জাস্টিন বিবার একজন কানাডিয়ান সঙ্গীতশিল্পী। ২০০৮ সালে বিবারের প্রতিভা ‘স্কুটার ব্রাউনের’ নজরে আসে। পরবর্তিতে স্কুটার ইউটিউবে বিবারের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করান। এছাড়া স্কুটার ব্রাউন পরে বিবারের ম্যানেজার হন। পরবর্তীতে বিবার রেমন্ড ব্রাউন মিডিয়া গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়। সেখান থেকে বিবারের প্রথম একক সঙ্গীত ‘ওয়ান টাইম’ ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপি প্রকাশিত হয় এবং মুক্তি পেয়েই কানাডার পপ গানের তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করে নেয়। গানটি অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার প্রথম অ্যালবাম ‘মাই ওয়ার্ল্ড’ সে বছরের ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত হয় এবং যুক্তরাজ্যে এটি প্লাটিনাম সনদে ভূষিত হয়। বিবার-ই প্রথম শিল্পী যার প্রথম অ্যালবামের সাতটি গানই বিলবোর্ডের হট গানের তালিকায় স্থান করে নেয়। এই অ্যালবামের ‘বেবি’ গানটি বিশ্বব্যাপী ব্যপক সাফল্য অর্জন করে। গানটির মিউজিক ভিডিও এখন পর্যন্ত সর্বাধিক প্রদর্শিত, আলোচিত এবং পছন্দের ইউটিউব ভিডিও।
জাস্টিন বিবার বিগত কয়েক বছরে অসংখ্য পুরস্কার ও সাধুবাদ অর্জন করেছে। ২০১০ সালের আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এ বিবার বর্ষসেরা শিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেছে। এছাড়াও সে ৫৩তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস-এ শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী ও বেষ্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম পুরস্কার দুইটির জন্য মনোনীত হয়। বিবারের সঙ্গীত, চিত্র ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রথম জীবন
জাস্টিন বিবার ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ কানাডার অন্টারিওর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করে। বিবারের মা প্যাটি ম্যালেট ১৮বছর বয়সে গর্ভবতী হন। সেময় বিবারের মা সামান্য বেতনে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করতেন। বিবারের বাবা জেরিমি বিবার পরবর্তিতে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন। শৈশবে বিবার নিজে নিজে গীটার, ড্রাম, পিয়ানো বাজানো শেখে। ২০০৭ সালে বিবার স্থানীয় এক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলো। বিবারের মা ম্যালেট বিবারের সেই পরিবেশনা ধারণ করে ইউটিউবে প কাশ করেছিলেন। ম্যালেট বিবারের অন্যান্য সঙ্গীত পরিবেশনাও পরবর্তীতে ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে থাকেন এবং ক্রমেই ইউটিউবে বিবারের ভিডিওগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
ক্যারিয়ার
স্কুটার ব্রাউন, বিখ্যাত মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, অনলাইনে ব্যতিক্রমধর্মী গান গাইতে পারে এমন মিউজিক ভিডিওর সন্ধান করছিলেন। অনেকটা দূর্ঘটনাবসতই তিনি বিবারের মিউজিক ভিডিওতে ক্লিক করেন। সেই সাথে পেয়ে যান অমূল্য রত্ন। তিনি বিবারের স্কুল খুঁজে বের করে সেখানে যান এবং সেখানেই তার সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চান। সেময় বিবারের বয়স ছিলো ১৩ বছর। তাকে দিয়ে প্রথমে ডেমো ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এবং জাস্টিন টিমবারলেকের সাথে তাকে দিয়ে গান গাওয়ানো হয়। লস অ্যাঞ্জেল্রে তাদের অডিশন রাউন্ড হয়। তারকা জগতে প্রবেশ করে জাস্টিন বিবার। অক্টোবর ২০০৮, ‘আইল্যান্ড ডিফ জ্যাম মিউজিক গ্রুপ’-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। সবকিছু খুব ভালই চলছিলো, তার মা সহ আটলান্টা শহরে চলে আসে। সেসময় ব্রাউন ছিলেন বিবারের ম্যানেজার হিসেবে।
বিবারে একক ভাবে গাওয়া গান, ‘ওয়ান টাইম’ প্রথমে রেডিওতে মুক্তি পেয়েছিলো। এই গানটি ক্যানাডিয়ান হট গানের তালিকায় শীর্ষ ১২টি গানের মধ্যে স্থান পেয়েছিলো মুক্তি পাওয়ার প্রথম সপ্তাহেই। জুলাই ২০০৯ সালের ঘটনা এটি। পরবর্তীতে গানটি ১৭ নম্বর গানে পিছিয়ে যায়। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেটে ব্যপক আলোড়ন তুলেছিলো গানটি। ইউটিউবে এখনও জনপ্রিয় গানটির ভিডিও চিত্রটি। এর পর একে একে মুক্তি পায় ‘ওয়ান লেস লোনলি গার্ল’, ‘লভ মি’ ও ‘ফেবারিট গার্ল’। আই টিউন স্টোরের মাধ্যমে বের করা হয় গানগুলো। এবং প্রতিটিই বিলবোর্ডের হট ১০০ গানের তালিকায় স্থান পায়। গানের জগতে খ্যাতির পাশাপাশি বিবারের সামনে আসে কিছু চ্যালেঞ্জ। ‘দ্য উন্ডি উলিয়ামস’, ‘দ্য ইলেন ডি জেনারাস শো’, ‘গুড মরনিং আমেরিকার’ মতো বিভিন্ন লাইভ শো তে তার অংশ নিতে হয়। বিবারের একবার সৌভাগ্য হয় বারাক ওবামার সামনে হয়াইট হাউজে গান গাইতে যাওয়ার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


