somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৃষ্টি ভঙ্গি ; জাপানি বৃদ্ধদের সেচ্ছা সেবক সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশি চিন্তা ।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাপানি বৃদ্ধদের নিয়ে আন্তর্জাতিক খবরের দুনিয়ায় অনেক রকমের খবর প্রকাশিত হচ্ছে । এই বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক রকমের দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তা ভাবনা প্রচলিত আছে । প্রতিযোগিতামুলক পৃথিবীতে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে
জীবনের গল্প কম বেশি এক । হয়তো ধরনটা আলাদা । খুব ছোট থেকে যখন একটা মানুষ বড় হতে থাকে সে ভাবে কবে বড় হবে । নিজের স্বাধীন চিন্তা আর জীবন উপভোগ করবে। যৌবন হারানোর দুঃখ পৃথিবীর সব মানুষের এক । পৃথিবীর বাস্তবতা আর সময়ের মায়াজালে মানুষের জীবন বড় অসহায় । জাপান আসার পর যা দেখলাম । পথে ঘাটে মাঠে ময়দানে অনেক বৃদ্ধ বৃদ্ধা । জাপানে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয় । ব্যয়বহুল জাপান জীবনে সবাইকে কাজ করতে হয় । কঠিন জীবনে তাই হয়তো অনেক সঠিক সময়ে বিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করতে পারেনা । তাই এখানে বৃদ্ধ বৃদ্ধা বেড়ে গিয়েছে । তরুন ছেলে মেয়েদের জীবন যুদ্ধের অনেক গল্প আছে । কিন্তু বৃদ্ধারা কি এই দীর্ঘ জীবনটা নিয়ে ক্লান্ত হয় । অনেকেই তা মনে করেনা । কারন এই দেশে সব মানুষের জন্য সব রকমের ব্যবস্থা আছে । বৃদ্ধদের অন্যদের কাছে নির্ভর করতে হয়না । সব নিয়ম অনুযায়ী চলে । এখানকার বাস ,ট্রেন ,প্লেন সব কিছুতেই বৃদ্ধদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে । কারন তারা এই যে অসহায় শ্রেণী তাদের মূল্য দিতে জানে । শুধু তা নয় এখানকার বৃদ্ধরা বিভিন্ন সামাজিক কর্ম কাণ্ডে ব্যস্ত থাকে । আপনি সব জায়গায় দেখবেন সামাজিক গঠনমূলক কাজ এ অনেক বৃদ্ধ মিলে সামাজিক সেচ্ছাবক দল গঠন করে । আমি প্রায় প্রতিদিন দেখি আমার বাড়িওয়ালা শুধু গাড়ী ঠিক করে । যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামি দেখি সে কাজ করেই যাচ্ছে । আমার জাপানি বৃদ্ধ বাড়িওয়ালা বেশ ধনী । একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম ,তোমাকে শুধু গাড়ি ঠিক করতে দেখি । এতো সুন্দর সুন্দর গাড়ি । তুমি কি ইঞ্জিনিয়ার ? সে লজ্জা পেল । জাপানি ভাষায় ইনিয়ে বিনিয়ে বলল ,আমার শখ ।আমি বৃদ্ধ কোন ব্যস্ততা নেই । আমি গাড়ি ভালবাসি । কিন্তু তবুও সে প্রকাশ করল না যে সে ইঞ্জিনিয়ার ছিল । অনেক দিন পর । অনেক গুলো বৃদ্ধ এক সাথে । হয়তো ওদের মিটিং হচ্ছে । তাদের মধ্যে দুই একজন খুব ভাল ইংরেজি বুঝে জানে । আমার বাড়িওয়ালা তার বৃদ্ধ বন্ধুদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল । তারপর আমি জানলাম অনেক কথা। আসলে এই ব্লকের সব বৃদ্ধ মিলে সেচ্ছাসেবকমুলক দল গঠন করেছে । তাদের কাছ থেকেই জানলাম আমার বাড়িওয়ালা এক সময় বড় ইঞ্জিনিয়ার ছিল । এখন সে সেবামূলক কাজ করে । তাদের সংগঠন থেকে নিজ এলাকায় কারও গাড়ি নষ্ট হলে তাদের সদস্যরা বিনা মূল্য ঠিক করে দেয় ।এর পর প্রথম বার যখন আমি ডাক্তারের কাছে যাবো , তখন জাপানি বুঝিনা ।হাসপাতালে গিয়ে কিছুই বুঝিনা । তখন হঠাৎ দেখি ইন্টারপ্রেটার চলে এসেছে । এটা ও ছিল বৃদ্ধদের দল ।