somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চোখে আমেরিকা ২

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :








আর একটা ব্যাপার আমরা জানি যে আমেরিকায় আইন বা আইনি শাসন সবার ঊপরে । কয়েকদিন আগে আমার এক আত্মীয় গাড়ী কিনবে, তাই এক কার-ডিলারের কাছে গিয়েছিলাম । লোকটির বাড়ী লেবাননে। নাম নাবিল আহমেদ । লোকটির সংগে অনেক বিষয়ে কথা হল ।কতদিন আমেরিকায় আছেন -এই প্রসঙ্গে যা বলল তা’আমি শুনে তাজ্জব । আহমদ আগে এই Car-শপের কর্মচারি ছিল না। মালিক ছিল একজন ইহুদি । ১০|১৫ বছর আগে নাকি প্যালেসটাইন এর সঙ্গে লেবাননের সংঘর্ষ হয়। আহমদের কথায়’ “রাজনৈতিক এই ঘটনার জের হিসাবে সেই দোকানের ইহুদি মালিক গুলিভরা পিস্তল নিয়ে আমাকে তাড়া করল মারবার জন্য । মালিক ধরা পড়ে গিয়েছিল। বিচারে মালিকের ১৫ বছরের জেল হল। এখন তার দোকানের পুরাপুরি মালিক এখন আমি । সেই ইহুদি জেল থেকে চেয়েছিল মিউচুয়াল করার জন্য। নাবিল তার জন্য চেয়েছে ৫০ লাখ ডলার যা সেই মালিকের ক্ষমতার মধ্যে এখন নেই” । ধন্যবাদ দিচ্ছি আমেরিকার বিচারক ও বিচার-ব্যবস্থাকে । প্রমানিত হলে অপরাধীর কোনো ছাড় নেই বা অর্থ দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে বাঁচা যাবে না ।

আমেরিকাতে সরকারী ছুটির দিন খুব কম । ৫-৬টা উৎসব । একত্রিশে অক্টোবর রাতে যে উৎসব হয় তা’ হল হলউইন । একমাস আগে থেকে ২৫০ গ্রাম থেকে ১০-২০ কিলো ওজনের কুমড়ো বিক্রি হচ্ছে । কুমড়ো গুলো কেটে কেটে ভুত তৈরী করে বাড়ীর সামনে সাজানো থাকে । এ দিন রাত্রে ভুতুড়ে ফিল্ম দেখা,অদ্ভুত অদ্ভুত পোষাক পরে ঘোরা আর নিজেদের বাড়িকে ভুতুড়ে পরিবেশ বানানোতে হলউইন এর মজা ।পুর্বপুরুষদের আত্মারা এই দিন আসে বলে এদের বিশ্বাস । এরপর নভেম্বর এর চতুর্থ বৃহস্পতিবার হল থ্যাংকসগিভিং ডে । কেউ কেউ টার্কি ডে বলে । ‘ফসল কাটার পর ধন্যবাদ’ থেকে এই উৎসব শুরু হয়েছিল। ১৬২১ খৃষ্টাব্দে ভার্জিনিয়াতে প্লাইমাউথের নয়া বাসিন্দারা নেটিভ আমেরিকানদের কাছ থেকে চাষ শিখে প্রথম ফসল কাটা উৎসব পালন করে ছিল । এ দিন ভাল মন্দ খাওয়া বিশেষ করে ৭-৮ কিলো ওজনের টার্কি মুরগী খাওয়া বা খাওয়ানো এই উৎসবের অংগ। আমাদের এক প্রতিবেশী ৫/৭ কিলো ওজনের ড্রেসিং করা একটি টার্কি মুরগী উপহার দিল । হালাল কিনা ভেবে আমরা অন্য এক আমেরিকান প্রতিবেশী কে সেটা চালান করে দিলাম । বিমানে যাত্রা থেকে শুরু করে ফিরে না আসা পর্যন্ত চোখ কান খোলা না রাখলে হারাম পেটে যাবার খুব সম্ভাবনা । প্যাকেট ড্রাই ফুডসের ভিতরে কি আছে তা গায়ে লেখা কম্পোজিসন থেকে,
চকলেট, টুথ পেষ্ট ও অন্যান্য খাবারের গায়ে সাংকেতিক কিছু অক্ষর দেখে চিনতে হবে,সেটা হারাম না হালাল ।


