সরকার অহিদ
০৪/০১/২০১২
কলেজ লাইফের প্রথমেই তানজুর শুভ্র মমের মতো মুখটা, মাসুদের মনে রুপালী চাঁদের মতো দোলা দিয়ে যায়। এক সময় উভয়ের মাঝে প্রেমও হয়েছিল, চুটিয়ে প্রেম করেছিল ওরা।
ঝাপ্টা ঝরের মাঝেও সে প্রেম ছিল গুরুগম্ভির, ও শান্ত নদীর মতো প্রবাহিত।
তখন ওর কোন কাজ ছিল না। ভাবনার জগতে সে লাগামহীন ঘোড়ার মতো দিগ্বিদিক ছুটে যায়।
একদিন তানযিলাকে ওর মার সামনে নিয়েগেল। মার সাথে ও খুবই ক্লোজ। মাসুদের সাথে তানযিলাকে দেখে প্রথমতো মা আড়চোখে ওকে দেখে। ফরসা মুখ। থ্রিপিচ পরা। সাদা একটা উড়না দিয়ে একটু ঘুমটা করেছে। দেখে মনে হচ্ছে একটা চাঁদ সাদা একটি মেঘের টুকড়োয় ঢাকা পরেছে।
মাসুদ তানজুকে মার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। "মা, ও তানযিলা! আমার আত্নার আত্নীয়"। মাসুদের মুখে মিটিমিটি হাসি। মাও মুচকি মুচকি হেসে তানজুকে বললো, "ভাল আছ মা মণি?" তানজু, জ্বী আন্টি বলে মার পায়ে সালাম করলো।
এমনি একটি ভাবনা মাসুদ প্রায়ই ভাবতো। মার সাথে তানযিলাকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিবে, ওর মনে আরো অনেক ইচ্ছাছিল। তানজুর সাথে ওর বিযে হবে, সুন্দর ছোট্ট খাট্ট একটা বাড়ি হবে। বাড়িটায় বেশি কিছু থাকবেনা। সাদা মাটা, যদিও সেটা ছনপাতার হয়। একটা চুলো, একটা হাড়ি, একটা প্লেট,
ওর খুব ইচ্ছে ছিল ও আর তানজু এক প্লেটে খাবার খাবে, গ্লাসে যেখানে তানজু ঠুট লাগিয়ে জল খাবে, ঠিক সেখানেই সেও ঠুট দিয়ে জল খাবে। এরুপ ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটি বাড়ি ওর কল্পনার আকাশে মেঘমালার মতো ভেসে বেড়াতো, কিন্তু সেটা কল্পনাই থেকে যায়। অদৃশ্য জগতে মেঘমালার মতো উড়ে উড়ে যায় কোন এক দূর অজানায়। বাহ্যিক মূর্তি নিয়ে তার সামনে আসেনা।
সেই তানযিলা! হ্যাঁ, সেই তানযিলা! যাকে ও ভালবেসেছিল। মন দিয়েছিল। এক মুহূর্তের জন্যও যাকে ও ভূলতে পারতোনা। সে আজ অন্যের চোখে ছবি আঁকে। তার মনের দোয়ারে অন্য এক মানব-ছায়া। মাসুদ ভাবতে পারেনা এসব। ওর চোখ ঝাপ্সা হয়ে আসে। ওর সেই হাসি হাসি মুখটা আজ কেমন যেন শুকনো হয়েগেছে। কালো চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। ওর এই শুকনো মুখের উপর দরদ দেখাবার মতোও কেউ নেই। একাকিত্বের ভাঙ্গা মন নিয়ে বসে আছে এই সাইন্স ডিপার্টমেন্টের সিড়িতে। চোখে তার ধোসর পান্ডলিপির আয়োজন করেছে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



