আন্দোলন ধরে রাখাটাই প্রথম চ্যালেঞ্জ
আন্দোলন ধরে রাখাটাই প্রথম চ্যালেঞ্জ
শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন। এ আন্দোলন কতদিন চালাতে পারাবে সংগঠনটি, এর ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। এ আন্দোলন জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস তৈরি করেছে। এতে কারও সন্দেহ নেই। তরুণ প্রজন্মের উন্মাদনা আছে। পঞ্চম দিনেও উন্মদনা চলছে। উন্মাদনাকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে দরকার বাস্তব জগতে ফিরে আসা।
দুই আন্দোলনকর্মীর কথোপকথন:
রাতুল ও প্রকাশ। দুই জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পাঁচ দিন হলো তারা শাহবাগেই আছেন। এরা কোনও দলীয় রাজনীতি করেন না। কোনও ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িতও না। সিগারেট খেতে দুই জনের কথোপকথনের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরলাম।
রাতুল: কী হবে দোস্ত এই আন্দোলনের!
প্রকাশ: জানি না।
রাতুল: আমরা আর কতদিন এভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো?
প্রকাশ: যতদিন না কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়ার ঘোষণা না আসছে।
রাতুল: সেদিন কবে আসবে দোস্ত।
প্রকাশ: আসবে। আসবে। অপেক্ষা কর। অপেক্ষা কর।
রাতুল: এ আন্দোলন নিয়ে আমার মনে অনেক সন্দেহ কাজ করছে।
প্রকাশ: কী সন্দেহ?
রাতুল: আওয়ামী লীগ আমাদের আন্দোলনকে পুঁজি করতে চাইছে। আর বিএনপিতো আন্দোলন নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছে। তারা কত কিছুযে ভাবছে। জামায়াততো এদের দোস্ত। বিএনপির কারণেইতো জামায়াত আজ এত সাহস পাচ্ছে। রাজাকার হয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে মন্ত্রী হয়েছিল। সবাই আমাদের নিয়ে এখন খেলা খেলছে।
প্রকাশ: আমরা কোনও খেলাই খেলতে দিব না। ওরা খেলতে খেলতে দেশটাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আর কত দিন খেলবে ওরা?
রাতুল: বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি দিলো। অথচ কাদের মোল্লার বেলায় কি হলো?
প্রকাশ: কী হয়েছে তা কি করে বলব? তবে কিছু একটা হয়েছে।
রাতুল: বিচারকদের জীবনের নিরাপত্তা দিলে বোধহয় ফাঁসির রায় দিতে তাদের বুক কাপবে না। তাদের বাচ্চা-কাচ্চা আছে, স্ত্রী আছে। তাদের চিন্তাওতো করতে হয় বিচারকদের। জামায়াত আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে বসবাস করে। তাদের ধ্যানধারণা অনেক টা অন্ধকারের মতন।
প্রকাশ: যুদ্ধারাধ ট্রাইব্যুনাল আইনটা সংশোধন করা দরকার। নাহলে এই আন্দোলন করে কোনও লাভ হবে না। বাস্তব পথে এগোতে হবে।
রাতুল: ৭ দিনের মধ্যে যদি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেই তবেই আমরা ঘরে ফিরবো। কী বলিস দোস্ত।
প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শাহবাগে আসার আহবান জানাতে হবে। তিনি সরকারের সর্বপ্রধান। তিনি যদি বলেন, আইন সংশোধন করা হবে সাত দিনের মধ্যে তবেই আমরা এখান থেকে ফিরে যাবো।
রাতুল: প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের মাঝে আসেন। ঘোষণা দেন, আইন পরিবর্তন করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। তবেই আমরা ঘরে ফিরবো।
প্রকাশ: ঘোষণা সরকারকে দিতেই হবে। লাখ লাখ জনতার সঙ্গে বেঈমানি আল্লাহ সইবে না। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এই আওয়ামী লীগ সরকারকে করতে হবে। বিএনপি কোনও দিনও করবে না। জিয়াউর রহমান নিজে যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দিয়েছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দিয়ে দলও গঠন করিয়েছেন। এই যে বিএনপি তিনবার সরকার গঠন করেছে, এক বারও কি জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা যুদ্ধাপরধীদের বিচারের ব্যবস্থা করছে। করেনি। করবে না। এখন বলে, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তাহলে তারা কেন রাস্তায় আসে না। ঘুঘু ধরার জন্য ফাঁদ পাতছে। বিএনপি অনেক নাটক দেখিয়েছো। তোমাদের নাটক জনগণ বুঝে। তোমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনওদিন চাউনি।
রাতুল: আওয়ামী লীগ মাঝে মাঝে বিএনপির মত হতে যায়। তারা ক্রিমিনালি করতে যেয়ে ধরা খেয়ে যায়। শেখ হাসিনা মোটেও ক্রিমিনাল না। কারণ তার রক্ত বঙ্গবন্ধুর রক্ত। বঙ্গবন্ধুর রক্ত কখনও বেঈমানি করে নি হাসিনাও বেঈমানি করবে না।
প্রকাশ: তুই দেখছি, আওয়ামী লীগার। আে আওয়ামী লীগার হবো কেন? ইতিহাস যা বলছে আমি তাই বলছি।
রাতুল: যাই হোক, সরকারকে সাত দিনের মধ্যে আইন প্রণয়ন করতেই হবে। নাহলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। জামায়াত আবার ঘামটি মেরে রয়েছে। ওরা এবার পুলিশ বাদ দিয়ে একাত্তরের চেহারাই ফিরে যাবে। যদি আমরা ব্যর্থ হয়, এর পরিণতি অত্যন্ত খারাপ।
প্রকাশ: আবেগ দিয়ে নয় বাস্তবে আন্দোলনকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতেই হবে। আবেগ নয়, বাস্তব দিয়ে সব কিছু ভাবতে হবে। আবেগের প্রয়োজন আছে তবে তা সীমিত সময়ের জন্য। সেই সময় আমাদের শেষ, এখন যে ভাবেই হোক, এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।
অংশুমান, লেখক
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল
দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।
রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।
বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।