somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ পার্সিয়ান জল্লাদকে হত্যা করার জন্য

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে আমার এতো চিন্তা কোন কালেই ছিল না। আমেরিকান বা ইসরায়েল আগ্রাসনের পক্ষে আমি কোন দিন ছিলাম না। এখনও নেই। তবে সত্যি এই পৃথিবীটা এই রকমই। জোর যার মুল্লুক তার। তোমার ক্ষমতা আছে, যা ইচ্ছে তাই করতে পারো। তোমার ক্ষমতা নেই, চুপ করে সহ্য করো। এই কারণে এসব দেখেও না দেখার ভান করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। সত্যিই নেই।

কিন্তু গত জানুয়ারিতে যখন ইরানে প্রোটেস্ট শুরু হল, খামেনি রেজিম ইন্টারেট বন্ধ করে, কী রকম ভাবে তার নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করতে লাগল তখন মনের ভেতরে সেই একটা অস্থির ভাব এসে জড় হয়েছিল আমার। জুলাইয়ে যখন এমনটা নিজের দেশে শুরু হয়েছিল তখন এমন অস্থিরতা মনের ভেতরে ছিল। ইরানীদের জন্য অনুভূতিটা এতোটা তীব্র না হলেও অশান্তি ছিল খুব। কিছুতেই যেন শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমি কয়েকটা দিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি তখন খুব করে চেয়েছিলাম ট্রাম্প যেন হামলা করে ইরানে। সত্যিই চেয়েছিলাম। তারপর খামেনি রেজিম কিভাবে সাধারণ ইরানীদের উপর হামলা করেছে তার ভিডিও যেটুকু সামনে এসেছে সেগুলো দেখলে খামেনির শুয়োরের বাচ্চার উপর ক্ষোভ আসা স্বাভাবিক। সেই হামলা এল অবশেষে। আর হাসির ব্যাপার দেখেন, এতো দিন খামেনি আমেরিকাকে হুমকি দিয়ে এসেছে, এই করবো, সেই করবো, আর বাস্তবে দেখা গেল একেবারে প্রথমদিনই পটল তুলল।

আপনি যদি ইরানীদের ৫০০ বছরের ইতিহাস দেখেন তবে দেখবেন মিডিলইস্ট দেশগুলোর ভেতরে সব থেকে রিচ কালচারের ছিল এই ইরানের। শিল্প সংস্কৃতি সব কিছুর দিক দিয়ে তারা ছিল এগিয়ে। কিন্তু যখন খোমিনি ক্ষমতা দখল করলো সেই সব কালচার ধ্বংশ করে কেবল এক কালচার কনভার্ট করলো। সবাইকে এক কালচার মানতে বাধ্য করা হল। সবার আগে বন্দী করা হল মেয়েদের। অন্য জাতিগোষ্ঠীদের কোন ঠাসা করেছে। ভিন্ন মতাধর্মিদের খুন করেছে জেলে বন্দী করেছে। খামেনির চাপিয়ে নীতি যেই মানতে চায় নি তার উপরেই নেমে এসেছে নির্যাতন মৃত্যু। এর থেকে বড় ভুক্তভোগি হয়েছে মেয়েরা। খামেনি মরার পর একটা ভিডিও দেখতে পেলাম, যেখানে একজন মেয়ে তার জানালা থেকে ভিডিও করে দেখাচ্ছে যে মিশাইল হিট করেছে খামেনির প্রাসাদে এবং তার কন্ঠে যে উচ্ছাস প্রকাশ পাচ্ছিল সেটা বলে বোঝানোর মত না। এই করম হাজার হাজার ভিডিও আপনি ইন্টানেটে দেখতে পাবেন এই কদিনে। সবাই খামেনির মৃত্যুতে আনন্দ করছে। এরা কিন্তু সবাই ইরানী। কেউ দেশের ভেতরে আবার কেউ বাইরে। আমি জানি না যে ইরানের ভাগ্য আসলেই পরিবর্তন হবে কিনা তবে খামেনি শুয়েরের বাচ্চা কুকুরের মত মরেছে এটাই সব থেকে বড় ব্যাপার। এই জল্লাদ কেবল একটা মরে নি বউ মেয়ে মেয়ে জামাি নাতনি সব মরেছে! গত জানুয়ারিতে মাত্র দুইদিনের ভেতরে খামেনি রেজিম ৩৬ হাজার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে। আপনি ব্যাপারটা একবার কল্পনা করে দেখেন। প্রতিটা বাড়িবাড়ি গিয়ে তারা বিক্ষোভকারীদের খুজে হত্যা করেছে। এবার পাশা উল্টেছে। এবার অত্যাচারিদের উপর হামলা হচ্ছে! এদের জন্য বিন্দু মাত্র সহানুভূতি নেই। খামেনি রেজিম এবং এর সমর্থনকারী প্রত্যেকটার উপর যেন বোম এসে পড়ে। রাস্তায় যেন কুকুররের মত মরে এরা। ৪৭ বছর ধরে এরা অত্যাচার করে এসেছে, নয়তো অত্যাচারের সমর্থন করেছে, এদের কপালে এটাই যেন থাকে।

