somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারের বইমেলা ২০২৬

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এইবারের বইমেলাটা অন্য সব বইমেলা থেকে আলাদা। প্রতিবার বইমেলা নিয়ে পাঠক, লেখক, প্রকাশকদের মাঝে একটা আগ্রহ উচ্ছাস কাজ করে তবে এবার তার ব্যতিক্রম। এবার কারো ভেতরেই তেমন আগ্রহ উদ্দীপণা দেখা যাচ্ছে না, অন্তত মেলার শুরুর আগ পর্যন্তটা হয় সেটা বিবেচনা করলে মনে হচ্ছে মেলাটা করতে হয় তাই সবাই করছে।
সবাই আসলে নির্বাচন নিয়ে এতো এতো বেশি উত্তেজিত ছিল যে অন্য কিছুর দিকে কারো কোন আগ্রহই নেই। এছাড়া শুরু থেকে মেলা শুরু হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। একবার ঠিক হয়েছিল যে মেলা শুরু হবে ডিসেম্বরে। নির্বাচনের আগেই মেলার ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে তবে সেখানে প্রকাশকরা বেঁকে বসলো। নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগে মেলা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি তাদের ছিল না। তারপর একবার ঠিক হল মেলা শুরু হবে ঈদের পরে। এটা মূলত প্রকাশকদের দাবী ছিল তবে বাংলা একাডেমি সেই দাবী মানে নি। একাডেমি ঠিক করলো যে মেলা হবে বিশ তারিখ থেকে। সেখানেও অধিকাংশ প্রকাশক মেলায় স্টল দিতে অনিহা জানাল। তারপর নতুন সরকারের মন্ত্রী সাহেব মেলার স্টল ভাড়া মওকুফ করে দিলে পুরোটা। দিন ঠিক হল ফেব্রুয়ারির ২৬ থেকে মার্চের ১৫ তারিখ। মাত্র ১৮ দিনের মেলা। এতো কম সময়ের মেলা এর আগে কোন দিন হয় নি।
রোজার মাসে মেলায় আমি এই প্রথম গেলাম। রোজা রেখে মেলায় যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ কঠিনই বলা চলে। অন্যবার মেলায় মানুষ যায় মূলত বিকেল বেলা। অফিস থেকে অনেকেই মেলায় যায়। এখন রোজার সময়ে সেই বিকেল বেলাতে মেলায় যাওয়া কঠিন একটা ব্যাপার। তাই প্রতিবারের থেকে মেলায় যাওয়ার পরিমান অনেক কমে যাবে। শুধু মাত্র ছুটির দিনগুলোতে যা একটু লোক হতে পারে। অন্যান্য দিন তেমন মানুষের ভীড় হবে মনে হয় না।



গতকাল শুক্রবার মেলায় গিয়ে হাজির হলাম দুপুরের নামাজের পরে। একবার মনে হয়েছিল আরো কয়েকদিন পরে যাব তারপর মনে হল পরের যাওয়ার সময় না হয় যাওয়া যাবে তবে ফেব্রুয়ারিতে মেলা হবে আর যাবো না তা তো হয় না।
আমি ভেবেছিলাম মানুষজন হবে না। সব স্টল একেবারে ফাঁকা থাকবে। দেখলাম বেশ ভালই মানুষ এসে হাজির হয়েছে। অনেক স্টলেই মানুষ ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। আমি যখন বের হয়ে এলাম তখনই আরো অনেক মানুষের ভীড় হয়ে গিয়েছিল।
তবে স্টলের কাজ কর্ম অনেক বাকি। চার ভাগের এক ভাগ স্টলের কাজ তখনও বাকি। বেশ কয়েকটা স্টলে কোন বই নেই, তাদের কাজ অর্ধেক বাকি হয়ে পড়ে আছে। এতো দেরিতে শুরু হওয়ার পরেও স্টলের কাজ শেষ হয় নি দেখে একটু বিরক্তই লাগছিল। পুরো মেলা একবার টক্কর মারলাম। এটা আমার অভ্যাস। মেলাতে ঢুকেই আমি পুরো মেলা এদিক থেকে ওদিক একবার ঘুরে দেখি। তারপর কেনাকাটা। যদিও খুব বেশি বই কেনার ইচ্ছে ছিল না। ঠিক করে এসেছিলাম মাত্র দুইটা বই কিনব। তবে সেটা আর কেনা হল কই!



