" আরে, রুবাব না .. ?" কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে রুবাব পিছনে ফিরে দেখে তার পুরাতন class mate ফাহাদ দাড়িয়ে আছে. ঠিক মত প্রথমে চিনতে না পারলে-ও ফাহাদের গালের কাটা দাগটা দেখে সে ঠিক-ই চিনতে পেরেছে যে এটা সেই ফাহাদ যে তার বর্তমান husband আবরার এর সবচাইতে close friend ছিল........
আবরার,রুবাব আর ফাহাদ একই স্কুল এ একই ক্লাস এ পড়াশুনা করেছে..honors পর্যন্ত সবাই একই সাথে ছিল...পরে ফাহাদ বাইরে চলে যায়....
আবরার আর ফাহাদ ছিল জিগরি দোস্ত .একজনের পেটের খবর আরেকজন জানত...ক্লাস থ্রী তে ওদের পরিচয়.পরে ক্লাস ফাইভে রুবাব ভত্তি হয় ওদের স্কুলে.প্রথম দিন দেখাতে ফাহাদের খুব ভালো লাগে রুবাব কে কিন্তু ফাহাদের কপাল টা ভালো ছিল না সব চাইতে close friend তার আগে-এ রুবাবা কে পছন্দ করে ফেলেছে . বন্ধুর জন্য ফাহাদ এতটুকু sacrifice করতে সে রাজি...নিজের পছন্দকে সে বন্ধুর পছন্দর কাছে বিসর্জন দিল সে কিন্তু পরবর্তিতে এর পরিনাম হয়েছে ভয়াবহ ....
আব্রারের বাবা সামান্য bank এর চাকরি করেন...এক ভাই এক বোন তারা ...টানাটানি না থাকলে-ও সংসারে কোনো দিন কোনো অভাব অনটন ছিল না..ভালো ভাবে হয়ে যেতো...
আর ফাহাদের বাবা ছিলেন বিরাট businessman .ঢাকায় তিনটে বাড়ি আছে আর নিজেদের গাড়ি আছে...বেশ দিন যায় ফাহাদের ..মনে যা চায় ত়া চাইবার সময় হাজির হয়ে যায়. অভাব অনটন কি ত়া সে কখনো দেখে নাই .অপরদিকে রুবাব ছিল মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে . ঢাকায় নিজেদের একটা বাড়ি আছে .রুবাবা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান . বলা যায় আদরের দুলালী বটে..
ক্লাস ফাইভে থেকে পরিচয় হলে কি হবে কথা বার্তা হত খুব কম ...বলা চলে একেবারে না....ওদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ক্লাস eight এ এসে বৃত্তি coaching .সেখান প্রথম তাদের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠতা বাড়ে. আবরার আর ফাহাদ ছিল প্রায় একই ধরনের brilliant student . একজন ফাস্ট হয়ে অন্যজন সেকন্ড হয় .তো এভাবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরো গভীর হতে থাকে.
ওদের মধ্যে সম্পর্ক আরো ভালো হয় ক্লাস নাইনে.সবাই science গ্রুপ এ .
ফাহাদ রুবাবাকে আগে থেকে পছন্দ করলেও আবরার এর জন্য ত়া কখনো রুবাবা কে বলেনি .অপরদিকে রুবাবা wait করছিল কে তাকে আগে propose করে .যে করবে সে তাকে পছন্দ করবে.এভাবে-ই চলতে থাকে ওদের মাঝের বন্ধুত্ব .
ক্লাস টেন এর pretest exam এর পরে আবরার প্রথমে রুবাবা কে propose করে . ফলস্বরূপ রুবাবাও আবরার কে পছন্দ করে..ফাহাদ ওদের ভালো friend হিসাবে থাকে.
SSC এর result ই সবাই GPA -5 পায়..এবার শুরু হয় নতুন পথ চলা .আবরার আর রুবাবা একই কলেজ এ ভত্তি হয় আর ফাহাদ চলে যায় অন্য কলেজ এ ..দিনদিন ওদের মাঝে দুরত্ব বাড়তে থাকে....কিন্তু বেশি দিন লাগে না সেই দুরত্ব কমাতে.বন্ধুর জন্য ফাহাদ আবার কলেজ change করে.
