somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলার্ধের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিল এ জয়, বাড়লো প্রত্যাশাও

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিন আর রাতেই যা ফারাক। নইলে গায়ানাই কি, আর ঢাকার রাজপথ--- কোনো তফাৎ কি ছিল! মাখায়া এনটিনির উইকেট পড়ল। সবার আগে দৌড় কে শুরু করলেন? আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে উন্মত্ত আরো শয়ে শয়ে ক্রিকেটপ্রেমী দৌড়ে বেরিয়েছেন রাজপথে। গায়ানার বিকেল, এদেশে রাতের শেষ প্রহর। বাংলাদেশ দলে পাগুলে আলিঙ্গন। সেটা হুবহু ঢাকায়ও। জাতীয় দলের চেনা মুখের বুক মেলানোর চেয়ে অনেক আবেদনময়। এখানে পরিচয়হীনতাও কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ জিতেছে। বাংলাদেশের মানুষ, প্রতিটি বাঙালী এই জয়ের সমান অংশীদার। সমান হকদার। বিজয়ের আনন্দে একাট্টা সবাই। তার প্রকাশটা এতই জরুরি যে জরুরি আইনও তাতে বাদ সাধার মতো শক্তিশালী না। গোটা ঢাকা ভোর পর্যন্ত এক মদমত্ত শহর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গন বহুদিন ধরেই জয়োৎসবের মিলনকেন্দ্র। গত রাতেও তাই। সেই উৎসব ভোরের আলোয়ও থামেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে আরো ব্যাপ্তি নিয়েছে। রং খেলা, র্যালি। এ লেখার সময়ও চলছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সুপার এইটে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটিকে হারিয়েছে।

অপ্রত্যাশিত নানা কারণেই। গ্রুপ পর্যায়ে ভারতকে হারিয়ে যে চমক, তা ভক্তদের মনে অনেকখানিই মিইয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া---নিউজিল্যান্ডের কাছে চরম নাস্তানাবুদ হওয়ার পর। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্যই প্রবল প্রতিপক্ষ। আরেকটি নিশ্চিত হারের সম্ভাবনা নিয়েই অনেকেই টেলিভিশনের নব ঘুরিয়ে বসেছিলেন। ম্যাচের আগে চলছে বোদ্ধাদের নানা বিশ্লেষণ। দক্ষিণ আফ্রিকাকে রান রেট বাড়িয়ে নিতে হলে এই ম্যাচটাই সহজ সুযোগ। বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিং দাও, যাই করে করতে দাও। তারপর টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলে জিতে নাও ম্যাচ। রান রেট দারুণ, সেমিফাইনালের দরজাতেও কড়া নড়বে আপনাতেই।

বিধিবামেই সব গড়বড় হয়ে গেল। চিত্রনাট্য ঠিকই ছিল। শুরুর অনেকখানিই তা প্রোটিয়া অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের চিউইংগাম মুখে মুচকি হাসি ঝুলিয়েছে। আত্মবিশ্বাসী হাসি। সব ঠিকঠাক চলছে। টসে জিতেছেন। ব্যাট করছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের মতোই জাভেদ ওমর বেলিম দৃষ্টি পীড়াদায়ক কিন্তু কার্যকর ব্যাটিং করছেন। তার প্রভাবেই কিনা নিস্তেজ তামিম ইকবাল। 10 ওভারে রান রেট চারের নিচে। স্মিথ হাসবেনই তো। হাসিটা ঝুলিয়ে দিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্পটলাইট মোটেও আশরাফুলের ওপর ঠিকরায়নি। সেসব তামিম ইকবাল, আফতাব, শাহরিয়ার নাফীসরা আগেই কেড়ে নিয়েছেন। ভারত বধের পর সাকিব আল হাসান ও ভাগ বসিয়েছেন। তাই গ্রুপের তিন ম্যাচেই অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করা আশরাফুল আড়ালেই থেকে যান।

আসলেই কি যান! এবারের বিশ্বকাপে অন্যএক প্রত্যয় যে আগাগোড়াই ফুটে উঠেছে তার ব্যাটে। প্রতিভাবান বলে বিশ্ব স্বীকৃত আগের থেকেই। দু'বছর আগে অস্ট্রেলিয়া--ইংল্যান্ডের অসহায় বোলাররা নাকের জল চোখের জল এক করেছেন তার মার খেয়ে। নিজের দিনে আশরাফুল কী হতে পারেন, সেটা দুনিয়া আবারও দেখল। সতর্ক শুরু। আফতাবকে নিয়ে ইনিংস মেরামত। সিঙ্গেলস নিয়ে প্রান্ত বদল। দেখে খেলা। বাজে বলের যোগ্য সংস্থান। আফতাব যাওয়ার পর খোলসে গোটাননি নিজেকে। মাশরাফি চড়াও হচ্ছেন, আশরাফুলও হয়েছেন। পঞ্চাশ পেরুনোর পর তার ব্যাটেও তাণ্ডব। ছক্কা নেই, চার আছে চৌদ্দটা। এর অনেকগুলো অফে সরে লেগসাইডে তুলে দেওয়া। ক্রিকেট অভিধানে যাকে বলে 'প্যাডল স্কুপ'। বিপুল প্রশংসিত ভাষ্যকারদের। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা ছাড়া ওই শটে শাপশাপান্ত করেনি আর কেউই।

8 উইকেটে 251। আশরাফুল তো সাজিয়ে দিলেন। সেটা রাখার দায় এবার বোলারদের। কি দারুণভাবেই না তাতে ঝাপালেন তিন বাঁহাতি স্পিনার। সৈয়দ রাসেল দু'দুটো গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু দিয়ে যখন চাপে ফেলেছেন, তা আরো অাঁটসাঁট করেছেন মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বে আবদুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডারদের তুরুন্তাজ ফিল্ডিং। পাওয়ার প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকা কাঁপছে। 16 থেকে 20তম ওভার। 3 উইকেট, মাত্র 5 রান। এই ফাঁস থেকে আর বেরুনো হয়নি তাদের। তড়তড়িয়ে চড়েছে আস্কিং রান রেট। এবং এভাবেই এক সময় খেলাও শেষ।

ছোট দল জিতেছে বলেই এই জয় আপসেট। অঘটন বলে মানছেন বোদ্ধারা। হা--হুতাশ চলছে এ আসরের অন্যতম ফেবারিটদের পরাজয় নিয়ে। চলছে ময়নাতদন্ত। কিন্তু একচোখা এসব বিশ্লেষণ। চিত্রনাট্যটা আসলে লিখেছে বাংলাদেশ। আগাগোড়া সফল মঞ্চায়নও তাদের। প্রত্যাশার ভারে না ভাঙলে, আগামীতে এই দৃশ্য নিয়মিতই হবে। একই সঙ্গে অনেকগুলো পাশর্্বপ্রতিক্রিয়ারও জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের এই জয়। দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের শীর্ষস্থান হারিয়েছে। রানরেটের অবস্থা আগের মতোই তথৈবচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড আশায় বুক বাঁধছে সেমিফাইনালটা একেবারে নাগালের বাইরে চলে যায়নি বলে।

বুক কি বাংলাদেশও বাঁধতে পারে না! এখনও কোনো ম্যাচ না জেতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দুর্বল আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটা অঘটন। কেনিয়া গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারলে বাংলাদেশের জন্যই বা তা অসাধ্য হবে কেনো?

পাদটীকা : লেখাটি wewWwbDR থেকে কাটপেস্ট করা হয়েছে

ছবির মডেল : চৈতী
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:৫৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×