somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একমাত্রা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমি ও মা একসাথে বের হয়েছি ভোট চাইতে। আমার এক হাতে একটা বালতি। সেখানে আঠা ভর্তি। আরেক হাতে এক বান্ডিল পোষ্টার। প্রার্থীরা সারা রাত ভরে ক্যানভাস করে। কারণ দিনের বেলায় সকলে কাজে ব্যাস্ত থাকে। নিতান্ত গৃহিনী ছাড়া আর কারও দেখা পাওয়া সম্ভব হয় না দিনের বেলায়। তাই সকলের কাছে ভোট চাইবার বার্তা পৌছে দেবার জন্য রাতই উপযুক্ত সময়। নির্বাচনের এই সময়টা সাধারণ মানুষের রাত্রের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে প্রার্থীরা তাদের দরজায় নক করে বলে, "বাড়ী আছেন নাকি?" মানুষ কিছু বলতেও পারে না। কারন এটাই রীতি। "পদ্মা নদীর মাঝি"র মত সেই বিনামূল্যে যাত্রী পারাপারের রীতি। বিরক্তি লাগলেও কিছু করার নাই।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। মনে সমাজতান্ত্রিক ভাব। বুঝতে চাই, দেখতে চাই, উপলব্ধি করতে চাই আমার চারপাশ। তাই সারারাত জেগে ঘুরি এ পাড়া হতে ও পাড়া, এক বাড়ী থেকে অন্য বাড়ী। মানুষের রাতের জীবনধারা কাছ থেকে দেখার কিছুটা সুবিধা হয়। আমার প্রধান কাজ যেখানেই খালি পাওয়া একটা পোষ্টার সেটে দেওয়া। পোষ্টার লাগানতে আমি তখন একজন অভিজ্ঞ ব্যাক্তি।

আমার পরনের প্যান্টটা ছিল স্কুল ড্রেসের। টানা এক মাস ওই প্যান্ট পরে কাজ করেছি। ময়লা আর আঠা লেগে প্যান্টটা এক অন্য রুপ ধারণ করেছিল। প্যান্টটাকে কেমন যেন মিলিটারী পোশাকের মত লাগত।

এলাকায় বেশীরভাগই গার্মেন্টস কর্মীদের বাস। কোন দিন রাত নাই এদের জীবনে। এক একটা রোবটীয় জীবন। যদি দিনের বেলা কাজ থাকে তাহলে রাত্রে ঘুমায়, যদি রাত্রে কাজ থাকে দিনে ঘুমায়। এরপরে আছে দিনমজুররা। এছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় সুপারভাইজার বা এজাতীয় পদে কাজ করা লোকও অনেক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।

একদিন রাত এগারটা কি বারোটা বাজে। এক বাড়ীতে গেলাম আমি আর মা। বাড়ীটায় কিছু আধা পাকা ঘর, কিছু টিনের ছাপড়া। হঠাৎ একটা বাশের চাটাইয়ের বেড়ার ছাপড়া চোখে পড়ল। মা ছাপড়ার কাছে যেয়ে বললেন কেউ আছে নাকি? দরজা খুলে দিলেন এক মহিলা। ভেতরে দেখলাম এক লোক ঘুমাচ্ছে, একটা বাচ্চা মহিলার সাথে বসে ভাত খাচ্ছে।

লোকটার গায়ে একটা চাদর, শুয়ে আছে একটা পাটির উপর, মাথাটা মাফলার ঢাকা। বাচ্চাটা তার মায়ের চাদরের নীচে ছিল, আমাদের দেখে বের হয়ে আসল। একটা শার্ট গায়ে। শার্টের একটা বোতাম ছেড়া। মহিলা ভাত খাচ্ছেন শুধু আলুর তরকারী দিয়ে। হ্যা শুধু আলু আর কোন কিছু নাই। হয়তো তার আলুর ঝোল খেতে ইচ্ছে করছিল তাই তরকারির মতন করে রান্না করছেন, মাছ বা মাংস কিছুই তার সাথে নাই।

ভোট চাওয়া ভুলে গেলাম আমরা।

মা জিজ্ঞাসা করলেন, "কি করো গো তুমি?"
উত্তরে বলল, "আমি আর আমার জামাই দুইজনেই কামলা দেই"
ঘর ভাড়া কত দেও?
মাসে ছয়শো টাকা।
প্রতিদিন কত পাও?
প্রতিদিন কাম থাকে না। থাকলে পঞ্চাশ ষাইট টাকার মত হয়।
ঘর ভাড়া ঠিকমত দিতে পার?
গত মাসের ভাড়া বাকী পড়ছে, এই মাসে দিয়া দেব।
মাস চলে যা পাও কাজ কইরা?
এই তো আল্লায় রাখছে।

মানুষের জীবন অনেক সংগ্রামের। প্রতি মূহুর্তে মূহুর্তে তাকে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। আমি একটু দূরে চলে গেলাম উনাদের কাছ থেকে। চোখ দিয়ে পানি আসতে ছিল। বেটা মানুষের নাকি আবার কাদতে নাই।

এত কষ্ট কেন মানুষগুলার। ওরা তো চুরি ডাকাতি করতে চায় না। কাজ চায় সামান্য কাজ। ওরা তো বলে না আমাকে একটা সূরম্য প্রাসাদ দাও থাকার জন্য, বিলাসী পোশাক দাও পরিধানের জন্য। সেই সকাল বেলা স্থানীয় বাজারে যেয়ে এরা বসে থাকে, যদি কেউ কাজের জন্য ডেকে নেয়। বেলা বাড়তে থাকে আর একদিনের কাজ করার সম্ভাবনা কমতে থাকে তাদের। কেউ যদি ঐদিন ডেকে না নেয় তাহলে ঐদিন তার চুলোয় হাড়ি চড়বে না। এত কঠিন কেন এই দিনমজুরদের জীবন? একবেলা খাদ্যের জন্যও তাদের ভাগ্যের উপর বসে থাকতে হয়, অথচ তাদের শরীরে শক্তি আছে, কাজ করার ইচ্ছা আছে। আমরা সবাই আসলে খুব গরীব।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×