খুব ছোট একটা ঘটনা থেকে সূত্রপাত।
টার্ম ফাইনালের বন্ধে বাসায় গিয়ে ঠিক করি স্কুলের পোলাপানদের নিয়ে একটা ম্যাথ ক্যাম্প করাব। কাদের নিয়ে করানো যায় ভাবতে ভাবতে মাথায় আসলো - একটা অলিম্পিয়াড করে ফেললেই হয়! যারা ভাল করল তাদের নিয়ে নাহয় দুই-তিনদিনের একটা ক্যাম্প করে ফেলা যাবে। আর স্কুলে মোটামুটি ভাল কিছু ছেলেমেয়েও আছে, তাই সবমিলিয়ে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। মোটের উপর স্কুলে যে গণিত ক্লাবটা আছে, সেটার কার্যক্রমও একটু চাঙ্গা হল!!! সাথে যদি আশেপাশের স্কুলগুলো অংশ নেয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা!!!
সেই মোতাবেক মুনির হাসান স্যারের সাথে কথা হল। ঠিক হল মার্চ মাসে হবে "আশুগঞ্জ আঞ্চলিক গণিত উৎসব ২০১২' ।
এই উৎসবে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানাতে যেতে হয় উপজেলার প্রায় ৮-১০টা স্কুলে। প্রথমবারের মতো কোন গ্রামের স্কুলে গিয়ে পরিচয় হয় নতুন এক জগতের সাথে। তাই, স্কুলগুলোর শিক্ষকদের সাথে অলিম্পিয়াড নিয়ে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলালাম চারপাশে। কথা বললাম বেশ ক'জন স্টুডেন্টের সাথেও... ওদের সাথে কথা বলার সময় বারবার মনে হচ্ছিল - এই এতো শত সুবিধাবঞ্চিত বা স্বল্পসুবিধাপ্রাপ্ত বাচ্চাগুলোর জন্য আমরা আসলে কি করেছি? কি করছি?? চারিদিকে "মেধাবী'দের জন্য তো কতশত আয়োজন দেখি। "জিনিয়াস'দের খুঁজে বের করার জন্য চলছে কত চেষ্টা... কিন্তু এই "মেধাহীন'দের জন্য আয়োজন কোথায়??? নাকি "এদের সেই মেধা নাই, তাই এরা কেবল পিছিয়েই পড়বে'??? একটা কথা বারবার মনের কোনে ঘুরপাক খাচ্ছিল - May be they don't have that much Quality, but they are the Quantity. And this "Quantity of People' represents Bangladesh... আর তাই যখন এক টিনশেড স্কুলের হেডমাস্টার স্যার বলেই বসলেন - আসলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও কেবল 'এলিট'দের জন্যই; তখন স্তব্ধ হয়ে নিশ্চুপ মাথা ঝাঁকানো ছাড়া আর কোন কিছু বলার ছিলনা...
তাই ঠিক করলাম ঢাকায় ফিরে নতুন একটা কাজ করা শুরু করব - সময় পেলেই গ্রামের স্কুলগুলোতে গিয়ে পড়ানো শুরু করব। কথা বলে আসলাম স্কুলগুলোর সাথে। জানি আমরা হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারবনা। এতো বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় আমাদের উদ্যোগ খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবেনা। তবে শ্রম দেয়ার প্রচেষ্টাটুকু তো অন্তত করতে পারব! আর আমি এটা নিশ্চিত জানি, এরকম আরো অনেকেই আছেন যাদের শ্রম দেয়ার মানসিকতাটা খুব ভালোভাবেই আছে। শুধু দরকার একটুখানি উদ্যোগের
ঢাকায় ফিরে ম্যাথ অলিম্পিয়াড আর বুয়েটের অন্যান্য ভলান্টারি কাজ করা বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাইদের সাথে কথা বলা শুরু করলাম। সবাই মিলে ঠিক করলাম একটা টিম বানানোর। আমরা ছুটিছাটা পেলেই বিভিন্ন গ্রামে চলে যাব হাতে কয়েকদিন সময় নিয়ে, সেইখানে পড়াব বাচ্চাকাচ্চাদের। আমাদের আরেকটা প্রোজেক্ট আছে "শিক্ষা২৪' নামে, সেটাকেই কাটছাঁট করে নিজেদের নাম দিয়ে দিলাম "শিক্ষা'!!!
তারপর একদিন তিন বন্ধু মিলে আবারও বসলাম মুনির হাসান স্যারের সাথে। স্যারকে আমাদের প্ল্যানের কথা বললাম, বললাম আমাদের টিমের কথা। জানতে চাইলাম কিভাবে কোত্থেকে কাজ শুরু করা যায়। সেখানে উপস্থিত 'প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ' এর সূফী ভাই লুফে নিলেন আমাদের প্রস্তাব। প্রথম মিটিঙ্গেই ঠিক হয়ে গেল আমাদের কুষ্টিয়া ট্যুরের দিনক্ষণ। কোথায় যাব, কিভাবে যাব, কোথায় থাকবো - সবকিছুর ভার নিলেন সুফী ভাই; আমাদের কাজ পড়ল কি পড়াব, কিভাবে পড়াব সেটা ঠিক করা।
শুরু হল আমাদের পথচলা।
আমাদের এই পথচলার গল্প এই পর্বে আর লিখছি না!!! সামনের পর্বে থাকবে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মহেন্দ্রপুর গ্রামে আমাদের অসাধারণ তিনদিনের বর্ণনা।
আর আমাদের এই উদ্যোগ যদি আপনাকে একটু হলেও আগ্রহী করে তোলে এই পিছিয়ে থাকা বাচ্চাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য তাহলে আপনারাও এগিয়ে আসতে পারেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে।
আমরা চাইলে পাথরের বুকেও ফুল ফুটবে... ... ...
পাদটীকাঃ
শিক্ষা - ০১
মহেন্দ্রপুর শিক্ষা উৎসব ২০১২
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


