somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

You silent because it's Rohinga

২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোহিঙ্গাদের পাশে কেউ নেই, এমনকি নেই আমরাও। যে কারনে আমরা প্রদিবাদ করি প্রতিমা ভাংচুরে, যে কারনে আমরা সোচ্চার হই সাঁওতাল দমনে, ঠিক একই কারনে রোহিঙ্গাদের পাশে আমাদের থাকার প্রয়োজন নয় কি? ঐতিহাসিক ভাবে এই রোহিঙ্গাদের সাথে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, এমনকি রক্তের। স্বাধীন আরাকান রাজ্য সবসময়ই নির্ভর ছিল বাংলার শাসকদের উপর। ১১শ শতক থেকে ১৪শ শতক পর্যন্ত কমপক্ষে একশো বার আক্রান্ত হয়েছে বর্মীয়দের দ্বারা। প্রতিবারই তাঁদের রক্ষা করেছে বাংলার রাজারা। কারন ভৌগোলিক ভাবে এই আরাকান রাজ্য ছিল বাংলার ভুমির সাথে যা ইয়মা (রুমা) পর্বতমালা দ্বারা ছিল বার্মা থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৪০৪ সালে যখন বর্মীয়রা আরাকান দখল করে, তখন বাংলায় চলছিলো গানেশা'র সাম্রাজ্য। আরাকানের রাজা "সাও মন" এসে আশ্রয় নেয় রাজা গানেশার কাছে। তাঁর ছেলে যাদু পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহন করে যার নাম হয় জালালুদ্দিন মুহাম্মদ শাহ্‌, তিনি সাও মন কে তাঁর রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন এবং তাঁরই সহযোগিতায় ১৪২৮ সালে প্রায় ৪০ হাজার বাঙ্গালী সৈন্য সহ আরাকান অভিমুখে রওনা দেন সাও মন। ১৪২৯ সালে রাজ্য ফিরে পান রাজা সাও মন এবং জালালুদ্দিনের অনুমতি নিয়ে নিজের কাছেই রেখেদেন সিংহ ভাগ বাঙ্গালী সৈন্য। সেই সৈন্যরাই শত শত বছর ধরে স্থানীয় মগদের সাথে মিশে হয়েছেন আজকের রোহিঙ্গা। বাংলার মানুষের এই সহযোগিতা কখনোই ভুলেনি আরাকানবাসী। তাই তাঁদের রাজসভায় চলতো বাংলার বন্দনা। ১৬শ শতকে মহাকবি আলাউল সেই রাজসভায় রচনা করেছিলেন মহাকাব্য "পদ্মাবতী"। বাংলার মুসলমান রাজাদের সাথে মিলিয়ে আরাকানি মগ রাজারাও নিজের আরও একটি ইসলামিক নাম রাখতেন। ১৭৮৪ সালে বার্মা আবার দখল করে নেয় এবং ১৮৮৬ সালে আরাকান সহ বার্মা চলে আসে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার কাছে।
মগ এবং রহিঙ্গাদের সম্পর্ক কখনোই খারাপ ছিল না। কারন এই ভুমি ঐতিহাসিক ভাবে বাংলার ভুমি। ১৫শ/ ১৬শ শতকের দিকে তাকালে দেখা যায় একসময় এই রোহিঙ্গারা আরাকানের মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছিল এমন কি প্রধানমন্ত্রীও। সমস্যা শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর পর। জাপানীরা যখন ভারত বর্ষ আক্রমণ করে তখন বার্মিজরা তাঁদের সহযোগিতা করে। এর কারন ছিল তখন পুরু ভারত জুড়েই চলছিলো ইংরেজ হটাও আন্দোলন। এই ইংরেজদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয় জাপানিদের আরাকান অঞ্চলে। সেই সময় রোহিঙ্গারা ইংরেজদের সমর্থন করে, কিন্তু মগরা করে জাপানিদের। ১৯৪১/৪২ সালে যখন ইংরেজরা পিছুহটে এবং আরাকান ছাড়ে, তখন মগদের সাথে শুরু হয় সমস্যা। তখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা কে হত্যা করা হয় জাপানি সৈন্যদের সহযোগিতায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মগরা, আমরা যাদের রাখাইন নামে চিনি, তারাও রোহিঙ্গা নিধনে বিশেষ ভুমিকা রাখে।
এই ইতিহাসের মূল কথা হল, আরাকান কখনোই বার্মার অংশ ছিল না। আজ রোহিঙ্গাদের উপর তারা যা করছে, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পাকিস্তানিরাও আমাদের তাই করতে চেয়েছিল। আজ যদি আমরা এই রোহিঙ্গাদের পাশে না দাড়াই, তবে ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:২১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×