somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং একজন গোপাল দা।মনিদিপ্ত কেম্পাসের কিছু অংশ সবা জন্য।

০৬ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বৈশাখী ঝড়ের আগুন জ্বালিয়ে রক্তকরবী জানায় আজকে পথ চলবার হয়েছে সময়" নেপথ্যে কাঁপে রক্ত সূর্য উষ্ণ আবেগে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে ছাত্র গণ আন্দোলনের ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো। এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি রার বহু স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানগুলো আজ প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি। সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা যেখান থেকে ৫২'র ফেব্রুয়ারীতে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এদেশের সাহসী সন্তানেরা। সেই আমতলা আজ আর নেই। আমগাছের মাটিত্দ উপরের অংশটি আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায়। ১৯৯৫ সালের ২১ শে নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডাকসুকে এক চিঠির মাধ্যমে অনুমতি দেন গাছটিকে কেটে ফেলার। ঢাকা মেডিকেল বর্ধিত ভবন তৈরির প্রয়োজনেই গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। লিখিত অনুমতি পাবার পর আমি প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র মোজাম্মেলকে নিয়ে মেডিকেলের আমতলায় যাই কিন্তু সেখানকার কিছু মাস্তানের বাধার সম্মুখীন হয়ে ফিরে আসি।

তারপর প্রক্টর নজরুল স্যারের নিকট থেকে আবারও অনুমতি প্রদানের কাগজ নিয়ে এবং ডাকসু কোষাধ্য বেলায়েত স্যারকে সাথে নিয়ে ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর দুপুর ১২ টা ৪২ মিনিটে কেটে ফেলা হয় ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের নীরব স্বাী আমগাছটিকে। সাথে সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এদেশের অতিপ্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক একটি স্থান। ২২ নভেম্বর যখন আম গাছটিকে কেটে ফেলা হচ্ছে সেসময় ডাকসু সংগ্রহশালার সংগ্রাহক আমি। আমাকে এক সাাতকারে ঢাক মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডাঃ কাজী সৈয়দ আহমেদ বলেন, এতদিন গুরু দায়িত্ব ছিলো আমাদের উপর, আজ সেই দায়িত্ব অর্পন করতে যাচ্ছি ডাকসু সংগ্রহশালাকে। তিনি আরও বলেন প্রথমে আমরা জাতীয় যাদুঘরে এ গাছটি রাখবার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু যাদুঘর কর্তৃপ এ দায়িত্ব নিতে রাজী হয়নি। যাদুঘরের এমন দায়িত্ব হীনতা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। সেদিন উপস্থিত ছেলেন ডাকসু কোষাধ্য অধ্যাপক ড. বেলায়েত হোসেন। তিনি পরিচালকের হাত থেকে গাছটির পরিচিতি পাথর গ্রহণ করেন। তিনি আমাকে সাাৎকারে বলেছিলেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত আমগাছটি সংরণ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দীর্য় জীবি হওয়ার আশির্বাদ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নজরুল ইসলাম আমগাছটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থানান্তরের ঘোষণা দেন ১৯৯৫ সালের ৬ই ডিসেম্বর । এদিন লাল ফিতে কেটে এ গাছটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। উন্মুক্ত করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ গাছটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে কোন ধরণের সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। এ অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক ভি,পি, জি,এস সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আর সেদিন থেকেই ৫২্'র ঐতিহাসিক আমতলার আমগাছটি টিকিয়ে রাখার গুরু দায়িত্ব পড়েছে আমার উপর। এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অপর একটি স্মরণীয় স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলা। এখানেই ১৯৭১ সালের ২ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলণ করেছিলেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ। সেদিনের পতাকায় রক্তলাল বৃত্তটির মাঝে সোনালী বর্ডারে বাংলা দেশের মানচিত্র অাঁকা ছিল। স্বাধীনতা পাগল হাজারো মানুষের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সে সময়ের শীর্ষ চার ছাত্র নেতা (১) আব্দুল কুদ্দুস মাখন (২) আ,স,ম, রব (৩) নূর এ আলম সিদ্দিকী (৪) শাহাজাহান সিরাজ প্রমুখ।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপকে ধন্যবাদ জানাই পাকিস্তানীরা ৭১-এ বট গাছটি কেটে নেওয়ার পরও আরেকটি বটগাছ লাগানোর জন্য। তার ওপর তী্ন নজর রাখা হয়েছে এই বট গাছটির নিরাপত্তার দিকে।

[গোপাল দাশ, সংগ্রাহক ও আলোকচিত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×