somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির হাত ধরে ফিরে যাওয়া....

২৬ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গত চার মাসে প্রকৃতিগতভাবে অথবা অপ্রত্যাশিত ভাবে আমরা পরস্পরের যতটুকু কাছে আসতে পেরেছি-
’ আপনি’ সম্বোধনে হয়ত দুজনে আবার ততটুকুই দূরে সরে যাব। সম্পর্কের ব্যবধান সহজে ঘুচাতে ’ তুমি’-
র কোন বিকল্প নেই। আমরা ---বিশেষ করে আমিই সেটাকে আগে ব্যবহার করেছি। আর আমার ভুলটি
হয়ত সেখানেই হয়েছে। কারন, তোমার সম্বোধন জনিত জড়তা তাতেও কাটেনি। কিন্তুু এটাতো ছিলো
নিছক একটা অজুহাত মাত্র। মজার ব্যপার হলো, তুমি সেটাও বুঝনি !

আমরা তোমাদের এলাকায় আসার পর থেকেই তোমার আম্মু ও আন্টি প্রায়শইঃ আমাদের বাসায় যাতায়ত
করতেন-এখনও করেন। শুনেছি তোমার আমার আম্মু দুজনে ছোটবেলা থেকেই নাকি বন্ধু। সেই সূত্রেই
তোমার নাম আম্মুর মুখে শুনেছি। তখনও এসব নিয়ে কিছু ভাবা হয়নি। হবার কথাও ছিল না। আম্মুর কত
বান্ধবীরই তো ’সুন্দর সন্তান’ রয়েছে। কিন্তু ব্যপারটা খুব বেশীদিন স্বাভাবিক রইল না। বলতে গেলে
তোমার সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়ে গেল হঠাত করেই। তাতে আমার নতুন বন্ধুদের ভূমিকাই প্রধান। প্রথম তো
তোমাকে আমি স্রেফ তাদের একজন বৈ অন্যকিছু ভাবতাম না। তোমার সাথে পরিচয় তো বছরখানেক
আগের, তোমাকে চিনতাম তারও আগে থেকে। যেন আমাদের জন্মের পূর্বে দেহহীন আত্মার কোন জগতে
আমাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল।

চার মাস আগের তুমি আর এখনকার তোমার মাঝে বিস্তর ফারাক। এতটাই যে, আমার সব হিসাব
এলোমেলো হয়ে যায়। প্রায়ই ভাবি-’এর আগের সময়টাতে তুমি কোথায় ছিলে? কোন মহুয়ায় সপ্নীল অরন্য
হতে জলন্ত ধূমকেতুর মত আমাদের পাড়ায়, আমাদের প্রতিবেশী রুপে আভির্ভূত হলে?’ উপমাটা বোধহয়
ঠিক হলো না, হয়ত এমনটা হওয়া উচিৎ ছিল’, বেশ তো ছিলে এত দিন সাদা কুয়াশার গর্ভে, কেন অযথা
আমার নিরীহ হৃদয়টাকে ছেলেমানুষী আবেগের শিশির বিন্দু দিয়ে জং ধরিয়ে দিলে?’ উপমা যাই হোক না
কেন, এটাতো অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, কোনদিন যা কল্পনাও করিনি, কোনদিনও যা হবার
কথা নয়, তাই -ই সদ্য ছেঁড়া পড়ন্ত পুঁথির মালার মত আমার জীবনে একে একে ঘটে চলছে।

আমাদের বারান্দা থেকে তোমাদের আঙ্গিনা দেখা যায়। এক পূর্নিমা তিথীতে, চাঁদের ভরা যৌবনে যখন
আমাদের অবস্থানগত দুরুত্বটুকু আবিস্কার করে ফেল−াম, হয়ত তখন থেকেই নিজেকে তোমার মাঝে খুঁজতে
শুরু করেছিরাম এবং এক সময় পেয়েও গেলাম। -’আরে এই তো আমি, কোথায় ছিলে এতদিন তুমি?’
অনুক্ত এ কথাগুলো বলার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায় যখন এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর কারো জীবনের
এক একটি ঘটনায় রূপান্তরিত হয়। অবাক করা ব্যপার হলো , পুরো ব্যপারটাই সম্পাদিত হয়েছে আমার
নিজের অজান্তে। কিন্তু, ইদনিং এটাকে এখন আমার এক ধরনের দুঃস্বপ্ন অথবা দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবতে
ইচ্ছা হয়। কারন, এ ধরনের দুঃস্বপ্ন অথবা দুর্ঘটনার শিকার তো একটা নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ হরহামেশাই
হয়।

তোমার সম্বন্ধে আমার মানসিক অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ অনেকবার তুমি স্বচক্ষে দেখেছো। তুমি তা বুঝেও
বুঝোনি, অথবা আসলেই কিছু বোঝনি, তাই হতাশ হয়েছি বারবার। তোমাকেও আমি বোঝার চেষ্টা
করেছি বহুবার। প্রতিবারই বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা ভেবে আশা নিরাশার দোলায় দুলেছি- অবশেষে কিছুই
বঝিতে পারিনি। কোনদিন পারব বলেও এখন মনে হয় না। তোমাকে জোর করে ভুলে থাকতে চেয়েছি,
তবে কাজটি যত সহজ ভেবেছিলাম, আসলে ওটা তার চেয়েও অনেক বেশী কঠিন। আমি সেটাও পারিনি।
সবচেয়ে সহজ কাজটাই আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমার এ না পারার ব্যর্থতার কাছে
আমি একেবারেই অসহায়। তাই হয়ত মাঝে মাঝে আক্ষেপ হয়, এতো অসম্পূর্নতা নিয়ে কেন জন্মালাম?
বিধাতা যদি আমাকে আরেকটু স্বয়ংসম্পূর্ন করতো তাহলে কি জগৎ সংসারের খুব বেশী ক্ষতি হয়ে যেত?










