somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ কলঙ্কময় জেলহত্যা দিবস

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩ নভেম্বর ২য় মানবতার মৃত্যু ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ এরপর । আজ জেলহত্যা দিবস । জাতীয় চার নেতার সম্মানে আমার ক্ষুদ্র একটি লেখা ...


১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার মাধ্যমে ভারত ভাগ হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র। বাস্তবে এই দ্বিজাতিতত্ত্ব এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে নি। বরং পাকিস্তান নামে যে রাষ্ট্রের জন্ম হয় তারই দুটি অংশ পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের উপরে সীমাহীন শোষণ চালায় ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শোষিত বাংলাদেশিরা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নতুন একটি দেশের জন্ম দেন যার নাম বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার ঠিক আগ মূহুর্তে পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা বুঝতে পেরেছিলেন এদেশের মানুষকে আর শোষণ করা যাবে না। ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল বদর, আল-শামসরা হত্যা করেন এদেশের বুদ্ধিজীবী দের। এটি ছিল জাতিকে মেধাশূণ্য করার নীল নকশা। পৃথিবীর ইতিহাসে এই বর্বর ঘটনা সবাইকে স্তম্ভিত করেছিল।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জন্য আরেকটি শোকবহ দিন। ঐ দিন স্বাধীনতা বিরোধী কুচক্রীরা স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। বাংলাদেশকে অভিভাবক শূণ্য করেন। এরপর সামরিক জান্তারা আবার ফিরে আসেন তবে আর পাকিস্তানী নাম নিয়ে নয় পাকিস্তানী প্রেতাত্মা হিসেবে। স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে ক্রুশবিদ্ধ করেন এই প্রেতাত্মারা।

স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কাজে ছায়ার মতো ছিলেন জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এইচএম কামরুজ্জামান। এই চারজন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। ১৫ আগস্টের পর এদেশের বুকে আরেকবার প্রেতাত্মারা ক্রুশবিদ্ধ করেন ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরিন থাকা অবস্থায় এই মহান জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বুকে কলঙ্ক তিলক একে দেন প্রেতাত্মারা। বাংলাদেশকে আরেকবার পিছিয়ে দেন।

ঘাতকরা বাংলাদেশ থেকে স্বাধীনতা মুক্তিকামী স্বপ্নদ্রষ্টাদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য যে রক্তের হলি খেলা খেলে গেছে জাতি আজ অবধি সে শূণ্যতা পূরণ করতে পারে নি । অভিশাপ দিচ্ছি তাদের যারা এই কূ সংগঠনের পিছে নটের ভূমিকায় ছিলেন । কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা বাঙালির এই বীর সন্তানদের অবদান স্বীকার করেন । হে বীর ! তোমাদের মৃত্যুতে আমরা ভীত নয় আমরা গর্বিত তোমাদের মত নির্ভীক দেশপ্রেমিক পূর্বপুরুষ পেয়ে ।

তোমাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো ।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:২১



মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে যাচাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় রাজাকাররা বাংলাদেশর উৎসব গুলোকে সনাতানাইজেশনের চেষ্টা করছে কেন?

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ২:৪৯



সম্প্রতি প্রতিবছর ঈদ, ১লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস এলে জঙ্গি রাজাকাররা হাউকাউ করে কেন? শিরোনামে মোহাম্মদ গোফরানের একটি লেখা চোখে পড়েছে, যে পোস্টে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুরি করাটা প্রফেসরদেরই ভালো মানায়

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৩


অত্র অঞ্চলে প্রতিটা সিভিতে আপনারা একটা কথা লেখা দেখবেন, যে আবেদনকারী ব্যক্তির বিশেষ গুণ হলো “সততা ও কঠোর পরিশ্রম”। এর মানে তারা বুঝাতে চায় যে তারা টাকা পয়সা চুরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘুষের ধর্ম নাই

লিখেছেন প্রামানিক, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

মুসলমানে শুকর খায় না
হিন্দু খায় না গাই
সবাই মিলেই সুদ, ঘুষ খায়
সেথায় বিভেদ নাই।

হিন্দু বলে জয় শ্র্রীরাম
মুসলিম আল্লাহ রসুল
হারাম খেয়েই ধর্ম করে
অন্যের ধরে ভুল।

পানি বললে জাত থাকে না
ঘুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান-ইজরায়েল দ্বৈরথঃ পানি কতোদূর গড়াবে??

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১১:২৬



সারা বিশ্বের খবরাখবর যারা রাখে, তাদের সবাই মোটামুটি জানে যে গত পহেলা এপ্রিল ইজরায়েল ইরানকে ''এপ্রিল ফুল'' দিবসের উপহার দেয়ার নিমিত্তে সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট ভবনে বিমান হামলা চালায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×