দেখতে দেখতে কয়েকটা বই কিনেও ফেললাম। বছরের ভেতরে এই মেলার সময়টা আমার মনটা ভাল থাকে। কয়েকবার করে আমি মেলায় যাই। আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ক্লাস শেষ করেই সোজা চলে যেতাম মেলার মাঠে। মেলায় এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যার দিকে টিউশিনিতে যেতাম। তখন পকেটে বাজেট থাকতো কম। হাতে গোনা কয়েকটা বই কেনা হত। যখন বাজেটের পরিমান বাড়ল তখন মেলায় যাওয়ার সময় কমে এল। সব সময়ই আমি মেলাতে ছুটির দিন বাদে যেতাম। কারণ এই দিনে প্রচুর ভীড় থাকত। তবে এবার মনে হচ্ছে ছুটির দিন ছাড়া আর একটা দিনও যাওয়া হবে না। সেই সময়ই এবার নেই।
যাক, প্রথমদিন মেলাতে ঘোরাঘুরি করে বেশ ভালই লাগল। বেশির ভাল লাগল আরেকটা কারণে। প্রতিবার মেলায় আমি যখন খাবারের স্টলের দিকে যেটাম তখন তেমন যে দেখানে প্রচুর মানুষ বসে রয়েছে। ভাবটা এমন যেন ওরা বইমেলায় গিয়েছে খাওয়ার জন্য। ওদের বেশির ভাগই কোন বই কিনতো না। ব্যাপারটা আামর কাছে বিরক্তই লাগত। এবার সেই ব্যাপারটা কম হবে।
যাদের সময় হবে একবার করে বই মেলায় ঘুরে আসুন। আর আপনাদের পরিচিত কারো বই বের হলে আমাকে বইয়ের নাম আর স্টল নম্বর জানানোর অনুরোধ রইলো। আমি মেলা থেকে সব সময় নতুন এবং অখ্যাতদের বই কেনার চেষ্টা করি। পরিচিত বিখ্যাত লেখকদের বইতো সারা বছর কেনাই হয়।

হ্যাপি রিডিং।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন যখন শুকায়ে যায়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৩


জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানা গেল লিম্বস কলাপসের টেস্টটার খরচ পড়বে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। তমাল কাকাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে গেল পান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালো রাজনীতি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



হাজার হাজার বছর ধরে কালো রাজনীতি বহমান। কোনো ধর্ম কোনো রাজনৈতিক প্রধান হাতিয়ার বা রাজনৈতিক প্রধান সূত্র হতে পারে না, হওয়া উচিত না। বলা হয়ে থাকে ধর্মের কাজ নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা’তেই আস্থা । আওয়ামী লীগ তার নিজের শক্তিতেই ফিরে আসে।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৯



এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার একটি ভাষণ দেখছিলাম। বক্তব্যের বিষয় ছিল আওয়ামী লীগ। তার দাবি—
জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল, আর সেই সুযোগ দেওয়ার কারণেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তিন পুরুষ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫


কলিং বেল বাজাবে, না-কি ফোন দেবে? এ ব্যপারটা নিয়ে রায়হান খানিকক্ষণ ভাবলো।কিছুটা সঙ্কোচ আর  কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল তার মধ্যে ।একবার তো ভাবলো ফিরেই যাবে। এত দিনের অনভ্যাস,সম্পর্কটাও যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পাঁচ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৫



আজ শনিবার দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটে কে বা কারা ইরানের পাঁচটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায় নি। ইরান এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×