তোমার ব্যপারে জোর খাটিয়ে কিছু করতে গেলে সমস্যাটা প্রথমে আমারই হয়। যেমনঃ- তোমার অনুপস্থিতি
আমার জন্য স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়াটা সহজ নয়। তোমার অনুপস্থিতিটাই যেন তোমার উপস্থিতিকে গাঢ়
করে মনে করিয়ে দেয়। তখন তোমাকে ভীষণভাবে মিস করি। সদা দৃশ্যমান একটা সত্তাকে কৃত্রিমভাবে,
অনেকটা জোর করে অদৃশ্য করা না করার এক নিষ্ঠুর দ্বন্দ আমাকে ক্রমেই নির্জীব আর নিস্তব্দ করে
তুলেছে। আমার অবলম্বন এখন এক বুক হতাশামাখা দীর্ঘশ্বাস। আমার এই গোলাকার হৃদয়-হয়ত কোন
এক সময় তার অজানা কোন পাপের প্রায়শ্বিত্ত প্রাপ্য হয়ে গিয়েছিলো, আর সেটাই ঐ বুক বিদীর্ন হওয়া
দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে তিল তিল শোধ হচ্ছে।

তোমার প্রতিদিনের অস্তিত্ব, তোমার অদ্ভুত ব্যক্তিত্ব, তোমার সতেজ প্রানোস্পন্দন, তোমার নিত্য ব্যবহার্য
প্রসাধনীময় সুগন্ধ -আমর পৃথিবীর কাছে
একটি পূর্নবয়স্ক জীবনের সবটুকু
সময়ও যথেষ্ট নয়। এবং এ
অমিমাংসিত রহস্য হল আমার
অনাবিল প্রশান্তির সম্মিলিত উৎস।
যা আমার চেতনাকে আরো পরিপক্ক
করে তোলে। তবুও আশ্চার্যজনক
হলেও সত্য যে, পুরোপুরি প্রাকৃতিক
এবং অপ্রত্যাশিতভাবে; সেই সাথে
সময়ের ধারাবহিকতায়ও বলা চলে,
আমাদের মাঝের সুসম্পর্কটা (!)
আরও নিবিড় -আরো গভীর হতে
চলেছে। যার পরিনতি শুধু খারাপ নয়-
বেশ ভয়াবহ। তোমার জন্য না হোক,
অন্ততঃ আমার জন্য তো বটেই।
কেননা, আমি চোখর জলে এঁটেল
মাটির মত ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছি, অথচ
তার কিছুই তো তুমি টের পাচ্ছ না।
অবশ্য তাতে আমার এইটুকুই লাভ
হয়েছে যে, বিষন্নতার চোরাবালির কাছে নিজেকে সঁপে দেবার আয়োজনে বাঁধা দেবার মত আর কেউই
অবশিষ্ট রইল না। আমাকে ওটা অবলীলায় গ্রাস করতে আসবে। নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবার মত ভাগ্য বরণে
আমি প্রস্তুত- এ ধরনের প্রস্তুতি এর আগেও নিতে হয়েছে, তাই এতে আমি অনেকটা অভ্যস্থ। তবুও, এমন
কুটিল, নির্মম, যাতনাময় আর ...অব্যক্ত ভালোবাসার বন্ধনে সুখী হতে কে-ই বা চায়? ’আমিও এ সত্য
থেকে চিরতরে মুক্তি চাই।’ - এখন এরচেয়ে বড় সত্য আমার জীবনে আর নেই। হে সবজান্তা বিধাত্রী,
তুমি কি জান, আমাদের এ ভালোবাসার যবনীকা পর্ব কবে হবে?

তোমার ভালবাসার চাইতে ফেলে আসা অতীতে লোভ হচ্ছে বেশী। তাইতো আমি এখন বিশদিন আগের সময়ে ফিরে যেতে চাই, আমার স্মৃতিকে আমি আহ্বান করি আমাকে হাত ধরে অতীতে
নিয়ে যেতে, যাতে করে আগের মতই আমি মন উজার করে হাসতে পারি, আগের মতই ঝরঝরে অনুভূতি
নিয়ে ঘুম থেকে উঠতে পারি, শীতল চোখে তাকাতে পারি ভোরের নিস্কলুষ-কোমল সূর্যোদয়ের দিকে।
সর্বোপরি, আমি আগের ’আমিকে’ ফিরে পেতে চাই। যদি তা কোনদিন পেয়েও যাই, সময়ের বিষুবরেখাকে
যদি আলোর গতিতে একটু খানিও পেছনদিকে ফেরানো যায়, তবে আমার সে অসম্ভব আনন্দের মুহূর্তটিকে
অর্হনিশ আমারই করে রাখবো।


(এই লেখাটি অনেক বছর আগে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সাইদুর রাহমান জনিকে নিয়ে লিখেছিলাম)
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×