বিদেশিদের সাথে নিজ ভাষা সংস্কৃতির বিনিময়ে অনেক অনেক বৃদ্ধ মিলে বিভিন্ন সংগঠন আছে । তারা নিজেরা নিজেরাই মিলে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে থাকে । কতোটা সততার সাথে করে তা নিজের অভিজ্ঞতা না থাকলে কেউ বুঝবে না । এর পর আমি ভাষা শিখবো । অনেক ভাষা স্কুল গুলোতে গিয়ে দেখি বেশির ভাগ বৃদ্ধ বৃদ্ধা । তারা বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজ করে জীবন উপভোগ করে । প্রতিটা জায়াগায় বৃদ্ধদের পদচারনায় মুখর । এই দেশে বৃদ্ধরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে । মানুষের সেবায় এবং সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের ভুমিকা রাখে । কারন তারা সচেতন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে । জাপান অনেক সুন্দর । অত্যন্ত নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলে সব নাগরিক । জনগন যদি সচেতন থাকে নিজ দেশ মানুষ নিয়ে সেখানে অন্য কোন শক্তি খুব তুচ্ছ ব্যপার । পক্ষান্তরে আমাদের দেশের বৃদ্ধ বৃদ্ধারা অধিকাংশ সময়ে নানা হতাশা আর অবহেলা নিয়ে জীবন পার করে । আমাদের দেশের বাস্তবতায় ছেলে মেয়ের চাকুরি বিয়ে বাচ্চা এমন অনেক নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ক্লান্ত । অবসর সময়ে ছেলে মেয়ের কাছ থেকে এতো বেশি প্রত্যাশা থাকে যে কোন প্রত্যাশাই পূরণ হয়না । আমাদের দেশের বৃদ্ধ বৃদ্ধা নিয়ে কোন গঠন মূলক চিন্তা ভাবনা নেই । সামাজিক উন্নয়নে অবসর প্রাপ্তরা তাদের অতীত অভিজ্ঞতা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহযোগিতা করতে পারে । বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের নিয়ে কোন আনন্দ বিনোদনের আয়োজন নেই । তাদের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা । তারা ও বিশ্বাস করে নেয় বৃদ্ধ হলে ছেলে কিংবা মেয়ের উপর গলগ্রহ জীবন যাপন করতে হবে। আমাদের দেশের কয়জন বৃদ্ধ বৃদ্ধা প্রত্যাশিত অবসর জীবন উপভোগ করতে পারে । যদি মধ্য বিত্ত সমাজ এর দিকে তাকাই অধিকাংস পরিবারেই ছেলে কিংবা মেয়ের পরিবার তাকে কিছু সাহায্য করবে সে প্রত্যাশা নিয়ে তার জীবন শেষ হয় । গ্রামে এর দিকে তাকাই একজন ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাবে সেই পরিবারের ছয় থেকে দশ জন ওই একজনের আয়ের উপর নির্ভর করবে । অথচ আমাদের গ্রাম গুলো উন্নয়ন হলে সেখানকার বৃদ্ধ বৃদ্ধারা নিজেদের সুন্দর জীবন খুজে পেতো । এটা তো অস্বীকার করার কিছু নেই । আমাদের দেশে কাজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ কোন দিন কোন সরকারের পক্ষে একা সম্ভব নয় । চাই জনগনের সচেতনতা । এই দেশ আমাদের । এই দেশের মানুষ আমাদের আত্মীয় । এই দেশের আলো বাতাস আমাদের বেঁচে থাকা । এই দেশের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কে একটি স্বাধীন আর স্বাবলম্বী হওয়ার নিরাপদ ধারনা দেই ।অন্য মানুষের উপর নির্ভর করার মানসিকতা দূর করি । সবাই নিজেদের মতো করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করি । সমাজ সুন্দর রাখতে গঠনমুলক ধারনা গুলো জাগ্রত করি । সুখে দুঃখে সবাই সবার পাশে থাকি । আমাদের দেশ স্বপ্নের মতো সুন্দর থাকুক ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×