SSC exam এর পরে সময় থাকলেও রুবাবা এর সাথে কোনো date করা হয়নি অব্রারের.ফোনই কথা হত বেশির ভাগ সময় .HSC তে পড়ার সময় প্রথম date করতে যায় আবরার আর রুবাবা.বন্ধু ফাহাদ এর কাছে হেল্প চায় আবরার.. আবরার খুব ভালো করে জানে রুবাবা খুব বড়লোকের মেয়ে না হলেও বেশ সামর্থবান তার বাবা কিন্তু সে তুলনায় অব্রারের বাবার অবস্থা তেমন ভালো না তাই নিজের অসামর্থতা ঢাকতে সে ফাহাদের নিজস্য গাড়িটা ব্যবহার করে .এভাবে দিনের পরদিন সে ফাহাদের গাড়ি বেবহার করেছে অনেক সময় টাকা পয়সা ধার করে সে রুবাবা কে gift কিনে দিয়েছে কিন্তু ফাহাদ কখনো কিছু বলে নাই ..বন্ধুর জন্য সে অনেক কিছু করেছে..
ফাহদের এই সরলতার সুযোগ নিয়ে আবরার অনেক দূর এগিয়ে যায় .রুবাবাকে আরো কাছে পাবার জন্য সে ফাহাদের help নিয়ে উল্টো ফাহাদের নামে বিভিন্ন খারাপ কথা রুবাবের কাছে বলতো যেন সে ফাহাদের দিকে না যায় ..
এভাবে রুবাবা দিন দিন ফাহাদ কে ঘৃনা করে চলে..যত-ই দিন যায় ফাহাদকে রুবাবা ততটা ঘৃনা করতে থাকে..আসতে আসতে ওদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরতে থাকে যা ফাহাদ একবারের জন্য টের পায় না.সে তার বন্ধু আবরার কে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করতে থাকে.
এদিকে রুবাবা কখনো টের পায় না যে আবরার এর বাবা তার মত ততটা সচ্ছল না....HSC exam এ আবার সবাই ভালো result করলো ..আবার একই university তে ভত্তি হলো but এবার ওদের subject ভিন্ন. আবরার আর ফাহাদ নিলো engineering আর রুবাবা নিলো BBA .সুতরাং ওদের মাঝে আবার দুরত্ব বাড়লো..
থার্ড year এ এসে রুবাবার বাবা মা ওকে বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্র দেখা শুরু করলো...রুবাব অনেক tension এ পড়ে গেলো কিভাবে সে এ থেকে মুক্তি পাবে..অবশেষে রুবাবা আর আবরার পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো ..ফাহাদ ওদের বন্ধু হিসাবে যথার্থ-ই মেনে নিলো ..কিন্তু বিয়ে করার আগ পর্যন্ত রুবাবা কখনো আবরার সম্পর্কে কোনো খোজখবর করে নাই এমনকি সে কখনো ফাহাদ কে জিজ্ঞাসাও করেনি ...সুতরাং ফল যা হবার তাই হলো..
পালিয়ে আসার সময় রুবাবা ওর মায়ের গহনা,বেশ কিছু নগদ টাকা আর বাবার money bag থেকে credit card টা নিয়ে এসেছিল ...আসার আগে টেবিলে একটা চিরকুট রেখে এসে ছিল তাতে লেখেছিল -" বাবা মা আমি তোমাদের ছেড়ে অনেক দুরে চলে যাচ্ছি আমাকে ক্ষমা করো, আর পারলে আমার জন্য দোয়া করো -তোমাদের মেয়ে রুবাব. "
পালিয়ে বিয়ে করার পর রুবাব বুঝতে পারল সে কত বড় ভুল করেছে..বিয়ের পর সে আবরার এর বাসায় উঠতে গেলে অব্রারের বাবা মা এই বিয়ে কে মেনে নেই নি .ফলশ্রুতিতে শশুর বাড়ি জায়গা হয় না রুবাবের ...তাই বাধ্য হয়ে ফাহাদের বাসার একটি খালি flat এ উঠতে হয় ওদের ..কিন্তু বেশি দিন টিকতে পারেনি ফাহাদের বাবা মায়ের ভয়ের কারণে..মাস কয়েক থাকার পর ফাহাদের বাবা মা বাইরে থেকে দেশে ফিরে আসেন..তাই ফাহাদের বাসা ছেড়ে দিতে হয় ওদের..ফাহাদের সাথে আর দেখা হয় নি ওদের ..
এদিকে engineering পড়া বেশ বায়বহুল হয়ে যাবার কারণে আবরার টাকা পয়সার জন্য শেষ পর্যন্ত পড়াশুনা শেষ করতে পারে না...রুবাবা কোনো রকমে ওর BBA পড়া শেষ করে ...রুবাবা এখন সামান্য একটা স্কুলে চাকরি করে আর আবরার কিছু-ই করেনা শুধু জুয়া খেলে আর নেশা করে .. একটা মেয়ে হয়েছে ওদের নাম রেখেছে নুসায়বা ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে উঠলো .. রুবাবের মেয়ের স্কুল dress কিনতে আজকে মার্কেট এ এসেছিল সেখানে দেখা হলো সেই বারো বছরের পুরাতন class mate ফাহাদের সাথে..
