somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপু দ্যা গ্রেট
নিজেকে জানতে চাই,ছুটে চলেছি অজানার পথে,এ চলার শেষ নেই ।এক দিন ইকারাসের মত সূর্যের দিকে এগিয়ে যাব,ঝরা পাতার দিন শেষ হবে ,আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাব ।

টাইগার্সঃ ক্যান এ সেলস ম্যান বি এ হিরো (মুভি রিভিউ)

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমরা জীবনে কতটা সুযোগ পাই । কতটুকুই বা আমাদের সামর্থ্য আছে । সত্যি বলতে আমরা কত দিন বাচবো বা কত দিনের জীবন এটা নিয়ে কখন ই ভাবি না । আমাদের সবার জীবনের আলাদা ভাবে একটা উদ্দেশ্য আছে । সবাই সেই উদ্দেশ্য খুজে পায় না । কেউ কেউ হয়ত শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায় । এক জীবনে কেউ হিরো হতে পারে না । আবার সবাই তার নিজ নিজ জায়গায় হিরো । হয়ত সুযোগ আসবে এক বার সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে । খুব সাধারন থেকে হিরো হবার সুযোগ সবার হয় না । তবে লড়াই করে যেতে হয় । ঠিক তেমন এক কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে “টাইগার্সঃ ক্যান এ সেলস ম্যান বি এ হিরো” ।

কাহিনীসুত্র

আয়ান যে পাকিস্তানে বসবাস রত একজন সেলসম্যান । যে এক লোকাল ফার্মাসিটিউক্যাল কোম্পানিতে কাজ করে থাকে । খুব কম পরিসরে তার জীবন যাত্রা চলে যায় । জীবনের কাছে বেশি কিছু চাওয়া পাওয়া নেই । বিবাহিত জীবনে সে স্ত্রী আর পরিবার নিয়ে সুখেই আছে । তার একমাত্র সন্তান বাবা মা আর প্রতিবেশীদের নিয়ে চলে যায় কোন রকম জীবন । টানাপোড়নের সংসার ।

এর মধ্যে পাকিস্তানের এক বড় কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ত সেল করার জন্য নতুন সেলসম্যান নিয়োগ দিচ্ছে । যারা বেবি ফুড মানে শিশুদের জন্য দুধ তৈরি করে থাকে । সেখানেই ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য আয়ান পৌছে যায় । তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । যদিও নিয়োগ কর্তা বেলাল কে সে ইম্পেস করতে সক্ষম হয় তার অভিজ্ঞতা দিয়ে ।




সেই কোম্পানিতে তার চাকরি হয়ে যায় । সবাই খুশি । পরিবার প্রতিবেশী সবাই । এবার শুরু হয় নতুন চ্যালেঞ্জ । বিভিন্ন ভাবে ডাক্তারদের কাছাকাছি যাওয়া । তাদের খুশি করা এবং তাদের বেবি ফুড সাজেস্ট করা । তাদের সেলস বাড়ানো । তারা ক্যারিশম্যাটিক আচরন সবাইকে আপন করে নেয় । বেলাল ও খুশি হয়ে আয়ান কে তাদের সেলস এর বড় বড় দায়িত্ব গুলো দিতে থাকে ।

আয়ান জানত না তার জন্য কি অপেক্ষা করছে । তার পরিচিত এবং খুব কাছের এক ফ্রেন্ড ডাঃ ফাইয়াজ, সে যখন শহর থেকে ফিরে আসে তখন আয়ানের জন্য তার ভিতর এক ধরনের ক্ষোভ বের হয় । আয়ান নিজেও বুঝতে পারে না আসলে কি ঘটছে তার সাথে । আয়ান তখন জানত না যে আসলে সে যা বিক্রি করছে সেটা আসলে শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে । তখন ডাঃ ফাইয়াজ তাকে সব কিছু খুলে বলে ।

আয়ান অনুশোচনায় ভুগতে থাকে । এরপর শুরু করে এক অভিনব লড়াই । তবে শেষ পর্যন্ত আয়ান কি পরেছিল এ লড়াইয়ে জিতত্তে ? নাকি সবার মত হার মেনে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছে ?