অনেকেই হয়তো বললেন এই রকম ভাবে একটা স্বাধীনদের উপর অন্য দেশের হামলা আমি কিভাবে সমর্থন করছি! আমার মতে, প্রত্যেকটা স্বৈরশাসক অত্যাচারির ভাগ্য ঠিক একই রকম পরিনতি হওয়া উচিৎ। ইরানের কাছে এটাই হচ্ছে লাস্ট অপশন। হাজার হাজার ইরানীরা এটা চেয়েছে। এটা ছাড়া খামেনির মত স্বৈরশাসককে উপড়ে ফেলা সম্ভব ছিল না। আর স্বৈরশাসক আর অত্যাচারি শাসকদের উপড়ে ফেলার জন্য যে কোন উপায়ে আমার সমর্থন রয়েছে।


ট্রাম্পকে আবারও ধন্যবাদ দেই। মানুষ যত খারাপই হোক সেই কোন না কোন, জীবনে সে কোন না কোন ভাল কাজ ঠিকই করে। শেখ হাসিনাকে আমরা যতই অপছন্দ করি না কেন সে অনেক ভাল করেছে, এই কথা অস্বীকার করতে পারবে না কেউ। আমেরিকান প্রেসিডেন্টরা জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে, ট্রাম্পও জীবনে অনেক খারাপ কাজ করেছে। ট্রাম্প যদি জীবনে একটা ভাল করে থাকে তা হচ্ছে এই পা্র্সিয়াল হিটলারকে খুন করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ হারে না

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩০


বেশ কয়েক বছর দেশে যাই না, এবার ভাবছিলাম দেশে গিয়ে ঘুরে আসব! সামারে আমাদের ছুটি থাকে লম্বা তিন মাস, কোন ক্লাস নেই। আমেরিকায় একাডেমিক লাইনে এটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যরাতের যাত্রী

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১৪


আজ সুমনার কাজ একটু দেরী করেই শেষ হয়েছে। নার্সিং হোমের এই কাজে আছে প্রায় এক দশক ধরে। কাজ শেষ করতে প্রতিদিনই বেশ রাত হয়ে যায়। বৃদ্ধ রোগীদের দেখাশোনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা অলমোস্ট ধ্বংসের পথে | It's time for a new middle east B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৪৬



আপনারা সবাই জানেন যে ইরানের পোষা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে; মধ্যপ্রাচ্যের এমন কোন দেশ নেই যারা কোন না কোন ভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার ডলার সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৩



মধ্যপ্রাচ্যেতে থাকা প্রচুর বাংলাদেশী আছেন যারা আট দশ বছরেও দেশে আসতে পারছেন না। করোনার কারণে অর্থনৈতিক ভাবে হাত পা ভেঙ্গে গিয়েছে। এরা স্ত্রী সন্তান রেখে বছরের পর বছর যুগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ২০২৬ এর সাত দিন ও আমার ইফতার প্লাটারস..... :) :) :)

লিখেছেন শায়মা, ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫১

সেই যবে থেকে আমি এই ব্লগে পদার্পন করেছিলাম তবে থেকেই আমি রোজা রমজানে আর কিছু না হোক আমার ক্রিয়েটিভিটির নানা রকম ইফতার ও তার রেসিপি দিয়ে আসছিলাম। কালের বিবর্তনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×