-"হা , কিন্তু আপনাকে তো ঠিক .....ও চিনেছি ফাহাদ না " রুবাবা কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে উত্তর টা দেয় ...
-"হা ঠিক-ই ধরেছিস আমি ফাহাদ . কিন্তু তোর এ কি অবস্থা...? আবরার এর কি খবর ..? কেমন আছে কি করে ও এখন ? খুব বড় post এ চাকরি পেয়েছে নারে .? "
-"হা বড় পোস্ট তো বটে-ই ..অনেক বড় পোস্ট ...সে বাদদে তোর কি খবর তাই বল "
-"আমি তো engineering শেষ করে পরে USA চলে গিয়েছিলাম ..এইত কিছুদিন আগে দেশে ফিরলাম ..বিয়ে করেছি বেশ কয়েক year হয়ে গেলো ..states এ চাকরি করছি .....এইতো "
-"চল একটা restaurant এ বসি তোর সাথে আমার কিছু কথা জানার আছে "
-"কি কথা বল "
-"আগে restaurant এ চল পরে বলছি "
-"ok ঠিক আসে "
restaurant এ -রুবাব জিজ্ঞাসা করলো " আচ্ছা ফাহাদ একটা সত্যি কথা বলবি ?"
-"প্রশ্নটা শুনি তো আগে নাকি ?"
-"আচ্ছা তুই কি আমাকে কখনো ভালোবাসতি .?"
-"কেন ?"
-"বলনা"
-"হা .যেদিন তোকে প্রথম দেখেছিলাম সেদিন থেকে তোকে পছন্দ করতাম ...কেন বলতো হঠাত করে কেন এই কথা বলছিস ?"
-"তাহলে তুই কেন আমাকে propose করিস নি ?"
-"আবরার তোকে ভালবাসত তাই আমি sacrifice করেছি "
-"তুই কি জানিস তোর এই sacrifice এর জন্য এখন আমাকে সারা জীবন sacrifice করা লাগছে...?"
-"কেন কি হয়েছে ওর ?"
-"শোন তাহলে আবরার এর কথা...ও ঠিক মত পড়াশুনা শেষ করতে পারে নি এখন সারা দিন জুয়া খেলে আর নেশা করে "
-'কি বলিস তুই ..!!!"
-"হা আমি ঠিক-ই বলছি"
-"কিন্তু..............."
-"আচ্ছা আরেকটা কথার উত্তর দে ,তুই তো খুব ভালো করে জানতিস যে আবরার খুব-ই নিচু ফামিলি-এর ছেলে কিন্তু সবকিছু জানার পর তুই কেন আমাকে বিয়ের আগে জানালি না ?"
-"তাহলে আজ তুই একটা কথার উত্তর দে, তুই কি কলেজ-এ বা university তে কখনো আমার সাথে ঠিক মত কথা বলেছিস ...মোটে-ই বলিস নি ..বরং আমাকে avoid করে গেছিস so আমি-ও তোকে বলার সুযোগ পায়নি আর তুই-ও দিস নি ..এ ছাড়া ও তোকে ভালবাসত তুই ও ,তাই আমি মনে করেছি তোরা সুখী হবি."
-"হা কত সুখে আছি সে তো দেখতে পাচ্ছিস "
-"বিয়ে করার আগে তোর নিজের চিন্তা করে দেখা উচিত ছিল আমার সাথে কথা বলা উচিত ছিল কিন্তু তার কোনটা তুই করিস নি সে জন্য তুই আমাকে দোষ দিতে পারিস না বরং আমি তোদের বিয়ের পর তোদেরকে আমার বাসায় থাকতে দিয়েছি সেটা নিশ্চয় ভুলে যাসনি ..?"
-"না. সে কথা ভুলবো কি করে তোর এই ঋণ আমি কিভাবে শোধ করব টা জানিনা...যাইরে দেরী হয়ে যাচ্ছে ...পারলে সময় করে বাসায় আসিস একদিন দেখে যাস তোর সেই বন্ধুকে "
-"ঠিক আছে পরে একদিন আসবো...আমার উঠতে হবে রে .."
যেতে যেতে ফাহাদ মনে মনে বলে-" আমি আমার ভুলের জন্য নাহয় মাফ পেলাম কিন্তু রুবাবা কি ওর ভুলার জন্য মাফ পাবে ....?"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



