somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৭ অক্টোবরঃ আজ বিশ্ব ট্রমা দিবস

১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতি বছর গোটা বিশ্ব জুড়ে ১৭ই অক্টোবর বিশ্ব ট্রমা দিবস (World Trauma Day) পালন করা হয়। ট্রমা বলতে বোঝায়, শরীরে বা মনে সৃষ্ট কোন আঘাত। যেমন— পথ দুর্ঘটনা, আগুন লাগা, পুড়ে যাওয়া, হিংস্রতা, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন। এরকম বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মানুষের চিকিৎসা ও সেবায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দুর্ঘটনায় নিহত হয়। আহত হয় পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। উন্নয়নশীল দেশে ৫০ শতাংশ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এই ট্র্যাজেডির বার্ষিক পরিসংখ্যান হলো প্রায় আট হাজার মৃত্যু। প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবিলা করা যায়, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা নামক গণমৃত্যুর এই ফাঁদ কি কিছুতেই দূর করা যায় না? যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য দেখায়, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এবং মোটরসাইকেল যৌথভাবে ৫০ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনার কারণ ও শিকার। এরপর রয়েছে ১৯ শতাংশ বাস দুর্ঘটনা। অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের সমস্যা এবং চালকের ত্রুটি। এই দুটি কারণেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয়। সড়ক-মহাসড়কে অপমৃত্যুর এই স্থায়ী বন্দোবস্তই যেন বাংলাদেশে ‘নতুন স্বাভাবিকতা’। এটাই যেন অলঙ্ঘনীয় নিয়তি। বছর যায়, দশক যায়, কিন্তু সড়কে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনায় সত্যিই কিছু করা হয় না। সরকারি বয়ান যত গর্জে তত বর্ষে না। শ্রমিক ও সরকার উভয়ই যেন মালিকপক্ষের কাছে জিম্মি। পরিবহন খাতের মাফিয়াকরণ, সড়কে যান চলাচলের কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর দুর্নীতি এবং এসবের সুফলভোগী রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতার শিকার আমরা সবাই। তাই আহত মানুষের সেবা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্ব ট্রমা দিবস পালন করছে। দুঃখের বিষয় হল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হলেও বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে এ পর্যন্ত দিবসটি পালিত হয়নি। চিকিৎসকদের কয়েকটি সংগঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনের মধ্যেই দিবসটি পালন সীমাবদ্ধ রয়েছে।


ট্রমার কারণে রোগের হার এখন আতঙ্কজনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যত মানুষ নিহত হয়, তার চেয়ে তিন গুণ বেশি মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়; ১০ গুণ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় এবং ৩০ গুণ মানুষকে চিকিৎসা নিতে হয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২০০৩ সালের জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন। আর আহত হয়েছে ১৩ হাজার ৩৩০ জন। এই সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি। অবস্থা যা, তাতে ২০২০ সালের হিসাব ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। সড়ক-মহাসড়কে অপমৃত্যুর এই স্থায়ী বন্দোবস্তই যেন বাংলাদেশে ‘নতুন স্বাভাবিকতা’। এটাই যেন অলঙ্ঘনীয় নিয়তি। বছর যায়, দশক যায়, কিন্তু সড়কে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনায় সত্যিই কিছু করা হয় না। ধারণা করা হয়, বর্তমানে এ সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি। বাংলাদেশের সড়কে এমন সব করুণ কঠিন ট্র্যাজেডির জন্ম হচ্ছে প্রতিদিন। নিহত সংখ্যার চেয়ে তিন গুণ বেশি মানুষকে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। এতে শুধু অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার বাড়ছে তা নয়, বরং জাতীয় উৎপাদনে বিপর্যয় আনছে বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণদের মৃত্যুর কারণে। সুতরাং, আঘাত কমাতে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন।রোড ডিজাইনিং ট্রমা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, শুধুমাত্র রোড ডিজাইনিং দিয়ে ট্রমা কমানো সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য কিছু দায়িত্ব পালন করা। প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রয়োজন দায়িত্ব পালনের। মনে রাখবেন, প্রতিরোধ আরোগ্যের চেয়ে সব সময় উত্তম। ট্রমা কোনো দুর্ঘটনা নয়। সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এর প্রতিরোধ সম্ভব।
ট্রমা প্রতিরোধে মনে রাখার বিষয়ঃ কি কি করবেন
১। রাস্তা নিরাপত্তার নিয়মবিধি যত্নের সঙ্গে অনুসরণ করুন
২। গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা সংকেত এবং ট্রাফিক সিগন্যালে নজর রাখুন
৩। দু-চাকা বিশিষ্ট গাড়ি চালানোর সময় হেলমেট পরে গাড়ি চালান
৪। মোবাইল ফোন বা উচ্চ বাজনায় মন বিক্ষিপ্ত করে রাস্তা চলাচল করবেন না
৫। একটানা ড্রাইভিংয়ে মাঝেমধ্যে স্বল্প বিরতি নিন
৬। বৈদ্যুতিন তার ও স্যুইচ থেকে আপনার বাচ্চাকে দূরে রাখুন
৭। বাড়িতে বা গাড়িতে থাকাকালীন সবসময় ফার্স্ট এইড নিরাপত্তা কিট সঙ্গে রাখুন
৮। আপনার বাড়ির সিঁড়ি, জানলা, ব্যালকনি ও ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।
৯। সাধারণ জীবন রক্ষাকারী কৌশল শিখুন ও আহতদের সাহায্য করুন।


ট্রমা প্রতিরোধে মনে রাখার বিষয়ঃ কি কি করবেন না
১। ক্লান্ত থাকলে বা ঘুম পেলে বা মদ্যপান করলে গাড়ি চালাবেন না
২। তাড়াহুড়ো থাকলে গাড়ি চালানোর সময় কোনো ঝুঁকি নেবেন না
৩। গাড়ির খারাপ যন্ত্রপাতি ভালোভাবে মেরামত করে রাখুন
৪। সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা বা সুষুম্নায় কেউ আঘাত পেলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ঐ ব্যক্তিকে নাড়াচড়া করাবেন না
৫। অসচেতন বা অবচেতন কাউকে তরল পান করাবেন না


দুর্ঘটনায় কি করবেন ?
১। আপদকালীন হেল্পলাইনে সত্বর ফোন করুন ও যত দ্রুত সম্ভব যথাযথ সাহায্যের সুযোগ নিন। গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। (আপদকালীন ফোন নম্বর)
২। দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানাতে পুলিশ ডাকুন

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫২
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×