somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোজকার সেই একঘেয়ে মিথ্যে কথা নয়

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

============= শূণ্য ===============
আমার দোলনায় আমি ছাড়া আর কেঊ দুলবে না কোনদিন। মাটির গয়না এমনেই পরে থাকল প্লাস্টিকের প্যাকেটে, আলো দেখল বটে- ঘোলাটে; যেখানে কোনকিছুই ঠিক ভাবে ঠাহর করা যায় না, আবছা। আবছা আলো ছায়া ভালোবাসা ধূলার স্তরের অন্ধকারে হারিয়ে গেল ফিকে হতে হতে অবশেষে। দোলনাটা দুলতেই থাকল সাথে নিয়ে অনেক কাল আগের ভালোবাসার কথা যখন ভালোবাসায় অনুভূতি ছিল, প্রেম ছিল।

তুই নেই বলে পাতাগুলো সব ফাকা
তুই নেই বলে মন শুধু করে খা খা।
তুই নেই বলে একলা শালিক ডাকে
তুই নেই বলে মধু নেই মৌচাকে,
তুই নেই তাই মেঘ কাঁদে হয় জল

============== এক ===============
শখ করে কেনা সস্তার টিকলি টা তার কপালে আর পরানো গেল না, ঐ যে ঐ কোণার শেলফে পেপার মোড়া অবস্থাতেই পরে আছে। চেয়েছিলাম মোড়ক টা খুলে সে অবাক হোক। আমার অবাক হবার পালা, যতবারই ঐদিকে তাকাই তার অবাক হওয়া চেহারা টা কল্পনা করি। আমি অবাক হই, কল্পনা না করে বাস্তবেই তো দেখতে পাওয়ার কথা ছিল। উফফ ভালোবাসার কঙ্কাল।

গাছের পাতা আলো ছায়ার তালে তালে
গল্প শোনায় ঘাস ফুলেদের কানে কানে।
তারার মেলা রাত্রি জেগে গল্প করে
খোপায় মেঠো স্বপ্ন বুনে একলা চলে।
খয়েরী সবুজ নীলচে হলুদ কমলা কালো
কেমন করে বলছে কথা বাসছে ভালো?

============= দুই ===============
একদিন মেলায় গিয়ে এক জোড়া কানের দুলের একটা কিনে এনেছিলাম। দোকানি অবাক হয়েছিল বলেছিলাম যাকে পড়াবো তাকে নিয়ে এসে বাকি টা নিয়ে যাবো। ভেবেছিলাম একটা কানের দুলের লোভ দেখিয়ে নানা জায়গায় খোঁজার ছুতায় জায়গা গুলো ঘুরে দেখবো। আমি আজ ঘরকুণো।

আকাশ তোমার সময় হলে, একটু থেমো
আমার কিছু প্রশ্নের, জবাব দিয়ে যেয়ো
আর কতকাল থাকবো বসে, তার আশায়
এভাবেই যে আমার, দিন কেটে যায়
কেটে যায়
দিন কেটে যায়

=============== তিন ==============
নীল চুড়ি কিনেছিলাম এক বেদেনীর কাছ থেকে, সুতো দিয়ে বাধা ছিল দুই মুঠো চুড়ি। সেগুলো এখনো সুতো দিয়েই বাধা আছে তবে নানা দৈর্ঘ্যে। আমি এগুলো দিয়ে উইন্ড চাইম বানিয়েছি। আমার ঘরে কোন বারান্দা নেই, বিশাল বড় একটা জানালা আছে। আলো আর বাতাসের বিশাল সখ্য। রাতের আঁধারে চুড়ি গুলো যখন একটার সাথে আরেকটা বাড়ি খেয়ে রিণি রিণি শব্দ করে, তখন আমি ভুলে যাই দরজার চৌকাঠ ধরে সে দাঁড়িয়ে নেই, দাঁড়িয়ে থাকার কথা না।

চাঁদনি গেছে দূরের আঙিনায়
কার ঘরে চাঁদ জেগে রয়,
নাম শুধু নাম জ্বলে অবিরাম
এইখানে আমিও ছিলাম,
বলেছ বারণ বলেছ বিদায়
স্বপ্ন বাড়ায় তবু হাত ডাকে আয়!

