somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চোখের বিবর্তন

২২ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় চোখ কিন্তু একেবারেই অন্যরকম।

একরকমের জেলি ভরা বলের মত যা আলোর তরঙ্গতে সংবেদনশীল হয়ে কিভাবে কিভাবে যেন ছবি বানিয়ে ফেলে। চোখই মানব দেহের একমাত্র অঙ্গ যা সরাসরি ব্রেনের সাথে যুক্ত।

৬০০ মিলিয়ন বছর আগে যখন পৃথিবীতে লাইফ ফর্ম বলতে পানিতে শুধুমাত্র এককোষী ব্যাকটেরিয়াই ছিল তখন তাদের মধ্য থেকেই চোখের বিবর্তন শুরু হয়।ধারনা করা হয়, র‍্যানডোম মিউটেশনের ফলে কিছু ব্যাকটেরিয়ায় আলোক সংবেদী কোষ তৈরি হয়। ব্যাকটেরিয়াগুলি তখন অনুভব করতে পারত সূর্যালোকের কত কাছে তারা অবস্থান করছে। ফলে সূর্যালোকের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে ব্যাকটেরিয়াগুলি পানির গভীরে চলে যেত ,এতে করে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি যেমন আলট্রা আলট্রা ভায়োলেট রে থেকে নিজেরদের রক্ষা করতে পারত।

আরো কিছু র‍্যানডোম মিউটেশনের পরে চোখ তার সর্ব প্রথম প্রাথমিক উপনীত হয়। তখন এই প্রাথমিক চোখ আসলে ছিল কিছু ফোটোরিসেপ্টরের গুচ্ছ। ফোটোরিসেপ্টরস হল এক ধরনের বিশেষায়িত নিউরন যা রেটিনাতে অবস্থিত এবং যা ফোটোট্র্যান্সডাকশানে সক্ষম আর ফোটোট্র্যান্সডাকশান হল লাইট পার্টিকেলকে ইলেকট্রিক সিগনালে পরিনত করার প্রক্রিয়া।


ফোটোরিসেপ্টরের উপরের অংশে থাকে অপসিন নামক প্রোটিন যা আলোর ফোটনের স্পর্শে আসলে বিক্রিয়া করে। কয়েকটি বিক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ব্রেনে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল পাঠায়। এই ফোটোরিসেপ্টরের অস্তিত্ব জেলিফিশ থেকে শুরু করে মানুষ প্রায় সবার মধ্যেই পাওয়া যায়।

National Review of Neuroscience জার্নালে একটি স্টাডি এ ব্যাপারে সমর্থন দেয় যে sea-squirts এবং vertebrateদের কমন অ্যানসেসটর ছিল যা চোখের লাইট সিগনালিং এর একদম মৌলিক ভিত্তি।


৫৪৩ মিলিয়ন বছর আগের সামুদ্রিক আরথ্রোপড ট্রাইলোবাইটসে অনেকটা পুরনাঙ্গ চোখের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এদের চোখ ছিল অনেকটা ফুলের মত।চোখের লেন্সের নিচে সংবেদনশীল কোষগুলি ফোটোরিসেপ্টরকে ঘিরে ছিল। এদের চোখগুলি এতই কর্মক্ষম ছিল যে ট্রাইলোবাইটসদের কাজিন হর্স-শু ক্র্যাবে চোখ গুলি এখনো বিদ্যমান।



মেরুদণ্ড ও করোটির বিবর্তনের সাথে চোখের কমপ্লেক্সিটিও বৃদ্ধি পায়।মানুষের চোখের গঠন লাম্প্রে মাছের মত মেরুদণ্ডী প্রানিদের অস্তিত্ব পর্যন্ত ট্রেস করা যায় যারা কিনা ৫০০ মিলিয়ন বছর আগে পানিতে সাতরে বেড়াত।


এদের চোখের সাথে আমাদের চোখের প্রচুর মিল পাওয়া যায়। এদের চোখে এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা তৈরি লেন্স ছিল যা বহির্মুখী ইনফেকশন রোধ করতো, এছাড়া ছিল রেটিনা ও অকুলার মাসল যা কিনা তাদের চোখকে নাড়াতে কাজে দিত। এদের চোখ বিভিন্ন
দৈর্ঘ্যের তরঙ্গে সংবেদনশীল হয়ে সরল ছবি তৈরি করতে পারত।

৪৩০ মিলিয়ন বছর আগে যখন আমাদের পূর্বপুরুষ ডাঙ্গায় উঠে আসে তখন চোখ উপবৃত্তাকার আকার ধারন করে পানির নিচে আবছা আলোতে দেখার ভারসাম্য বজায় রাখতে।এমন কি বিবর্তনই ঠিক করে দেয় চোখের অবস্থান কোথায় হবে। যেমন, হরিনের দুই পাশের চোখ প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি অঞ্চল জুড়ে দেখতে সাহায্য করে শিকারির হাত থেকে বাচতে অন্যদিকে শিকারি যেমন বাঘের চোখ দুটি থাকে সামনের দিকে তাকে ডেপথ পারসেপশনে সাহায্য করতে।আমাদের চোখ পারফেক্ট নয়, বিবর্তনও কোন পারফেক্ট প্রক্রিয়া নয়।

যেমনটি চার্লস ডারউইন বলেছিলেন,"from so simple a beginning endless forms most beautiful and most wonderful have been, and are being, evolved."

প্রাথমিক তথ্যসূত্রঃ
http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3143066/
http://jgi.doe.gov/news_12_12_02/
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×