somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন বছরে কি বাজিকরদের হাত থেকে মুক্তি মিলবে?

০২ রা জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন বছরে কি বাজিকরদের হাত থেকে মুক্তি মিলবে?
ওলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী

বছর শেষ হয়েছে দু'টি বিতর্ক দিয়ে। একটি বিতর্কের বিষয়বস্তু হচ্ছেন প্রধানত: গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল লরিয়েট ড: ইউনুস। অপর বিতর্ক টি্আইবি'র দূর্নীতি-বিষয়ক জরিপ নিয়ে। সরকারের কিছু কিছু কর্তাব্যক্তী এই সুযোগে দু'টি প্রতিষ্ঠানকেই একহাত দেখে নেওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন।
ড: ইউনুস মনে হয় নোবেল পেয়ে একটি অপরাধই করে ফেলেছেন। তাই নরওয়ের টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পরপরই এক শ্রেণীর লোক বিনা তদন্তে প্রফেসর ইউনুসের উপর ঝাপিয়ে পড়ার প্রয়াস পায়। এই তালিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই অনতিবিলম্বে যোগ দেন।
ট্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যখন দূর্নীতি নিয়ে তার জরিপ প্রকাশ করে, তখনও সরকার এবং প্রশাসনযন্ত্র থেকে হা-রে-রে রব উঠে।ট্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী পরিচালককে আসামী করে বিভিন্ন জায়গায় মামলা দায়েরের হিড়িক পড়ে। কি সেই হিড়িক! এক আদালত থেকে এমনকি তাদের নামে পরোয়ানাও বেরিয়ে যায়।
অবশ্য উদ্যম থেমে যায় অচিরেই। বিচারক হয়তো বুঝতে পারেন যে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডে ক্ষমতাশীনদের ঘনিষ্ট লোকজনও আছেন। শেষে পরোয়ানা জারির ফল হিতে-বিপরীত হতে পারে। পিছটান দেন বিচারক, বিকেলেই মামলা খারিজ করে দেন তিনি। এই ছোট্র ঘটনাই বিচার বিভাগ নিয়ে আকলমন্দ কে লিয়ে ইশারা!
টিআইবি ২৩ ডিসেম্বর সেবা খাতে দুর্নীতিসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের ১৩টি সেবা খাতের মধ্যে বিচার বিভাগে গিয়ে সবচেয়ে বেশি হয়রানি, অনিয়ম, ঘুষ দেওয়া তথা দুর্নীতির শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। ২০০৯-১০ সালে বিচারপ্রার্থীদের ৮৮ শতাংশ শুনানির সময় নির্ধারণ থেকে শুরু করে নথিপত্র গায়েব, উৎকোচ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের শিকার হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত—বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তরে ঘুষের দৃষ্টান্ত থাকলেও জরিপের শীর্ষে রয়েছেন উচ্চ আদালত। ২০০৯ সালের ৯ জুন থেকে এ বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব বিভাগীয় শহর ও গ্রামাঞ্চলের ছয় হাজার খানার (পরিবার) ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১০’ প্রকাশ করা হয়।
অবশ্য টিআইবি'র রিপোর্ট প্রকাশের আগেই অক্টোবরে "State of the Governance in Bangladesh 2009 " প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশনা উংসবে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের মন্তব্য ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়। তার ভাষ্য যা পরদিন সমকালে প্রকাশিত হয় তাতে তিনি বলেন, "দেশ এখন বাজিকরদের হাতে। ভর্তিবাজি, নিয়োগবাজি, টেন্ডারবাজি, দলবাজি, মতলববাজির রকমফের দেখে মানুষ দিশেহারা"।
২০১১ সালে কি পরিস্থিতির উন্নতি হবে?


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৭:২৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×