============= চার ===============
আইসক্রিম আর চকোলেট তার খুব পছন্দ । এখনো দুই টা আইসক্রিম অর্ডার করে ফেলি, পাশে তাকানোর পর মনে পরে আরেকটা খাওয়ার জন্য কেউ এখানে নেই, ছিলো না কখনো। এক্সপায়ারড চকলেট এর বক্সে আমার বুক শেলফ ভরা। নিয়ম করে ফেলে দেই, আর চকোলেট খাওয়া হয় না আমার।

বেদনা সিক্ত অশান্ত এই মন
খুঁজে ফেরে মেটায় প্রয়োজন
যতদূর জানে ব্যাকুল হৃদয়
নীল বিষের পেয়ালা মনের বাঁধন।

============= পাঁচ ================
তাকে শুনাবো বলে কয়েকটা কবিতা মুখস্থ করেছিলাম, লিখতে পারি না তাতে কি হয়েছে ? বলতে তো পারি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হইল সে কবিতা পছন্দ করে আর আমি তারে কিছু একটা শুনাতে চেয়েছিলাম। এখনো কবিতা গুলো মাথায় আছে তবে ঊচ্চারণ করা আর হয়ে উঠে নাই।

পলাতক আমি কোথা চলে যাই, আঁধারের এগান শুনে
জোনাকীর আলো নিভে আর জ্বলে শালমহুয়ার বনে।
কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে

============== ছয় ===============
তার বৃষ্টি খুব ভালো লাগে বলেই জানি। যদিও সে জানত না কিভাবে ভিজতে হয়, আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম আমি তাকে শিখিয়ে দিবো এবং এরপর থেকেই আমি বৃষ্টিতে ভিজা বন্ধ করে দিলাম, যদি কোনক্রমে ভিজার আনন্দে অস্থির আমি হারিয়ে যাই তাহলে তাকে দেয়া আমার কথার কি হবে? আজো আকাশে মেঘ করে, মেঘ ঝরে বৃষ্টি হয় আর আমি ঘরের ভেতর ছাতার আড়ালে লুকাই, ভুল ক্রমেও যদি এক ফোঁটা গায়ে লাগে আমি তাকে ছাড়াই ভিজতে চলে যাব।

এখন আমি জানি বৃষ্টিতে একাই ভিজতে হয়।

কতদিন বৃষ্টি দেখি না,
তোমায় নিয়ে এলোমেলো শব্দ সাজাই না
কতদিন বৃষ্টি ঝড়ে না
কতদিন কারো চুল ভিজে না।

============ সাত ===============
কতরাত একসাথে ভোর হওয়া দেখেছি, সূর্যটাকে একসাথে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছি। যদিও সে ছুঁয়েছে চাঁদ।

চিলতে রোদে পাখনা ডোবায়
মুচকী হাসে শহরতলী
রোজ সকালে পড়ছে মনে
এই কথাটা কেমনে বলি?

============= আট ===============
কোন এক দূরদ্বীপবাসিনীর নিষ্পাপ চোখের চাহনি তে আটকা পড়ে ভ্রমময় আমি, মেঘকালো চুলের ঘনঘোর অমানিশা, চম্পক ঠোঁটের কুহক বাণী, বিভ্রম- সময়হীন বিভ্রম। আমি হারিয়ে যাই, আমি হৃত থাকতে চাই। আমি নিখোঁজ, অনুপস্থিত। আমার বাস্তবে ফেরার কোন ইচ্ছা নাই, এই বেশ ভালো আছি, ভালো থাকতে চাই।

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়, হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে
হৃদয় গভীরে অবাক দৃষ্টিতে থমকে দাড়িয়েছে মহাকাল এখানে ।
শুভ্র বালুর সৈকতে, এলোমেলো বাতাসে গিটার হাতে
নিস্তব্ধতা চৌচির, উন্মাদ ঝংকারে কাঁদি অবাক সুখের কান্না
যেন চুনি হিরা পান্না
সাগরের বুকে আলপনা এঁকে দিয়ে যায়
অবাক ভালোবাসায়, অবাক ভালোবাসায় ।
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×