Pumpkins were dressed as witches Halloween day




ডিসেম্বর এর উৎসব হল এক্স-মাস ডে বা ২৫ শে ডিসেম্বর। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাল আমদানী হয় ও পশরা লাগে,যেমন আমাদের দেশে ঈদ বা পুজোতে বাজার জমজমাট থাকে। বাড়িতে বাড়িতে খৃষ্টমাস-ট্রি আলো দিয়ে সাজানো থাকে । বাড়ির সংলগ্ন ঘাসের বাগানে আলোর হরিণ বা সান্তা ক্লজ সাজানো । খ্রীষ্টমাসের দু-পাঁচ আগে,কোনদিন ঠিক মনে নেই, বিরাট ট্যাবলো মিছিল বের হয় । দেখার মতো মিছিল । কত রকমের সাজ-সজ্জা বিশেষ করে যীশুর জীবনের ঘটনা ও স্যান্টাক্লারা দাদুর নকল কোরে , আলোক সজ্জা কোরে গাইতে গাইতে নাচতে নাচতে চলতে থাকে ট্যাবলো । লম্বা লম্বা গাড়ির উপর ট্যাবলোগুলি সাজানো থাকে । পয়লা জানুয়ারী তো সারা বিশ্বে নববর্ষ উৎসব পালিত হয়। মনে হয় এদের তুলনায় আমাদের দেশে আমরাও কোনো কম করি না । ছুটির দিনগুলিতে রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া কম চলে । শনি রবিবারে বোট নিয়ে কেউ কেউ শহরের বাহিরে, লেকে স্পীড বোট নিয়ে বাইচ কোরতে যায় । সারা বছর চাকা-লাগানো এই সব নৌকাগুলো ঘরের সামনে পড়ে থাকে। লেকে যাবার সময় অন্য গাড়ীর সঙ্গে বেঁধে টেনে নিয়ে যায় । পয়লা জানুয়ারিতে টি.ভি তে নানা অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় । প্রধান অনুষ্ঠান হয় রাত ১২টায় । অবশ্য আমাদের দেশেও অনেকে পয়লা জানুয়ারীতে ফুর্তিতে ওদের থেকে কম যায় না ।

স্বাধীনতা দিবস হল ফোর্থ জুলাই । ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই ব্রিটিশ সরকারের নাগপাশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে । এখানে এরা বলে ফেডারেল হলিডে । রাজধানীতে নানা রং-বেরং প্যারেড হয় । রাত্রে কোনো পার্কে অথবা লেকের পাড়ে আলোর হাউই বাজি,পটকা ফাটানো হয় । প্রচুর জনসমাগম হয় দেখার জন্য। কেউ কেউ পিকনিক করতে পাহাড়ের কোলে অথবা পার্কে যায় ।
পিকনিকের খাদ্য তালিকার মধ্যে অবশ্য-ই থাকে বার-বি-কিউ । গো-মাংস বা ড্রেস করা আস্ত মুরগী মশলা মেখে কাঠের আগুনে বিশেষ প্রকৃয়ায় পোড়ানোকে বার-বি কিউ বলে । খেয়ে দেখেছি,শিক-কাবাবের মত লাগে ।
আমেরিকানদের জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তি কেন্দ্রিক । আমাদের দেশে বলি ওল্ড ইজ গোল্ড । এখানে কিন্তু ওল্ড ইজ বোল্ড । কাজে কর্মে অবসরের কোনো বয়স নেই । কিন্তু ৬৫ বৎসর বয়স হলে এবং নিজের নামে গাড়ী-বাড়ী না থাকলে সরকারী পেনশন ও মেডিক্যাল সাহায্য পেতে পারে । বুড়ো-বুড়ি তখন হোমে অথবা আলাদা ঘর নিয়ে থাকে। সপ্তাহে বা মাসে ছেলে মেয়েরা দেখে যায় । এখানে দেখেছি হোটেল ব্যবসা খুব ভাল চলে । কেননা এরা স্বামী-স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা সবাই ডিনার খায় হোটেলে গিয়ে । সকালের ব্রেকফাস্ট বাড়িতে তৈরী করে । যে যখানে কাজকরে লাঞ্চ করে সেখানে । সন্ধার পর খাওয়া হোটেলে । একদিন আমাদের এক আমেরিকান প্রতিবেশী আমাদের ঘরে এসে ভাত তরকারী রান্না করতে দেখে অবাক হয়ে জিগ্যাসা করল তোমরা প্রত্যেক দিন এত কষ্ট কর এবং সময় নষ্ট কর । এদের সমাজে ডাইভোর্সের সংখ্যা নেহাত কম নয় । কাগজে কলমে শতকরা প্রায় ১২-১৫ ভাগ । বাস্তবে আরও বেশী হতে পারে । মেয়েরাই ডাইভোর্স করতে উৎসাহিত হয় বেশী। ডিভোর্স করলে মেয়েরা খোরপোস পাবে, আর পাবে স্বাধীন জীবন । আমেরিকায় যা আমাদের ভাল লাগবে তা হল এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আর নিরবিচ্ছিন্ন সস্তায় বিদ্যুত ও পানীয় জলের অঢেল ব্যবস্থার জন্য । নিয়তির রোষে আমেরিকায় প্রতি বছর ধ্বংশের পরিমান কিন্তু কম নয় । দাবানল আর জলোচ্ছাস কোথাও না কোথাও হবেই হবে ।

( সমাপ্ত )
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×