আলোচনা

এই মুভিটি আসলে আমি যখন দেখা শুরু করি একটু বিরক্ত ধরে গিয়েছে । খুব স্লো একটা মুভি । তবে আপনি মুভি ছেড়ে উঠতে পারবেন না । আপনাকে মুভি দেখতেই হবে । মুভিটি আসলে সামাজিক সচেতনামুলক একটা মুভি ।

অন্যদিক থেকে বলা যায় এই মুভিতে সাধারন একজন মানুষের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে । যে মানুষটি অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে এগিয়ে গিয়েছে । সব সময় এগিয়ে গিয়েছে সব বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যের দিকে । কোন বাধাকে আগ্রাহ্য না করে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে ।

একজন মানুষ চাইলেই চেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে । চাইলে সে হতে পারে নিজের জীবনে হিরো । আপনি আপনার ন্যায়ের জায়গা না ছেড়ে আপনার জায়গায় অটল থাকুন । জয় আপনার হবে । আপনি ন্যায়ের সাথে থাকুন তবেই আপনি পারবেন ।

মুভিতে দেখানো হয়েছে যারা গ্রামে থাকেন বা পড়াশুনা না জানা মায়েরা না বুঝেই শিশুদের গুড়ো দুধ খাওয়াচ্ছেন । কিন্তু গুড়ো দুধ খাওয়ানোর কিছু নিয়ম আছে যা না মেনেই তারা সেটা খাওয়াচ্ছেন । আবার বুকের দুধ শিশুদের বন্ধ করে দিয়েছেন খাওয়ানো । তারা মনে করেছেন এটাই তাদের শিশুদের জন্য ভালো । কিন্তু মায়ের দুধের বিকল্প কিছুই নেই । বরং এতে ক্ষতি অনেক বেশি হয় । এছাড়া মায়ের দুধ শিশুর ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়ায়, যা গুড়ো দুধ কখনোই করতে পারে না ।




এছাড়া বড় বড় এসব কোম্পানির যে স্যোশাল রিসপনসেবেলিটি রয়েছে সেটা তারা ভাল ভাবে পালন করছে না । তারা তাদের দায়িত্ব কে অবহেলা করে নিজেদের লাভের কথাই বেশি ভেবেছে । টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে সব কিছু । মানি পাওয়ার দিয়ে সব কিছুকে নিজেদের করে নিয়েছে । তারপর কি হবে ?

মুভিটি একজন সেলসম্যানের জীবন থেকে নেয়া । আয়ানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি । যারা অভিনয় গুনে আমি সব সময় মুগ্ধ হই । সিরিয়াস মুভি হোক বা কমেডি সব জায়গাতেই তাকে কেমন করে জানি মানিয়ে নেয় । বিলাল এর চরিত্রে ছিলেন আদিল হুসেইন, জয়নব এর চরিত্রে গিতাঞ্জলী থাপা, আয়ানের মায়ের চরিত্রে সুপ্রিয়া পাঠক এছাড়া হলিউডের অনেক নামিদামি অভিনয় শিল্পী ।




মুভিটি তৈরিতে সময় লেগেছে প্রায় ১২ বছরের উপর । আসলে যখন মুভিটি বানানোর কথা শুরু হয় ডেনিস টানকোভিচ যার “নো ম্যান্স ল্যান্ড” মুভিটি অস্কার পায় । তিনি এই মুভিটি তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করেন । তখন যারা প্রডিউস করার কথা বলেছিলেন তারা সরে যান । পরে অনুরাগ ক্যাশপ, প্রশিটা ও খিশটাজ চৌধুরী, গুনিত সহ অনেকে মিলে এই ছবিটি প্রডিউস করার সিদ্ধান্ত নেন । প্রায় ১২ বছর পর ছবিটির কাজ শেষ হয় এবং ২০১৪ তে মুভিটি রিলিজ হয় টরেন্টোতে । ২০১৮ সালে ডিজিটাল প্রিমিয়ারে মুভিটি মুক্তি দেয়া হয় ।

যারা জীবনে মনে করেন কিছুই করতে পারছেন না তারা মুভিটি দেখতে পারেন । এছাড়া লড়াই করা ছাড়তে নেই । জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত । যতক্ষন না সব কিছু শেষ হচ্ছে শেষ পর্যন্ত নিজের লড়াই নিজেকেই চালিয়ে যেতে হবে ।

মুভিটি দেখবেন আশা করি ভাল লাগবে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩০
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী কে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৭


বাংলাদেশে কোনো অর্থমন্ত্রীর বিদায়ের পর একটা জিনিস প্রায় দেখা যায় । তাঁর একটা লিগ্যাসি তৈরি হয় । স্মরণসভার মতো পত্রিকায় “যুগান্তকারী সংস্কার”, “সাহসী সিদ্ধান্ত”, “দূরদর্শী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১৭



সিরাজ ভাই বললেন, টেংরা মাছের ডিম আপনার কাছে কেমন লাগে?
আমি বললাম, ভালোই লাগে। শুধু রুই মাছের ডিম আমার ভালো লাগে না। সিরাজ ভাই বললেন, রুই মাছের ডিম সঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×