দুই বন্ধু, প্রথম বন্ধু দ্বিতীয় বন্ধুকে
বলছিলো, জীবনটা বেশ যান্ত্রিক আর অর্থহীন।
দ্বিতীয় বন্ধু: আমার তা মনে হচ্ছেনা।
প্রথম বন্ধু: কেন!
দ্বিতীয় বন্ধু: আমার মনে হচ্ছে জীবনের একটা অর্থ আছে
কোথাও না কোথাও আছে। অন্ততঃ একটা স্বপ্ন অাছে। সকালে উঠে কাজে যাই, সন্ধ্যায় ফিরে আসি। খাওয়া দাওয়া
ঘুম,আবার কাজে ছোটা, সাপ্তাহিক ছুটিগুলোতে ছেলে
মেয়ে নিয়ে বেরিয়ে পরি কোথাও ।
দীর্ঘ ছুটিগুলোতে অলস সময় কাটাই, টিভি সিনেমা
আর কবিতা লেখায় মেতে উঠি।
প্রথম বন্ধু: আমিও তাই করি কিন্তু আমার
একঘেয়েমি কাটেনা কেন? নিজেকে একটা শাটলকক
মনে হয়; নেটের এপাশে একবার ঠোক্কর ওপাশে
একবার। তুমি কি কোন স্বপ্ন দেখো?
দ্বিতীয় বন্ধু: হ্যাঁ, খু্ব মামুলি স্বপ্ন, আমি দেখি, আমার সন্তানরা একদিন বড় হবে,সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে, আমি ও আমার স্ত্রী বুড়ো হবো,তারপর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করবো
একদিন মহান মৃত্যু আসিবেন তার আগে পৃথিবীতে একটা
সুন্দর বাড়ি বানাবো, নাম দেব স্বপ্নগুহা। আমার ছেলেমেয়েরা
সেখানে বসে সারা জীবনের স্বপ্ন আঁকবে।
প্রাচীনকালে গুহাবাসী মানুষওতো একই ভাবে
জীবনযাপন করতো; তারা সন্ধ্যায় গুহায় ফিরে আসতো
আর সকালে বেরিয়ে যেতো শিকারের সন্ধানে।
রাতে কাঠ জালিয়ে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে গুহার
দেয়ালে স্বপ্ন আঁকতো; একটা বাইসনের ছবি
এক পাল মায়া হরিন.. গুহা মানব থেকে আমার জীবন
পর্যন্ত তেমন কোন পরিবর্তন নেই।
প্রথম বন্ধু বললো, আমি স্বপ্নের ভেতর ঢুকতে গেলে
বাস্তবতা বাধা দেয়। বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর, রুঢ় তাইতো
আমার জীবনটা একঘেয়ে হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু বললো, মনে কর,তুমি একটা শোলার মানুষ
হালকাপাতলা গড়ন, লাইলনের চুল, পুঁতির চোখ, রঙ্গীন
ঠোঁট, আর শরীর জুড়ে নানা রঙ্গের আঁকিবুকি। হঠাৎ একটা
দমকা হাওয়া এলো । তোমার পলকা শরীর হাওয়ায়
ঘুরপাক খেতে লাগলো, তারপর সে শূন্যে ভেসে চললো
সাঁইসাঁই করে। হাওয়াটা যখন মাতলামি শুরু করলো
তোমার শরীরও মেতে উঠলো খেলায়।
প্রথম বন্ধু: চমৎকার তো! সত্যি চমৎকার!
আমি বাস্তবতা ভুলে যচ্ছি, আমার কিছুই মনে পড়ছেনা
এখন। একটা শোলার মানুষ ছাড়া আমি
কিছু নই। বন্ধু তুমি কি সম্মোহন করছো আমাকে!
পরসম্মোহন!
দ্বিতীয় বন্ধু বললো, ভাবো জীবনটা এরকমই
টেক ইট ইজি, কুল, বি কুল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


