somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রযুক্তির হাত সিগারেটে...:)B-);)

০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৩১ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হলো, ধূমপানমুক্ত দিবস। এটি একটি বদভ্যাসের পর্যায়ে পড়ে। বরং বলা যায় আরও বেশি, খুব বাজে একটি নেশা। শুধু নিজের ক্ষতি তা নয়, এতে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন বদভ্যাসও। যেমন, যেখানে সেখানে ছাই ফেলা, সিগারেট খেয়ে ছুঁড়ে ফেলা, ফলে অনেক সময়ে আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সর্বোপরি, ধূমপানের নেশা একবার যাকে ধরেছে, সে দুনিয়া ছাড়তে রাজি হলেও ধূমপান ছাড়তে রাজি নয়। কিন্তু ধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য নিয়ে তো আর হেলাফেলা করা যায় না। তাই সম্প্রতি বাজারে ছাড়া হয়েছিল ইলেকট্রনিক সিগারেট, সংক্ষেপে ই-সিগারেট। ধূমপানমুক্ত দিবসের প্রধান টক অব দ্য ডে, ই-সিগারেট ও ই সিগারেটের জনককে নিয়ে আজকের ফিচারটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম:D



স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সিগারেটের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত ই-সিগারেটের গুণের শেষ ছিল না। আসল সিগারেটের মতোই এর স্বাদ, তবে বাড়তি পাওনা ছিল—এতে আসল সিগারেটের ধোঁয়ায় যে বিকট গন্ধ রয়েছে, এটিতে তা নেই, তা ছাড়া সত্যিকারের সিগারেটের তামাকের চেয়ে এতে প্রায় চার হাজার রকমের রাসায়নিক কম পরিমাণে রয়েছে। তামাক ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদানগুলোও এতে অনুপস্থিত। এতে ছাই হয় না, নেই আগুন লাগার ভয়ও। সবচেয়ে বড় কথা, আসল সিগারেটের চেয়ে এর খরচও অনেক কম। এসব কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ধূমপায়ীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই-সিগারেট। তবে এবার ই-সিগারেটপ্রেমীদের জন্য রয়েছে দুঃসংবাদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এখন বলছে, আসল গত কিছুদিনে ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যগত ইস্যুটি নিয়ে কয়েকটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সেসব গবেষণায় বলা হয়েছে, ই-সিগারেট যে আসল সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ, এর সপক্ষে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুজন গ্রিক গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ই-সিগারেট তেমন নিরাপদ নয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে বলা হয়েছে, আরও তথ্য হাতে পাওয়ার আগে এটি আসল সিগারেটের চেয়ে ভালো না মন্দ, তা বলা কঠিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আরও কিছু সংগঠন জানিয়েছে, ই-সিগারেটে তামাক না থাকলেও এতে ভোক্তার শরীরে বাষ্পের সঙ্গে নিকোটিন প্রবেশ করে, যা বেশ ক্ষতিকর। বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ই-সিগারেট ব্যবহার করা উচিত হবে না। ই-সিগারেটের বড় বাজার ব্রিটেনের সরকার বিতর্কের এ প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট ভোক্তাদের ‘সতর্কতা অবলম্বন’ করার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যান্য দেশের সাথে ই-সিগারেট গবেষণায় তাল মিলিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক সিগারেটও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সাধারণ সিগারেটের মতোই এর নিকোটিনও সরাসরি ফুসফুসে চলে যায়।

আসলে কী এই ই-সিগারেট

ইলেকট্রনিক সিগারেট তামাক পোড়ানো ছাড়াই নিকোটিন গ্রহণের সুযোগ দেয়। এটি তৈরি হয় একটি ব্যাটারি, একটি অ্যাটোমাইজার এবং প্রোপিলিন গ্লাইকলসহ নিকোটিনের একটি কার্টিজ ব্যবহার করে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, যখন কেউ ই-সিগারেট পান করে, তখন একটি সেন্সর ব্যাটারিকে সক্রিয় করে এবং ডিভাইসটির মাথার দিকে লাল হয় ধোঁয়া তৈরি করে এবং অ্যাটোমাইজারকে গরম করে তোলে। এই পদ্ধতিটি প্রোপিলিন গ্লাইকলকে বাষ্প করে তোলে। এই সিগারেটে টান দিলে তখন নিকোটিনের স্বাদ পাওয়া যায় এবং তা সাধারণ সিগারেটের মতোই ফুসফুসে চলে যায়। এবারে জেনে নেওয়া যাক, এই বহুল আলোচিত ই-সিগারেটের আবিষ্কারক সম্পর্কে কিছু কথা।

আবিষ্কারক হন লিক:|B-)

ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের ধারণা প্রথম দুনিয়ার সামনে নিয়ে আসেন যে ব্যক্তিটি তিনি একজর ফার্মাসিস্ট। চিনে তার জন্ম। এবং সেখানকার এক ডিস্পেন্সারিতে কাজ করেন। ২০০৩ সালের শেষদিকে, হন লিক নামের এই চাইনিজ ফার্মাসিস্ট আবিষ্কার করেন ইলেক্ট্রনিক সিগারেট, সংক্ষেপে ই-সিগারেট। এর ঠিক পরের বছরই তিনি বিশ্ব বাজারের সাথে এই ই-সিগারেটের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ‘গোল্ডেন ড্রাগন হোল্ডিংস’ নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলিয়ে ‘রুয়ান’ রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো বিকল্প সিগারেট। তিনি তার এই প্রোডাক্ট ২০০৫ ও ২০০৬ সালের দিকে বাজারে ছাড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে, ২০০৭ সালে তিনি এই প্রোডাক্টের পেটেন্ট লাভ করেন। আর এই ২০১১ সালে এসে এই ই-সিগারেট একটি বহুল জনপ্রিয় সিগারেট। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় আকর্ষণ। তবে এ সিগারেট আসল সিগারেটের থেকে বেশি ক্ষতিকর না কম ক্ষতিকর সেটা নিয়ে এখনও কোনো গবেষণা করা হয়নি। এই কারণেই বিষয়টি সবার আলোচনার মূলে উঠে এসেছে। তবে, একটা কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ই-সিগারেট কমবেশি যাই ক্ষতিকর হোক না কেন, ধূমপান একটি নেশা, আর নেশা মানেই ক্ষতিকর।:P
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১১ রাত ১০:৩৬
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×