somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ "কামলা"

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিমান বন্দরে একজন পুলিশ কি মন্তব্য করেছে যেন!
"বালের কামলা" --- হাবিলদার বা এই পর্যায়ের কেউ তো! সে হয়তো নিজের যোগ্যতার দিকে তাকিয়ে দেখেনি,যে ঘুষ খাওয়া ছাড়া তার বউ এর শাড়ি দেয়ার যোগ্যতাও সে রাখে না।ভালো মন্দ কিছু খাবে সে তো অনেক পরের কথা।
হয়তো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে,লক্ষাধিক টাকা ঘুষ দিয়েই সে এই চাকুরীটা বাগিয়েছে,এটা যোগ্যতা?
তার চেয়ে ঢের পিছনে গেলে দেখা যাবে তার রেজাল্টের অবস্থা তথৈবচ,নবডঙ্কা।
সে যখন যোগ্যতা পরিমাপক হয় তখন সে আসলেই মানুষ কি না সে নিয়েই আমার সন্দেহ তৈরি হয়।কারণ মানুষ হলে সে বিবেক সম্পন্ন হতো,আর ভেবে দেখতো তার নিজের পুরোটাই ভেসে আছে ফানুশ এর মত।
কে হাবিলদার আর কে রিকশাওয়ালা সে নিয়ে আমার কোন খেদ নেই বা নেই কোন দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা কিন্তু যখন নিজের পাছা খোলা রাখা ব্যাক্তি ভাষণ দেয় তখন এগুলোকে কুকুর এর চেয়েও অধম মনে হয়,কারণ ?
যে দেশের অর্থনীতির চাকা প্রবাসীদের আয়ের উপর সরাসরি নির্ভরশীল সে দেশের জনগণ যদি এমন মন্তব্য করে তবে নির্দ্বিধায় তাকে শুটআউট করে মেরে ফেলা উচিত।
প্রবাসীদের টাকার উপর দাড়িয়ে আছে ২৯ বিলিয়ন ডলার এর রিজার্ভ।জিডিপির ৩০ ভাগ আসে প্রবাসীদের টাকার উপর।এই ৩০ ভাগের কারণে পদ্মা সেতুর জন্য সাহস উদ্রেক হয়।আর এই ৩০ ভাগের কারনেই শিক্ষিত যুবকের একটা অংশ বেসরকারি বা প্রাইভেট ফার্ম গুলোতে চাকুরী করতে পারছে।না হলে বর্তমানের দেড় কোটি বেকারের সংখ্যাটা ৩ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাত।প্রাইভেট ফার্ম গুলো দেশী টাকার উপর নির্মিত হয়?
মাস্টার্স পাশ করা ৪৭ শতাংশ বেকার যাদের কাজের ব্যাবস্থা দেশে নাই এবং ওই পুলিশ ব্যাক্তিটির মত ব্যাক্তি যখন ঘুষ দিয়ে এমন চাকুরী বাগিয়ে নিয়ে যায় তখন সে করে যোগ্যতার বিচার সে দেয় গালি?
১৯-২৯ বছরের ১৯ লাখ ৩৭ হাজার (বিবিএস এর মতে),দেড় কোটি (ইউএনডিপি এর মতে) যেখানে বেকার সেখানে মদ গাঁজা না খেয়ে দেশের জন্য ৩০ ভাগ অর্থনীতির যোগান যে দিচ্ছে সে হাতী,হাতী সে।কোন ঘুষখোর,দুর্নীতিবাজ ফটকা না।
এক সিলেটে ঘুরে আসেন।৬ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোতে প্রবাসীদের টাকা পড়ে আছে।এ টাকা আজ বাংলাদেশের সম্পদ।কে নিয়ে দিয়েছে জানেন? "কামলারা"
একটু প্রসঙ্গ যদি বুঝেন তবে বলুন তো কামলা মানে কি?যে কাজ করে,তাই তো?ডিকশনারি তে worker মানেই কাজের লোক বা কামলা বা শ্রমজীবী বুঝিয়েছে।যার সমার্থক শব্দ হল servant.
তো আপনি কি?আপনিও তো চাকরগিরিই করছেন,নাকি অফিসার (নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠানের মালিক) হয়ে নিজের ধনে পোদ্দারি করছেন?
আরেকটা মজার কথা না বললেই নয়।বিমান বন্দরে এসব পুলিশ বা তথাকথিত কর্মচারীরা এইসব প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রতিদিন নানা ভাবে টাকা ভিক্ষা নেয়।"বালের কামলা" দেড় যদি ফকির ভেবে থাকে তবে তারা কত বড় ধরনের ফকির যারা ফকিরের কাছে ভিক্ষা করে!!
প্রবাসে এসে দেখে যান (ইউরোপ আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী বলছি) সব চাকুরীই আপনার মত সরকারী বরং আপনার চেয়ে অধিকতর সুন্দর।কিভাবে?
আপনার চেয়ে বেতন যেমন ভালো তেমনি পেনশন পায় সবাই।পায় লাইফ সিকিউরিটি।
আর আপনি? ঘুষ আর দুর্নীতির উপর দাড়িয়ে আপনার পুরো জীবন।
পরিশেষে বলতে চাই,এসব লোকদের শুধু দোষ দেবো কেন?
কোন মানুষের কি মর্যাদা এ নিয়ে টক শো হয় না,দেশের জন্য কে কি করছে এসব জানানো হয় না,কোন সেক্টর এর প্রতি কেমন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত তা নিয়ে এ দেশে আলোচনা হয় না।
আলোচনা হয় সুফিয়া কে নিয়ে,আলোচনা হয় চেতনা আর চেতনা নিয়ে।তখন ওই ব্যাক্তির মত মানুষগুলো নিজেদের চেহারা আয়ানায় দেখার ফুসরত পায় না,চেতনার আয়নায় দেখে শিক্ষার আলো পায় না,শুধু পায় চেতনার নাম ভাঙ্গিয়ে কিভাবে বেশী গালি দেয়া যায় আর ঘুষ খাওয়া যায়।

ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে শেষ করছি।লন্ডনের রিডিং ইউনিভার্সিটির পদার্থ বিদ্যা বিভাগের হেড যার বই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় (আমি নাম ভুলে গেছি,ওই ইউনিভার্সিটির এক প্রাক্তন ছাত্র আমাকে বলেছিল) তিনি প্রতিদিন সকালে তাড়াতাড়ি এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার করতেন কিছু উপরি ইনকামের জন্য।কারণ কি জানেন? তারা কাজকে অবজ্ঞা করে না,কাজকে সম্মান করে ভালোবাসে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:২৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×