
আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যাথা মানুষের শরীরে হাড়ের দুই জয়েন্টের প্রদাহজনিত একটি রোগ। আর্থ্রাইটিস সাধারণত গিরার প্রদাহ বোঝানো হয় যা সন্ধিবাত নামেও পরিচিত। জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ব্যথার মূল কারণ এর প্রদাহ। বিশ্বব্যাপী আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক।আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশন ‘আটল্যান্টা -এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে মানুষের কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারন বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ। আর্থ্রাইটিস রোগের অন্যতম উপসর্গ হলো তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। শরীরের যেকোনো হাড়ের জয়েন্টে এ রোগ হতে পারে, তবে বেশি ভার বহনকারী জয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ রোগের প্রধান উপসর্গ হলো- ঘাড়, কাঁধ, পিঠ, কোমর বা মাজায় অসহ্য ব্যথা হওয়া। এছাড়া হালকা জ্বর, ক্ষুধামন্দা এবং ওজন কমে যাওয়ার সমস্যা হয়। বাতের ব্যাথায় ১৯ শতাংশ মানুষ স্বাভাবিক কাজ করতে ব্যর্থ হয়। ২০১০ সালের এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে তাদের গড়ে প্রায় ১৮ দিনেরও বেশি কাজে অনুপস্থিত থাকতে হয়।এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস’। প্রতি বছর এই দিনটি বাত ব্যাথা বা আর্থ্রাইটিস বিষয়ে সচেতনতার জন্য পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বাত ব্যাথা নিয়ন্ত্রণের এখনই সময়’।

পৃথিবীতে বাত ব্যাথা বা আর্থ্রাইটিস মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার একটি অন্যতম কারণ। এই রোগে মানুষ শারীরিক অক্ষমতার জন্য কাজ করতে পারে না। আয়-রোজগার হতে বঞ্চিত হওয়ায় মানুষ ক্রমান্বয়ে গরীব হয়ে যায়। তারা জানান, বাংলাদেশে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগে এই বিষয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই বিভাগ ২০০১ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশে বাত ব্যাথা রোগের প্রকোপ নির্ণয়ের জন্য দুইটি গবেষণা করে। ২০০১ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের শতকরা ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ জীবনের কোন না কোন সময় বাত ব্যাথায় ভুগে থাকেন। ২০০৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশে। পুরুষের তুলনায় নারীরা এ রোগে বেশি ভোগেন। এক্ষেত্রে পুরুষের হার ২১ দশমিক ১ ভাগ এবং নারীদের হার ৩১ দশমিক ৩ ভাগ। আশঙ্কার বিষয় ১০ বছরের ব্যবধানে নারীদের হার প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষদের হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই এলাকায় পরিচালিত গবেষণা দুটোতে দেখা গেছে, বাত ব্যাথার কষ্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রকোপ কোমর ব্যাথায়। ২০১০ সালের হিসাবে ২১ দশমিক ২ শতাংশ; হাটু ব্যাথা ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। কাঁধের জোড়ার ব্যাথা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, কুঁচকি বা হিপ এর বাত ৭ দশমিক ১ শতাংশ, গোড়ালীর বাত ৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা থাকে এবং এ ব্যথা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। হাত-পায়ের ছোট ছোট জোড়া বেশি আক্রান্ত হয়। প্রায়ই সমানভাবে দুই পাশের অর্থাৎ ডান ও বাম দিকের জোড়াগুলোতে ব্যথা হয়। অনেক সময় ঘাড়েও ব্যথা হতে পারে। এ রোগের ব্যথা কাজ করলে কমে, বিশ্রাম নিলে বেড়ে যায়।সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা আস্তে আস্তে কমে আসে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবু শাহীন জানান, এ পর্যন্ত ৫০ এর অধিক চিকিৎসক এই বিভাগ থেকে রিউমাটোলজিতে এমডি ডিগ্রি লাভ করেছে। কিন্তু সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ না থাকায় এই বিশেষজ্ঞদের চিকিৎসা সেবার বিস্তার করানো যাচ্ছে না। এদেশের অনেক মানুষ বাতব্যাথা রোগের জন্য পাশ্ববর্তী দেশে গিয়ে অনেক টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু অপচিকিৎসা ও অন্যান্য কারণে তারা আরও দরিদ্র হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ চিকিৎসা চালানোর সক্ষমতা হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে রিউমটোলজি বিভাগ চালু ও পদ সৃষ্টি করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

