লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আজ সোমবার গাদ্দাফির বাসভবন বাব আল-আজিজিয়ার চারপাশে বিদ্রোহীর সঙ্গে তুমুল লড়াই চলছে। তবে গাদ্দাফি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা জানা যায়নি।
বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির গ্রিন স্কয়ারসহ শহরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের এক মুখপাত্র আল-জাজিরা টেলিভিশনকে আজ সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
নাসের নামের বিদ্রোহীদের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘মূলত ত্রিপোলির চারটি এলাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যা শহরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’
এর আগে বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, গাদ্দাফির বাসভবন বাব আল-আজিজিয়া ছাড়া পুরো ত্রিপোলি তাদের নিয়ন্ত্রণে।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, গাদ্দাফির বাসভবন ও এর কাছের একটি হোটেল এলাকাসহ ত্রিপোলির বিভিন্ন অংশে বিদ্রোহীদের সঙ্গে গাদ্দাফির বাহিনীর যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ওই হোটেলে বিদেশি সাংবাদিকেরা অবস্থান করছেন।
বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীতে গাদ্দাফির কয়েক হাজার সশস্ত্র অনুসারী রয়েছে। তবে তাদের কেউ কেউ বিদ্রোহীদের কাছে আত্মসমর্পণও করেছে।
ত্রিপোলি থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, এটা স্পষ্ট যে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গাদ্দাফি বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়েছে। এরই মধ্যে গাদ্দাফির প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড ইউনিট বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছে। এ ছাড়া তাঁর দুই ছেলেকে মোহাম্মদ ও সাইফ আল-গাদ্দাফিকে আটক করা হয়েছে। তবে গাদ্দাফি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা জানা যায়নি।
বিদ্রোহীরা এখন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে। গতকাল রোববার রাতে তারা ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থল গ্রিন স্কয়ারে ঢুকে পড়ে। সেখানে এখন বিদ্রোহীদের পতাকা উড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফির শাসন অবসানের দাবিতে গ্রিন স্কয়ার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা গতকাল ওই স্কয়ারের নাম দিয়েছে ‘শহীদ স্কয়ার’।
রয়টার্স জানায়, ত্রিপোলির বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে উৎসব করছে। তারা বিদ্রোহীদের স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির বাসিন্দাদের কাছে পাঠানো বার্তায় বলেছে, ‘মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের মুহূর্তে আমরা লিবিয়ার জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বিদ্রোহী জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের (এনটিসি) চেয়ারম্যান মুস্তাফা আবদুল জলিল আজ সোমবার বলেন, ‘আমি আপনাদের সতর্ক করছি, ত্রিপোলির ভেতরে ও বাইরে এখনো প্রতিরোধ রয়েছে।’ জলিল বলেন, ‘গাদ্দাফি বিদায়ের ঘোষণা দিলে তারা অভিযান বন্ধ করবে।’
গাদ্দাফির তথ্যমন্ত্রী ও মুখপাত্র মুসা ইব্রাহীম বলেন, ত্রিপোলিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গতকাল গ্রিনিচ মান সময় ১০টা (স্থানীয় সময় দুপুর বেলা) পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে পাঁচ হাজার ব্যক্তি। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে আহতদের ঠাঁই হচ্ছে না।
মুসা ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, ন্যাটো বাহিনী ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে শান্তিপ্রিয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা করছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকেরা দখলদার বাহিনীকে ত্রিপোলিতে অবস্থান করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, গাদ্দাফির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিতে গাদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ওবামা বলেন, ‘গাদ্দাফির বোঝা উচিত, তাঁর ক্ষমতা শেষ হয়ে আসছে। লিবিয়ার ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে গাদ্দাফির পরাজয় আসন্ন। লিবিয়ার নেতা তাঁর জনগণের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ করেছেন। লিবিয়ার জনগণের জন্য আরও দুর্ভোগ এড়াতে তাঁর অবশ্যই চলে যাওয়া উচিত।’
গত শনিবার রাতে সাগর পথে ত্রিপোলির পশ্চিমে প্রবেশ করে বিদ্রোহীরা। এরপর গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই হয়। গতকাল রাতেই বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেছে। রয়টার্স ও বিবিসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


