বোধ করি, আমাদের খুব প্রিয় মুখরোচক খাবারের মধ্যে চাপ, পরোটা, বট, তিল্লি, খিরি এগুলো থাকবেই । খাবারগুলো গরু, ছাগল কিংবা মুরগির বিভিন্ন অংশ নানা পদ্ধতিতে পুড়িয়ে বানানো । সাথে থাকে জবরদস্ত মশলার বাহার । খুবই সাধারন পরিবেশন পদ্ধতি, মুখে অমৃতের স্বাদ দেয় । লাইন ধরে আমরা খাই । ঢাকার দূর দুরান্ত থেকে এসে লাইন ধরে, অপেক্ষা করে খাই । যখন অপেক্ষা করি অথবা ঐ এলাকার পাশ দিয়ে যাই, বাতাসে মাংস পোড়া গন্ধটা পেটের ক্ষুধা টা আরও বাড়িয়ে দেয় ।
কিন্তু আজ এ মাংস পোড়া গন্ধটা টানছে না কেন ? কেন একই এলাকাতে পোড়া মাংসের গন্ধে যেখানে ক্ষুধা বেড়ে যেতো, সেখানে মাংস পোড়া গন্ধে আজ বমির উদ্রেক হচ্ছে । রুচি বেড়ে যাওয়ার বদলে খাওয়ার ইচ্ছাটাই চলে যাচ্ছে কেন ? এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না । কচি গরুর চাপ যেখানে জিভে লালা এনে দেয়, সেখানে কচি শরীরের মাংস পোড়া গন্ধটা এমন বুক ভারী করে দিচ্ছে কেন ?
জনাদশেক বিহারী আগুনে পুড়ে মারা গেলো । এই শালাদের তো অনেক আগেই পুড়িয়ে মারা দরকার ছিল । আজ যখন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো, আজ কেন বুক ফেটে যেতে চায় । একাত্তুরে এই অমানুষ গুলোই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাঙালি নিধনে মত্ত হয়েছিল, আজ এতো বছর পর তাদের এই পুড়ে মরা শান্তি স্বস্তি কিছুই দিতে পারছে না কেন ?
ওরা সংখ্যায় এতটাই কম যে, দশজন পুড়ে মরা মানে প্রতিবাদকারী দশজন কমে যাওয়া । আজ যদি বাঙালি বা পাহাড়ি এতগুলু মানুষ মারা যেতো তবে প্রতিবাদ করার অনেক মানুষ থাকতো । চাই কি দু চার দিন টানা হরতাল দিয়ে অচল করে দেওয়া যেতো জেলা, বিভাগ, দেশ । তাদের জন্য তো প্রতিবাদ করার লোকও হাতে গোনা । তবুও নিজের অমানুষ আচরনে নিজেকেই কেন ভয় পাচ্ছি?
৪০ বছরের বেবি আক্তার, ২৪ বছরের শাহানা, ২০ বছরের আফসানা, ১৮ বছরের রোকসানা, ১৪ বছরের যমজ লালু আর ভুলু - ঠিক এরাই তো ছিল সেদিন, সেই একাত্তুরে । আজ ৪৩ বছরের ও বেশী সময় পর সুযোগ পেয়েছি । একদম উচিত জবাব । পুইড়া ঝামা হইয়া গেছে । ঠিকই আছে । ওহ দুঃখিত, এদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক জনেরও বয়স ৪০ বছর । তিন চার বছর কম পরে যাচ্ছে একাত্তুর হতে । তাতে কি হলো !?! এদের জাতি ভাই তো ছিল ! ঐ যে ইশপের গল্পে নেকড়েটা ভেড়ার বাচ্চার ঘাড় মটকেছিল, কারণ ভেড়ার বাচ্চাটির দাদা নেকড়ে যে নদীর পানি খাচ্ছিল, তার পানি মুখ লাগিয়ে নোংরা করেছিলো ।
আরে ধুর, এতো দূর যাওয়া লাগবে না । এখন কি কম কারণ আছে ? শব-ই-বরাত এলেই পটকার শব্দে কানে তালা লেগে যায় । প্রতি সেকেন্ডে ওরা কমপক্ষে একটা করে পটকা ফুটায় ।
- ওটা তো আশে পাশের বাঙালি কিশোরেরাও ফুটায় ।
ওহ আচ্ছা, যাই হোক, বিহারী কিশোরেরই বেশী করে এইসব । তার উপর ওরা বিজাতীয় ভাষায় কথা বলে । বাংলাদেশে থেকে ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানের সাপোর্ট করে ।
-কই ইদানিং তো ওরা বাংলাদেশ ও সাপোর্ট করে ।
ওহ আচ্ছা, যাই হোক, বেশীরভাগ বিহারিরাই খেলায় পাকিস্তান সাপোর্ট করে । আর তাছাড়া অযথাই কবে থেকে ঢাকার অর্ধেক জায়গা নিয়ে বসে আছে, এখানে হাউজিং ব্যাবসা করলেও তো অনেক লাভ । ঐ মিরপুর ডি ও এইচ এস এর রোড সংযোগকারি উড়ালসেতু হওয়ার পর জায়গার যা দাম হয়েছে, কোনও ধারনা আছে । শালারা জায়গাটা দখল করে বসে আছে । আবার বিদ্যুৎ চায় । নেতার সাথে তর্ক করে, নেতার আদেশের পাত্তা দেয় না । ফাইজলামি নাকি !?!?
কিন্তু এতো যুক্তির পরও কেন শান্তি শান্তি লাগছে না। কেন নিজেদের কাপুরুষ খুনি মনে হচ্ছে । কেন আয়নায় নিজের চোখে নিজে চোখ রাখতে পারছি না । কেন পেটের ভেতর থেকে এতদিনের খাওয়া চাপ পরোটা গুলু বের হয়ে আসতে চাচ্ছে জোর করে ?
নাহ ! আসলে এতো এতো যুক্তির কোনটাই এতগুলো ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার যথার্থ কারণ দেয় না । জায়েজ করে না ভোরবেলা ঘুমন্ত মানুষ গুলার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে আগুন লাগিয়ে দেওয়াকে । এই লোকগুলি এমনিতেই প্রচণ্ড মানবেতর জীবন যাপন করে । এরা ভোটের সুযোগ পেলো সেদিন, যদিও দুষ্ট লকে বলে তাদের মানুষ হিসেবে কদর করে নয়, বরং ভোট ব্যাংক হিসাবে সুযোগ টা দেওয়া হয়েছিল । শিক্ষার সুযোগ পেলো এইতো সেদিন ২০০০ কিংবা ২০০২ সালের দিকে। শিক্ষা আলোর পথ দেখায় সে আলোয় আসার সুযোগটাই বা আমরা দিলাম কোথায়, এদের দুহাতে বুকে টেনে না নিয়ে, এদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও প্রয়াস না করে, শুধু দোষ ধরে আঘাত করে যাওয়া – ঘৃণার আগুনে ঘি ঢালা বৈ আর কিছু নয় ।
ছবিঃ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



