এর মধ্যেও আমি মুগ্ধ ছিলাম অভি ভাইয়ে। পরে যেইটা ভুঙ্গভাঙ্গ মনে হইছে, এক সময় সেইটাই ছিল বড্ড ক্যারিশম্যাটিক। কাউবয় হ্যাট, সাদা টিশার্ট জিন্স, লাল বাইক- উফ হিরো! কয়জনের কলিজা আছে প্রকাশ্যে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার- সন্ত্রাস যদি শিল্প হয়, আমি তার রূপকার (বিচিত্রা)! তবে অভি ভাই নিজেরে তেমন কিছুই করতে হয় নাই কোমরে বিচিত্র সব মেশিন ঝুলানো ছাড়া। এইটাও ঠিক অন্যসব দলরে পাইপগান এলজি ছাইড়া অটোমেটিক উইপনারিজে ট্রান্সফার করতে বাধ্য করছিলেন তিনি। তার হইয়া আসলে সব কাজ করছে জুয়েল, মাসুদরা- পুরাটাই কলিজা। আরেকটা পোলা আছিল, নাম ভুইলা গেছি। লিটন আর মির্জা গালিবের কিলিং নিজের চোখে দেখা। টিএসসির মুখে ওয়ালে বইসা দেখতাছি। লাল মোরগের মতো মটরবাইকে বস, সাদা টিশার্ট জিন্স! অভি ভাইয়ের পরে পতনে ওভার কনফিডেন্স, নাকি নিরুভাইর গুটিবাজি কাজ করছে আমার জানা নাই। তবে তার ওই পরিণতি আমার ভালো লাগে নাই।
মাঝখানে দুম কইরা উইঠা গেছিলেন চুন্নু ভাই। সেই চিপা প্যান্ট আর ডিস্কো জুতা পড়া চুন্নু ভাই। মধুতে দেখছি, কিছুই মনে হয় নাই। যেই রাশু ভাইগো একটু ব্যাকিং পাইল, হঠাৎ দেখি চুন্নু নামে থরহরি কম্প ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসির বাড়ির সামনে চুন্নু ভাইর যে কিলিং সেইটা পুরাটাই সরকারী মদতে (শোনা কথা ডিজিএফআই)। সেইদিন একটা বড় ঘটনা ঘটার কথা ছিল। সম্ভবত ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল দখল করার কথা। আবার কাহিনী একটু জটিল আছিল। মানে জাসদ আর ছাত্রদল প্যাক হওয়ার কথা একইদিন। একটা গ্রুপ যোগ দেওয়ার কথা আছিল, পরে পল্টি দিয়া ওরা ঢুকে সূর্যসেনে। তার আগে একটা ডাবল মার্ডার হইছিল সম্ভবত, জবাই করিয়া হত্যা! গা গুলায়!! চুন্নু ভাই ডেড তো ছাত্রলীগেরও ডেডবডি বাইর হইল ভার্সিটি থাইকা_ সেই সময়ের জন্য।
আমাদের কাছে আলোচিত হইছিল পাগলা শহীদ মার্ডার। অভি ভাইর ভাষ্য ছিল ও নিজের গুলি নিজে খাইছে। মানে কথা বার্তা কইতে কইতে মেশিন কক করতাছিল, চেম্বারে বুলেট আছিল- শট বিটউইন দ্য টিথস। খুব একটা বিশ্বাস যোগ্য মনে হয় নাই। কারণ ঠিক আগেরদিন হালিম মার্ডারের সঙ্গে এর একটা কানেকশন খুব সম্ভব। বহিরাগত ওই পোলার একটা কাটা রাইফেল ছিনাইয়া লইতে গিয়া টানাটানিতে স্পট ডেড হালিম। সেইটা সম্ভবত অভি ভাইর পছন্দ হয় নাই। আবার একই দিন খালেদা জিয়া যাওয়ার কথা ছিল ইউনিভার্সিটি। ক্যাচাল কে লাগাইছে খুব ভিতরের কেউ ছাড়া জানা সম্ভব না। (চলবে)
পাদটীকা : অনেক আগের স্মৃতি থাইকা লেখা, মাথায় যেমন আসতাছে তেমনি লিখছি। ভুল ভ্রান্তি হইতেই পারে, মার্জনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




