের সৌন্দর্যকে খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করে জিতে যান অনেক বাজি। প্রচণ্ড ভালো নাচতে পারতেন মাতা হারি। বার্লিন, ভিয়েনাসহ নানাদেশে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রচুর সঙ্গী জুটিয়ে নেন তিনি। ১৯১৪ সালে এই সঙ্গীদের সাহায্যেই সারা বিশ্বে ছুটে বেড়ান মাতা হারি। ১৯১৭ সালে ফ্রেঞ্চ প্রশাসন মাতা হারি জার্মানদের হয়ে কাজ করছেন- এমনটা অভিযোগ তোলেন। ডাবল এজেন্ট হয়ে দুই দেশের জন্য কাজ করার অভিযোগে ১৯১৭ সালে, ৪১ বছর বয়সে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এই নারী গুপ্তচরকে। মাতা হারি কি আসলেই দুর্ধর্ষ স্পাই ছিল? নাকি সুখময়, আনন্দময় এক জীবনের স্বপ্ন দেখা উচ্চাকাঙ্খী এক নারী ছিল যাকে যুদ্ধের রাজনীতির মারপ্যাঁচের বলি হতে হয়? এ নিয়ে নানা বিতর্ক, মতভেদ আর গল্পের শেষ নেই। মাতা হারিকে নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক বই, আর্টিকেল আর তৈরী হয়েছে চলচ্চিত্র। শারীরিক সৌন্দর্য, আবেদনময় নৃত্য, শৈল্পিক যৌনতার খ্যাতি বলুন আর কুখ্যাতিই বলুন এসবের সাথে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে মাতাহারি ইতিহাসে হয়ে আছে এক কিংবদন্তি!


৩। ন্যান্সি ওয়েকঃ
ন্যান্সি গ্রেস অগাস্টা ওয়েক একজন ব্রিটিশ এজেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে কাজ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ফ্রান্স রেজিসটেন্সের গেরিলা বাহিনী মাকিস এর একজন নেতৃস্থানীয় এজেন্ট ছিলেন এবং যুদ্ধে একজন নিবেদিত প্রান সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০ সালে জার্মানি ফ্রান্স আক্রমণ করলে তিনি ফ্রান্স রেজিসটেন্সের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেন ও পরে ক্যাপ্টেন অইয়ান গ্যারোর নেতৃত্বাধীন গেরিলা বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪২ সালের পর গেস্টাপো বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় শীর্ষ ব্যক্তি ছিলেন ন্যান্সি ওয়েক এবং তখন তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের জন্য সাহসীভাবে কাজ করেন ন্যান্সি। তার মাথার দাম ৫ মিলিয়ন ফ্র্যাঙ্ক ধরা হয় সেসময়। আন্ডারকভার কাজ করার সময় একবার ৩০০ মাইল সাইকেল চালিয়ে জার্মানির বর্দারে যান ন্যান্সি শুধু একটি কোড বদল করার জন্য। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তাকে স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভ পদে উন্নীত করা হয়। গেস্টাপোর কাছে হোয়াইট মাউস নামে পরিচিত এই নারী দূর্দান্ত কাজ করেন পুরটা সময়। তবে যুদ্ধ থেমে গেলে নিজের স্বামীকে মৃতাবস্থায় দেখতেপান ন্যান্সি। গেস্টাপো ন্যান্সির খোঁজ জানার জন্য তার স্বামীকে মেরে ফেলে।


৪। এথেল রোজেনবার্গঃ
১৯১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন এথেল রোজেনবার্গ। এর আগে ১৯১৮ সালে এথেলের ইহুদি বাবা-মা নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানেই ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন এথেল। আমেরিকার বাসিন্দা হয়েও একটা সময় গুপ্তচরের কাজ শুরু করেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে। ১৯৫৩ সালে এই দম্পতি আমেরিকার কাছ থেকে অ্যাটমিক বোমা বা পারমাণবিক বোমার গোপন খবর পাচার করেন সোভিয়েত ইউনিয়নে। এ সময় তারা সাহায্য নেন এথেলের ভাই-এর। ভাই তার স্ত্রী রুথকে বাঁচাতে গিয়ে রাজি হয়ে যান বোন এথেলের কথায়। কিন্তু একটা সময় সব খবর ফাঁস হয়ে যায়। পরে জুলিয়াস নিজের দোষ স্বীকার করে নিলেও এথেল কখনোই পারমাণবিক বোমার ব্যাপারে নিজের কোনোরকম সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে সব প্রমাণ এর ভিতরেই হাতে চলে আসে আমেরিকান সরকারের। ১৯৫৩ সালের ১৯ জুন ফাঁসি দেওয়া হয় এথেল ও তার স্বামীকে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে এটমিক বোমা বানানোর তথ্য সরবরাহ করার জন্য ১৯৫৩ সালে এথেল ও তার স্বামীকে সিং সিং কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে ইলেক্ট্রিক চেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে মেরে ফেলা হয়। তবে নিজেদের কোন অপরাধ স্বীকার করেননি এই দম্পতি। শুধু তাই নয়, নিজেদের সাথে আর কেউ আছনে কিনা বা কারো সম্পর্কে কিছু জানেন কিনা সেটাও বলতে চাননি তারা।পুরো দেশ এই সময় কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ এথেল ও তার স্বামী বলির পাঠা হয়েছেন এমনটা মতামত দেন। অনেকে এটাকেই ঠিক বলে ভাবেন।


