somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাতালপুরীর দেওদানোরা....2

১৭ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে আমার জ্ঞান অতি কম। আসলে ইনভলভমেন্ট সেই অর্থে ছিলই না। কারণ সিএমসিতে সিট পলিটিক্সের কারণে একটু জড়াইছি বটে, তবে আমার সব মৌতাত তখন ছন্দা, হেরোইন আর গিটারে ঘুরপাক খায়। ঢাকা আসা যাওয়ার পেছনেও কারণ ওইটাই। সুবাদেই ভার্সিটি যাতায়ত। 86 থাইকা 89 পর্যন্ত যারা টিএসসিতে নিয়মিত, তাদের চোখে পড়া স্বাভাবিক-বাঁ দিকের দরজা দিয়া ঠিক ঢুকতেই একটা টেবিল ঘিরা 10-12টা পোলা বসা। সবার ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল। এর ভিতর আউটসাইডার আছিলাম আমি আর পাভেল (নাট্যকার আবুল কালাম আজাদ)। বাকিরা ডিইউ, হিসাবে জাসদ করে। মানে মুকুর আমাগো ডিউকের ফ্রেন্ড। অবশ্য ওইখানে মহল্লার বড় ভাইও ছিল যারা আমারে চিনত। মুরাদ ভাই (এখন আর নাই), ইরাজ ভাই, হাসিব ভাই, শিপন ভাই। আকরাম (সুইডেনে) ওনাগো জুনিয়র হইয়াও (আমাগো ব্যাচের, যদিও আমার লগে তেমন খাতির ছিল না কখনও) ওনাগো লগেই ঘুরঘুর করতো। যদ্দূর জানি মোতাহার ভাইয়ের কাছেই ছিল সবার নাড়া বান্ধা।

এর মধ্যেও আমি মুগ্ধ ছিলাম অভি ভাইয়ে। পরে যেইটা ভুঙ্গভাঙ্গ মনে হইছে, এক সময় সেইটাই ছিল বড্ড ক্যারিশম্যাটিক। কাউবয় হ্যাট, সাদা টিশার্ট জিন্স, লাল বাইক- উফ হিরো! কয়জনের কলিজা আছে প্রকাশ্যে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার- সন্ত্রাস যদি শিল্প হয়, আমি তার রূপকার (বিচিত্রা)! তবে অভি ভাই নিজেরে তেমন কিছুই করতে হয় নাই কোমরে বিচিত্র সব মেশিন ঝুলানো ছাড়া। এইটাও ঠিক অন্যসব দলরে পাইপগান এলজি ছাইড়া অটোমেটিক উইপনারিজে ট্রান্সফার করতে বাধ্য করছিলেন তিনি। তার হইয়া আসলে সব কাজ করছে জুয়েল, মাসুদরা- পুরাটাই কলিজা। আরেকটা পোলা আছিল, নাম ভুইলা গেছি। লিটন আর মির্জা গালিবের কিলিং নিজের চোখে দেখা। টিএসসির মুখে ওয়ালে বইসা দেখতাছি। লাল মোরগের মতো মটরবাইকে বস, সাদা টিশার্ট জিন্স! অভি ভাইয়ের পরে পতনে ওভার কনফিডেন্স, নাকি নিরুভাইর গুটিবাজি কাজ করছে আমার জানা নাই। তবে তার ওই পরিণতি আমার ভালো লাগে নাই।

মাঝখানে দুম কইরা উইঠা গেছিলেন চুন্নু ভাই। সেই চিপা প্যান্ট আর ডিস্কো জুতা পড়া চুন্নু ভাই। মধুতে দেখছি, কিছুই মনে হয় নাই। যেই রাশু ভাইগো একটু ব্যাকিং পাইল, হঠাৎ দেখি চুন্নু নামে থরহরি কম্প ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসির বাড়ির সামনে চুন্নু ভাইর যে কিলিং সেইটা পুরাটাই সরকারী মদতে (শোনা কথা ডিজিএফআই)। সেইদিন একটা বড় ঘটনা ঘটার কথা ছিল। সম্ভবত ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল দখল করার কথা। আবার কাহিনী একটু জটিল আছিল। মানে জাসদ আর ছাত্রদল প্যাক হওয়ার কথা একইদিন। একটা গ্রুপ যোগ দেওয়ার কথা আছিল, পরে পল্টি দিয়া ওরা ঢুকে সূর্যসেনে। তার আগে একটা ডাবল মার্ডার হইছিল সম্ভবত, জবাই করিয়া হত্যা! গা গুলায়!! চুন্নু ভাই ডেড তো ছাত্রলীগেরও ডেডবডি বাইর হইল ভার্সিটি থাইকা_ সেই সময়ের জন্য।

আমাদের কাছে আলোচিত হইছিল পাগলা শহীদ মার্ডার। অভি ভাইর ভাষ্য ছিল ও নিজের গুলি নিজে খাইছে। মানে কথা বার্তা কইতে কইতে মেশিন কক করতাছিল, চেম্বারে বুলেট আছিল- শট বিটউইন দ্য টিথস। খুব একটা বিশ্বাস যোগ্য মনে হয় নাই। কারণ ঠিক আগেরদিন হালিম মার্ডারের সঙ্গে এর একটা কানেকশন খুব সম্ভব। বহিরাগত ওই পোলার একটা কাটা রাইফেল ছিনাইয়া লইতে গিয়া টানাটানিতে স্পট ডেড হালিম। সেইটা সম্ভবত অভি ভাইর পছন্দ হয় নাই। আবার একই দিন খালেদা জিয়া যাওয়ার কথা ছিল ইউনিভার্সিটি। ক্যাচাল কে লাগাইছে খুব ভিতরের কেউ ছাড়া জানা সম্ভব না। (চলবে)

পাদটীকা : অনেক আগের স্মৃতি থাইকা লেখা, মাথায় যেমন আসতাছে তেমনি লিখছি। ভুল ভ্রান্তি হইতেই পারে, মার্জনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার কথা : জুলাইয়ের সনদে — “হ্যাঁ” বলো।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



২০০১ সালে প্রথম ভোট দিয়েছিলাম। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবার ভোট দিলাম। জীবনের দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া—
ছিল এক অদ্ভুত অনুভূতি, গর্ব আর দায়িত্বের মিশ্রণ।

আজকের আমার এই ভোট—
উৎসর্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×