somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এবং পাড়ার গলু

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার বাড়ির সামনে একটা ছোট গেট আছে । গেটটা এমন মজবুত করে তৈরি করে । কেবল বাঁশ চিরে সেটা বানানো হয়েছে । মুল ঘরের সামনের দিকে অল্প কিছু অংশ ফাঁকা স্থান । সেখানে বেড়াটা দেওয়া । এখানে কয়েকটা ফুলের গাছ লাগানো রয়েছে । ছাগল গরুদের হাত থেকে রক্ষার জন্যই এই বেড়া দেওয়া ।

আজকে গেটের কাছের আসতে গলুকে দেখতে পেলাম । আমার বাড়ির দরজার সামনে চুপ করে দাড়িয়ে রয়েছে। আমার একটু মন খারাপ হল । কয়েকদিন আগে বেচারাকে কষে একটা লাঠি মেরেছিলাম । আমি অবশ্য পশুপাখিদের প্রতি এতোটা নির্দয় আচরন করি না । কিন্তু এই বেটার কাহিনী আলাদা ।

আমার বাগানে গরু ছাগল ঢুকতে দেই না গাছ খেয়ে ফেলে বলে । এই কারণেই বেড়া দেওয়া । কিন্তু গলু মানে কুকুর ঢুকলে কোন সমস্যা নেই । কুকুর তো গাছ খেতে পারে না । আমি সেই হিসাবে এই কুকুরটাকে বাগানের ভেতরে ঢুকতে দিতাম । আমার কোন সমস্যা ছিল না । কয়েকদিন সে আসতো চুপচা বসে থাকতো । আমি মাঝে মাঝে আমার খাবারের কিছু বেঁচে যাওয়া খাবার ঠিকই দিতাম । আমার আসলে একটু মায়াই লাগতো কুকুরটার জন্য । জাতে তো নেড়ি টাইপের কুকুর এবং বয়সও হয়েছে । সম্ভবত আগের মত আর শরীরে জোর নেই একা একা থাকতে পারে না খেতে পারে না । বাগানে ঢুকতে দিতাম । মাঝে মাঝে খেতে দিতাম ।

কিন্তু সমস্যা হল একদিন দেখলাম বাগানের মুল রাস্তার পাশে বেটা মল ত্যাগ করে বসে আছে ।
এই হচ্ছে নেড়ির সমস্যা । মেজাজটা একটু খারাপ হলেও কিছু বললাম না ।

কিন্তু পরপর কয়েকদিন একই কাজ করা শুরু করলে মেজাজটা একটু খারাপই হল । বেটাকে আমি আমার বাগানে ঢুকতে দিচ্ছি । খেতে দিচ্ছি আর বেটা কিনা আমারই বাগানই নষ্ট করছে । যখন পরপর এক সপ্তাহ এমন ভাবে চলল তখন মেজাজটা আর ঠিক রাখা গেল না । সোজা কষে একটা কোমড় বরাবর লাথি মেরে বাগান থেকে বের করলাম ।
লাথি উঠে বললাম, ফের যদি এদিকে আসিস তাহলে খবর আছে !

দৌড়ে পালালো । অন্য কারো বাসায় গিয়ে হাজির হবে হয়তো ।

কিন্তু দুদিন পরে আবার এসে দেখি আমার গেটের কাছেই এসে হাজির । আমি খবর পেয়েছি গলু পাড়ার অন্য বাড়িতে যায় । খাবার খায় । তবুও বেটা আমার বাসায় কেন আসছে! তবে আমি ঢুকতে দিলাম না । গেট রইলো বন্ধ ।
কয়েকদিন পরে খেয়াল করলাম বেটা খেয়ে খেয়ে বেশ নাদুন নুদুস হয়েছে । বুঝতে পারছি পাড়ার অন্য ঘরে খাচ্ছে ভাল। যাক খাক । খেয়ে বড় হোক । আর বাঁচবেই কটা দিন । একটু শান্তিতে থাকুক ।
কিন্তু আমার ঘরের সামনে ঠিক ই আসতো সে । আমার ঘরে ঢোকার জন্য সে চাহনী ! একবার মনে হল বেচারাকে আমার ঘরে ঢুকতে দিই । বাগানে ঘুরে বেড়াক । তবে বাড়ির লোকজন বলল, এই বদমাইসটাকে যেন কোন ভাবেই ঘরের ভেতরে না ঢুকতে দিই । এই শরীর দিয়ে গন্ধ বের হয় । বয়স হয়ে গেলে সব গুলো শরীর থেকেই এমন গন্ধ আসে । আর এর ঢুকলেই জায়গা নষ্ট করবে !


