প্রিয়-অপ্রিয় ঢাকা, তোমার ব্যস্ততা কমে কি কখনো?
গিয়েছিলাম তোমার কাছে, খুব ভোরে। মনে করেছিলাম তোমাকে ডেকে তুলতে হবে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম তুমি জেগেই আছো। তোমাকে ঘিরে যারা বেঁচে থাকে তাদের জন্যে ব্যস্ত হাতে কাজ করে যাচ্ছ।
তারপর ভোর পেরিয়ে দুপুর হতে শুরু করে আর তোমার ব্যস্ততা তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। তপ্ত দুপুরে যখন সবাই ক্লান্ত, সেই তখনও তোমার ব্যস্ততা কিছুমাত্র কমে না। বরং দেখে মনে হয় এই তপ্ত দুপুরেই যেন তোমার ব্যস্ততার পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে বহুগুণ।
সূর্যের এই তপ্ত অবস্থাও তোমার ব্যস্ততার কাছে হার মানে, আর তাই সে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া শুরু করে। তোমার ব্যস্ততা তাকে ক্লান্ত করে দেয় ঠিকই কিন্তু তোমার ক্লান্তি আসে না। বিকেলে পার্কে যখন সবাই বিশ্রাম নেয়, তখনও তুমি ব্যস্ত। বিশ্রাম নেবার কথাও তোমার কাছে কোনদিন শুনতে পারি না।
অতঃপর ধীরে ধীরে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে, আর তোমার রাস্তা-ঘাট আর ছোট ছোট বাক্স গুলির ভেতরে আলো জ্বলতে শুরু করে। রাতটাকেও তুমি দিনে পরিণত করে দাও তাদের জন্যে। সেই রাতও বাড়তে থাকে, সবাই নিজ নিজ কাজ থেকে ছুটি নিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। এইবার মনে করেছিলাম তোমার ব্যস্ততা কমবে, তুমিও বিশ্রাম নিবে এখন, কিন্তু সেটাও হয় না।
রাত যেমন সবার জন্যে বিশ্রামের হয় না তেমনি তোমার ব্যস্ততা ও তাদের জন্যে কমতে চায় না। চলতেই থাকে, চলতেই থাকে অবিরাম...
তারপর যতটুকু অন্ধকার থাকলে সেটাকে রাত বলে ততটুকু অন্ধকার শেষেও অপেক্ষা করেছি তোমার ব্যস্ততার শেষটা দেখার জন্যে। দেখা হয়নি, যখনই অন্ধকারটুকু কেটে গিয়ে একটু একটু আভা ছড়ানো শুরু করলো, ওমনি তোমার ব্যস্ততা নতুন রূপ নিতে থাকলো....
ব্যস্ত ঢাকা! কখনো কি সত্যিই তোমার ব্যস্ততার শেষ হয়?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৪ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