৫।অ্যানা চ্যাপম্যানঃ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া রাশিয়ার একজন গুপ্তচর অ্যানা চ্যাপম্যান। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করতেন। ২৭ জুন, ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটান থেকে অন্য আরো নয়জনের সাথে তাকে গেফতার করা হয়, অবৈধভাবে রাশিয়ান ফেডারেসন’স এক্সটারনাল ইন্টেলিজেন্স এর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরাবৃত্তি করার জন্য। বিচারে অ্যানাকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে প্রধান বিচারপতিকে না জানিয়ে বিদেশী সংস্থার হয়ে গুপ্তচরাবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১০ সালের ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বন্দি বিনিময় চুক্তির অওতায় যুক্তরাষ্ট্র অ্যানাসহ বাকী নয়জনকে রাশিয়ায় ফেরত পাঠায় এবং রাশিয়া তাদের হাতে বন্দি থাকা চার মার্কিন গোয়েন্দাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠায়। রাশিয়ার ‘আগুনচুলো সুন্দরী’ নামে বেশি পরিচিত অ্যানা চ্যাপম্যান। অবৈধ তথ্য সংগ্রহে ও সরবরাহের জন্য স্লিপিং সেল হিসেবে কাজ করছিলেন অ্যানা। মোট নয়জনের সাথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেজিবি অফিসারের মেয়ে অ্যানার আইকিউ লেভেল ১৬২। ২০০১ সালে অ্যালেঙ্ক চ্যাপম্যান নামক এক ব্রিটিশকে বিয়ে করেন অ্যানা। কিছুদিন বাদেই অবশ্য ডিভোর্স নিয়ে ম্যানহাটনে চলে যান অ্যানা। সেখান থেকেই কাজ করতে থাকেন। ২০১০ সালে ভূয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করার সময় অ্যানাকে গ্রেপ্তার কিরা হয়। গ্রেপ্তারের পর অ্যানাকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেখানে থেকেও এখনো কাজ করে চলেছেন অ্যানা।


৬। জোসেফাইন বাকেরঃ
জোসেফিন বাকের ছিলেন আমেরিকান বংশদ্ভুত ফ্রেন্স নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেত্রী। তার আসল নাম ফ্রেদা জোসেফিন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি ১৯০৬ সালে মিসৌরির সেন্ট লুইসে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৯৩৭ সালে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব পান। ফ্র্যান্স ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই অনর্গল কথা বলতে পারা বেকার আন্তর্জাতিক সংঙ্গীত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলেন অন্যতম নারী। বিভিন্ন সময় তাকে কয়েকটি ডাকনাম প্রদান করা হয়েছিল। যেগুলোর মধ্যে “ব্রোঞ্জ ভেনাস”, “দ্য ব্ল্যাক পার্ল” ও “ক্রিউল দেবী”। শুধু গুপ্তচর হিসেবে নয়, জোসেফাইন বাকের পরিচিত গায়িকা, অভিনেতা, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং নাচিয়ে হিসেবেও। ১৯২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্যারিসে চলে আসেন জোসেফাইন। সেখানে উদ্ভট নৃত্যের মাধ্যমে পরিচিতি কুড়ান। ১৯৩৯ সালে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে ফ্রেঞ্চ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পুরো ইউরোপ জুড়ে হওয়া দূতাবাস ও অন্যান্য স্থানের পার্টিগুলোতে থেকে জার্মান সেনাদের গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেগুলো সরবরাহ করাই ছিল জোসেফাইনের কাজ। পরিচিতি থাকার কারণে নাজিরাও তাকে সন্দেহ করেনি। নিজের গানের পাতায় অদৃশ্য কালি দিয়ে তথ্য লিখতেন জোসেফাইন। যুদ্ধ শেষে আমেরিকা চলে আসেন এই নারী। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করতে থাকেন। এসময় ক্লু ক্লুক্স ক্ল্যান থেকে মৃত্যুর হুমকি পান জোসেফাইন।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৯
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×