কদিন পরে আমাদের পাড়ার খালেক ব্যাপারী আমার কাছে এসে বলল, আমার বাড়ির সামনে এই কুকুরটা দাড়িয়ে থাকে আমি ওটা কে ভেতরে ঢুকতে কেন দিই না । আমি কুকুরকে ভয় পাই ।
আমি হেসে বললাম, আরে ভয় পাওয়ার কী আছে বলেন চাচা । সামান্য একটা বুড়ো কুকুর । পাছায় এক লাথি দিলেই কুই কুই করে দৌড়াবে ।
-তাহলে বাবা কেন ঢুকতে দাও না । দেখো না তোমার বাড়ির সামনে এসে কেমন দাড়িয়ে থাকে । তুমি হয়তো জানো না তুমি যখন বাইরে যাও, কিংবা পাড়ায় তোমার ঐ বন্ধু মোমিনের বাড়িতে যাও ও ঠিক ঠিক তোমার পেছন পেছন যায় ।
-হ্যা । আম দেখেছি । যেখানেই যাই যার সাথে কথা বলি পেছন থেকে ঘেউ ঘেউ করে । করুক । এর আসলে দৌড় এই পর্যন্ত !
-তবুও একটু ভেবে দেখো । এমন একটা অবলা প্রাণী ।
-না চাচা ! মোটেই অবলা নয় । এই বেটা বিরাট বদমাইশ । যেখানেই খায় সেখানে জায়গা নষ্ট করে। যা গন্ধ ছড়ায় জানেন না । আপনি তো ঢুকতে দেন আপনার বাড়িতে !

খালেক চাচাকে দেখলাম একটু কী যেন ভাবলো । তারপর বলল একটু অবশ্য করে । তবে আমি কিছু মনে করি না ।
-আমার আসলে এতো ধৈর্য্য নেই । তাই দুরে রাখি ।

আজও গলুকে দেখতে পেলাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ! আমাকে দেখেই একটু যেন ঘেউ ঘেউ করে উঠলো । বাগানের ভেতরেই একটা ছোট বাশের লাঠি ছিল । সেটা তুলে নিয়ে দৌড় দিতেই দেখলাম খেচে দৌড় দিল । দাড়ালো কিছু দুর গিয়ে । আরেক পা এগিয়ে আবারও একটু ঘেউ করে উঠলো । এবার লাঠিটা ছুড়ে মারতেই ঠিক ঠিক গিয়ে লাগলো পেছনে । সাথে সাথে কুউকঊকুউ করতে করতে দৌড় দিলো ।

এদের আসলে স্বভাবই এই একই রকম। কাছে তো ঠিক আসতে পারবে না । দুর থেকে কেবল কুউকুউ করবে ।



ছবি উৎস
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:৪৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। :#(

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৯



হ, আপনি জিতছেন, আপনারাই জিতছেন। সারাবিশ্ব থেকে ০৬ দিন সংযোগ বিচ্ছিন রেখে আপনারাই জিতছেন। অপরদিকে আলুপোড়া খেতে আসা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি (নাকি অপশক্তি) আপনারাও জিতছেন। দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন ছিলাম আমরা?

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৫


কি দুঃসহ কয়েকটা দিন কাটালাম আমরা- কয়দিন কাটালাম মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে! অনলাইন দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেন আশির দশকে ফিরে গিয়েছিলাম আমরা। পার্থক্য; বিটিভির পরিবর্তে অনেকগুলো নতুন রঙ্গিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের মুখে এই সরকারের পতন না হোক।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:২৯


গত ১৫ বছর এই সরকার যেভাবে দেশ চালিয়েছে, বিরোধীদেরকে যেভাবে কন্ট্রোলে রেখেছে এবার সেভাবে পারেনি। শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যে দেখা গিয়েছে উনি খুবই চিন্তিত ছিল এই আন্দোলন নিয়ে। একটি সাদামাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের এত বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে ছেলেখেলা আর কতদিন?

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫১

আচ্ছা, ডাটা সেন্টারে আগুন লাগলে সমস্ত দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়? কোন মদনা এই কথা বিশ্বাস করতে বলে? পলক ভাইজান? তা ভাইজানের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি? পলিটিক্যাল সায়েন্স। আর? এলএলবি। উনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি: বাংলাদেশ কখনও এই নির্মমতা ভুলে যাবে না!

লিখেছেন মিথমেকার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১:৪৮


ইতিহাসে "৭১" এর পর এত স্বল্প সময়ে এত প্রাণহানি হয়নি। সম্ভবত আধুনিক বিশ্ব এত প্রাণহানি, এত বর্বরতা, স্বজাতির মধ্যে এর আগে দেখেনি। সমগ্র বিশ্বে বর্বরতার দৃষ্টান্ত হলো বাংলাদেশ!
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×